০৭:০৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুমিল্লার ময়নামতি গ্রামের ঐতিহাসিক ‘নটির/বাহাই নুরজাহান’ মসজিদ সংরক্ষণের দাবিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩০১৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা সদর উপজেলার ময়নামতি গ্রামের প্রায় তিনশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক ‘নটির/বাহাই নুরজাহান’ মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী জানান, গোমতী নদীর উত্তর তীরবর্তী ময়নামতি গ্রামের এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে মূল্যবান এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম মাণিক্যের শাসনামলে নূর জাহান নামে এক নারী এই মসজিদ নির্মাণ করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও এটি কুমিল্লার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আবেদনকারী আরও বলেন, বর্তমানে মসজিদটির দেয়াল, গম্বুজ ও মূল কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং কুমিল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

লিখিত আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত জরিপ পরিচালনা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, “আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে এই প্রাচীন মসজিদটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

কুমিল্লার ময়নামতি গ্রামের ঐতিহাসিক ‘নটির/বাহাই নুরজাহান’ মসজিদ সংরক্ষণের দাবিতে প্রশাসনের কাছে আবেদন করেছেন মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী

Update Time : ০৭:০০:৪৪ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার
কুমিল্লা সদর উপজেলার ময়নামতি গ্রামের প্রায় তিনশ বছর পুরোনো ঐতিহাসিক ‘নটির/বাহাই নুরজাহান’ মসজিদ সংরক্ষণ ও সংস্কারের দাবিতে জেলা প্রশাসক, অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট এবং অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব)-এর কাছে লিখিত আবেদন করা হয়েছে।

আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী জানান, গোমতী নদীর উত্তর তীরবর্তী ময়নামতি গ্রামের এই ঐতিহাসিক মসজিদটি দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা, প্রাকৃতিক ক্ষয় এবং রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে জরাজীর্ণ অবস্থায় রয়েছে। দ্রুত সংরক্ষণ উদ্যোগ না নিলে মূল্যবান এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ধ্বংসের মুখে পড়তে পারে।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, স্থানীয় জনশ্রুতি অনুযায়ী তৎকালীন ত্রিপুরা রাজ্যের মহারাজা দ্বিতীয় ধর্ম মাণিক্যের শাসনামলে নূর জাহান নামে এক নারী এই মসজিদ নির্মাণ করেন। যদিও বিষয়টি নিয়ে আরও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে, তবুও এটি কুমিল্লার ইতিহাস, লোকঐতিহ্য এবং ধর্মীয় স্থাপত্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ নিদর্শন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে।

আবেদনকারী আরও বলেন, বর্তমানে মসজিদটির দেয়াল, গম্বুজ ও মূল কাঠামো অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। যথাযথ সংরক্ষণ ও সংস্কার করা হলে এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক স্থাপনা হিসেবেই নয়, বরং কুমিল্লার অন্যতম দর্শনীয় স্থান ও ঐতিহ্যবাহী পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে।

লিখিত আবেদনে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত জরিপ পরিচালনা, প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্ব মূল্যায়ন এবং প্রয়োজনীয় সংরক্ষণ ও সংস্কার কার্যক্রম গ্রহণের জন্য নির্দেশনা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।

এ বিষয়ে আবেদনকারী মোশাররফ হোসেন খান চৌধুরী বলেন, “আমাদের ইতিহাস ও ঐতিহ্য রক্ষার স্বার্থে এই প্রাচীন মসজিদটি সংরক্ষণ করা অত্যন্ত জরুরি। প্রশাসনের আন্তরিক উদ্যোগে এই ঐতিহাসিক স্থাপনাটি ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলে আমি আশাবাদী।”