আবুল হোসেন বাবলুঃ
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটি (একনেক) এর সভায় রংপুর মহানগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে ১ হাজার ৮১৩ কোটি টাকারও বেশি ব্যয়ে দুটি প্রকল্প অনুমোদন হওয়ায় আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ করা হয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল ৩টায় নগরীর বেতপট্টিস্থ একটি সামাজিক সংগঠন ‘স্বপ্নের রংপুর আর-৩৩’-এর উদ্যোগে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় সংগঠনের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল বের করেন এবং পথচারী ও সাধারণ মানুষের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন।
দীর্ঘদিনের উন্নয়ন ঘাটতি, অনুন্নত সড়ক, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, জলাবদ্ধতা, ঝুঁকিপূর্ণ সেতু-কালভার্ট ও নাগরিক অবকাঠামোর সংকটের মধ্যে রংপুর সিটি কর্পোরেশনের জন্য এবার এসেছে বড় সুখবর।
জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রংপুর নগরীর অবকাঠামো উন্নয়ন ও ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক পুনর্বাসনে মোট এক হাজার আটশত তেরো কোটি আটাশ লাখ একত্রিশ হাজার টাকার দুটি প্রকল্প অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। অনুমোদিত এ প্রকল্প দুটি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) একনেকের সভায় ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকা। আর ‘ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তা পুনর্নির্মাণ প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২১০ কোটি ৪৯ লাখ ২৮ হাজার টাকা।
নাগরিক দুর্ভোগ ও বরাদ্দ বৈষম্য নিয়ে নানা সময়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে আসা রংপুরবাসীর কাছে এ সিদ্ধান্ত নতুন এক আশার বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা বলছেন, শুধু বরাদ্দ অনুমোদনই যথেষ্ট নয়। প্রকল্পের কাজ দ্রুত শুরু করা,নির্ধারিত সময়ে শেষ এবং অর্থের সর্বোচ্চ স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ।নাগরিক সমাজ বলছেন, রংপুরের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিল্প ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে সমান্তরাল উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
রংপুর জেলা পরিষদের প্রশাসক ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক সাইফুল ইসলাম বলেন, রংপুরের উন্নয়নে সুষম বরাদ্দ ও বাস্তবায়ন প্রয়োজন। জেলার প্রত্যন্ত অঞ্চল, উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়েও মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী উন্নয়ন পৌঁছে দিতে হবে। দীর্ঘদিনের বঞ্চনা কাটাতে পরিকল্পিত ও সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার কাজ করছে।
রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ও মহানগর বিএনপির আহ্বায়ক সামসুজ্জামান সামু বলেন, একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনার মধ্য দিয়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে। রাস্তা নির্মাণ, পানি নিষ্কাশন, খাল, পরিবেশ, ভূমি ব্যবহার ও ভবিষ্যৎ নগর সম্প্রসারণ বিবেচনায় নিয়ে কাজ করতে হবে। রংপুরকে একটি পরিবেশবান্ধব, আধুনিক, পরিচ্ছন্ন ও পরিকল্পিত মহানগর হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ চলছে। এ ক্ষেত্রে নগরবাসীর সহযোগিতাও প্রয়োজন।
মহানগর বিএনপির সদস্য সচিব ও প্রশাসক, সিটি কর্পোরেশন রংপুর। অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী চৌধুরী ডন বলেন, নির্ধারিত সময়ের মধ্যে শতভাগ গুণগত মান বজায় রেখে কাজ সম্পন্ন হচ্ছে কি না, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারির করা হবে। প্রকল্পগুলোকে তিনি নগরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন। তাঁর মতে, বরাদ্দের অর্থ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে রাস্তা, ড্রেন, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো উন্নয়ন করা গেলে রংপুরের নাগরিক দুর্ভোগ অনেকটাই কমানো সম্ভব।
একনেকে অনুমোদিত ১ হাজার ৬০২ কোটি ৭৯ লাখ ৩ হাজার টাকার প্রকল্পটি রংপুর নগরীর সড়ক ও পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে। এ প্রকল্পের আওতায় নতুন করে ১৮৬ দশমিক ১৭ কিলোমিটার অ্যাসফল্ট সড়ক নির্মাণ, ১৩৯ দশমিক ১৫ কিঃ মিটার অ্যাসফল্ট সড়ক সংস্কার এবং ১১৮ দশমিক ৬৪ কিলোমিটার সড়ক মেরামত ও প্রশস্তকরণ করা হবে। পাশাপাশি নির্মাণ করা হবে ৩১ দশমিক ৬০ কিলোমিটার আরসিসি সড়ক।
























