১১:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে সরকার- ড. মামুন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩০২০ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। সেই চেতনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহীদ দিবস- ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাই কেবল একটি গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, এটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের সেবা কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণসহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার) এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন তার বক্তব্যে রংপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

জুলাই চত্বরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আরপিডিএ, সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

জুলাইয়ের চেতনায় বৈষম্য নিরসনে কাজ করছে সরকার- ড. মামুন

Update Time : ০৯:৫৯:৩১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

জুলাই আন্দোলনের মূল চেতনা ছিল তরুণদের নেতৃত্বে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার আকাঙ্ক্ষা। সেই চেতনা বাস্তবায়নে সরকার বিভিন্ন উদ্যোগ নিয়ে কাজ করে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন।

বৃহস্পতিবার বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (বেরোবি) স্বাধীনতা স্মারক চত্বরে ‘জুলাই শহীদ দিবস- ২০২৬’ উপলক্ষে আয়োজিত আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন বলেন, জুলাই কেবল একটি গণ-অভ্যুত্থানের স্মৃতি নয়, এটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার। ২০২৪ সালের আন্দোলনে বৈষম্য ও বঞ্চনা থেকে মুক্তির আকাঙ্ক্ষা নিয়েই ছাত্র-জনতা রাজপথে নেমেছিল। অনেকেই জীবন দিয়েছেন, অনেক পরিবার স্বজন হারিয়েছে। তাঁদের আত্মত্যাগ দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে আরও শক্তিশালী করার সুযোগ তৈরি করেছে।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে কাজ করছে। এ লক্ষ্যে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ডসহ নানা ধরনের সেবা কার্ড বিতরণ করা হচ্ছে। কৃষকদের ঋণ পুনঃতফসিল ও ঋণসহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

উচ্চশিক্ষার্থীদের বিদেশে পড়াশোনার জন্য শিক্ষা ঋণ চালু করা হয়েছে। পাশাপাশি মসজিদের ইমাম ও মন্দিরের পুরোহিতদের ভাতা বা সম্মানীর ব্যবস্থা এবং খাল পুনঃখনন কর্মসূচিসহ বিভিন্ন উদ্যোগ ইতোমধ্যে ইতিবাচক সাড়া ফেলেছে।

ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন আরও বলেন, শিক্ষা, কর্মসংস্থান, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুরক্ষাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বৈষম্য কমাতে সরকার নানা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করছে। উচ্চশিক্ষার ডিজিটাল রূপান্তর, শিক্ষার্থীদের জন্য শিক্ষা ঋণ, কর্মসংস্থান বিনিময় কেন্দ্র (এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ সেন্টার) এবং দেশের আট বিভাগে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক (এআই) হাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ তরুণদের দক্ষতা ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে ইউজিসির এ সদস্য বলেন, চাকরি খোঁজার পাশাপাশি কর্মসংস্থান সৃষ্টির মানসিকতাও গড়ে তুলতে হবে। গবেষণা, উদ্ভাবন ও দক্ষ মানবসম্পদ তৈরির মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো জাতীয় উন্নয়নে আরও কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। তিনি বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয় উদ্যোগ নিলে সেখানে থার্ড ল্যাঙ্গুয়েজ সেন্টার প্রতিষ্ঠায় ইউজিসি সহযোগিতা করার চেষ্টা করবে।

অধ্যাপক আব্দুল্লাহ-আল-মামুন তার বক্তব্যে রংপুরে জুলাই আন্দোলনের শহীদ আবু সাঈদসহ সব শহীদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান এবং তাঁদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। পরে তিনি শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান। বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. শওকত আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন, পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ, স্থানীয় সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুর রহমান বেলাল, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আশরাফুল ইসলাম এবং রংপুরের জেলা প্রশাসক মো. রুহুল আমিন বক্তব্য রাখেন।

জুলাই চত্বরে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ছাড়াও আরপিডিএ, সিটি করপোরেশন, বিভাগীয় প্রশাসন, জেলা প্রশাসন, সিটি প্রশাসনসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানান। আলোচনা সভায় জুলাই আন্দোলনের যোদ্ধা, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী এবং কর্মকর্তা- কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।