১০:৫৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

স্বামী পাশে চিরশান্তিতে শায়িত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩১৩৫ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে, তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪.৩০ টার দিকে সেনা ও নৌবাহিনীর সম্মিলিত তত্ত্বাবধানে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান দাফনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

এদিন দাফনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দূরত্ব বজায় রেখে শেষ বিদায়ের সাক্ষী হন।

এর আগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে আনা হয়। কফিন কাঁধে নিয়ে কবরে পৌঁছে দাফন করা হয়। তার আগে, দুপুর ৩ টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপি ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজার পূর্বে তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন এবং কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু আবার অসুস্থ হওয়ায় ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার পর। সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপরে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে।

চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কোনো মন্তব্য করেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান, সংকটময় সময়ে নেতৃত্বদান, এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

স্বামী পাশে চিরশান্তিতে শায়িত বিএনপি নেত্রী খালেদা জিয়া

Update Time : ১২:৪৩:১৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

বাংলাদেশের রাজনীতির এক অবিস্মরণীয় নক্ষত্র, বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়াকে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় সংসদ ভবন এলাকার জিয়া উদ্যানে, তার স্বামী সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হয়েছে।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) বিকেল ৪.৩০ টার দিকে সেনা ও নৌবাহিনীর সম্মিলিত তত্ত্বাবধানে দাফন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়। বড় ছেলে তারেক রহমান দাফনে সক্রিয়ভাবে অংশ নেন। তার সঙ্গে ছিলেন তারেক রহমানের স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, মেয়ে জাইমা রহমান, আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী শর্মীলা রহমান সিঁথিসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা।

এদিন দাফনকালে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও দলের স্থায়ী কমিটির অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়াও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতা ও বিশিষ্ট ব্যক্তিরা দূরত্ব বজায় রেখে শেষ বিদায়ের সাক্ষী হন।

এর আগে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে খালেদা জিয়ার মরদেহ জিয়া উদ্যানে আনা হয়। কফিন কাঁধে নিয়ে কবরে পৌঁছে দাফন করা হয়। তার আগে, দুপুর ৩ টার দিকে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা এবং মানিক মিয়া অ্যাভিনিউতে সর্বসাধারণের অংশগ্রহণে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস, সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার উজ-জামান, বিএনপি ও অন্যান্য দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ এবং লাখ লাখ সাধারণ মানুষ অংশ নেন। জানাজার পূর্বে তারেক রহমান মায়ের জন্য দোয়া করেন এবং সবার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।

খালেদা জিয়া দীর্ঘদিন ধরে গুরুতর অসুস্থতায় ভুগছিলেন। মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টায় রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে তিনি শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। দীর্ঘ সময় ধরে তিনি আর্থরাইটিস, ডায়াবেটিস, কিডনি, লিভার, ফুসফুস, হৃদ্‌যন্ত্র ও চোখের জটিলতায় ভুগছিলেন। চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি তিনি চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন এবং কিছুটা সুস্থ হয়ে দেশে ফিরেছিলেন। কিন্তু আবার অসুস্থ হওয়ায় ২৩ নভেম্বর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। দেড় মাস চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি মারা যান।
রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার যাত্রা শুরু হয়েছিল ১৯৮১ সালে স্বামী জিয়াউর রহমানের হত্যার পর। সাধারণ গৃহবধূ থেকে তিনি রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রবেশ করেন এবং ১৯৮৪ সালে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। এরপরে তিনবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তাকে ‘আপসহীন নেত্রী’ নামে সম্বোধন করা হয়েছে।

চার দশকের রাজনৈতিক জীবনে খালেদা জিয়া কখনোই ব্যক্তিগত আক্রমণ করে কোনো মন্তব্য করেননি। এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন, “আমি কখনো ব্যক্তিগত আক্রমণ করি না।”

বাংলাদেশের রাজনীতিতে খালেদা জিয়ার অবদান, সংকটময় সময়ে নেতৃত্বদান, এবং দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে নাম লেখা চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।