০৯:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরের তারাগঞ্জে জাবেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ গ্রেফতার-১

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫
  • ৩১২৬ বার পঠিত হয়েছে

রংপুরের তারাগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া ও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিলো রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ১নং আলমপুর ইউপিস্থ পীরপাড়া গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে কবিরাজ জাবেদ আলী। তার কবিরাজিতে কোন কাজ না হওয়া এবং আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে কবিরাজ জাবেদ আলীকে হত্যা করা হয়।

রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ১নং আলমপুর ইউপিস্থ পীরপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ জাবেদ আলীকে (২৪ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জবাই করে হত্যার পর ডালিয়া ক্যানেলে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। তারাগঞ্জ থানার মামলা নং-০৫ তারিখ-২৪/১২/২০২৫ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

উল্লেখ্য যে, জাবেদ আলী কবিরাজি পেশার পাশাপাশি রাতের বেলা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ডালিয়া ক্যানেলের উপর জাবেদ আলীর মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

রংপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এর দিক নির্দেশনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল), রংপুর এর সার্বিক সহযোগিতায়, জেলা পুলিশ, রংপুর এর বিভিন্ন ইউনিট ও তারাগঞ্জ থানা পুলিশ উক্ত ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। দ্রুত সময়ে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে মাঠে নামে পুলিশ।

শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও মুল অভিযুক্তকে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানাধীন তার ভাড়া বাসা হতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় হত্যাকান্ডের ঘটনায় অত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে একটি ধারালো দা, একটি মোবাইল ও একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার অন্তর্ভুক্ত লক্ষনপুর ডাঙ্গাপাড়া (চরকডাঙ্গা) গ্রামের মৃত নেজাম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হামিদ (৬৯)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধৃত আব্দুল হামিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

জিজ্ঞাসা বাদে জানা যায়, তদন্তে প্রাপ্ত আসামী আব্দুল হামিদের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে কবিরাজ জাবেদ আলীকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে কোনো সুফল পায়নি। তার ওপর আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জাবেদ আলীকে হত্যা করা হয়।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

রংপুরের তারাগঞ্জে জাবেদ হত্যার রহস্য উদঘাটনসহ গ্রেফতার-১

Update Time : ১০:৪১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৬ ডিসেম্বর ২০২৫

রংপুরের তারাগঞ্জে স্ত্রীর পরকীয়া ও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের জন্য ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা গ্রহণ করেছিলো রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ১নং আলমপুর ইউপিস্থ পীরপাড়া গ্রামের মৃত কাশেম আলীর ছেলে কবিরাজ জাবেদ আলী। তার কবিরাজিতে কোন কাজ না হওয়া এবং আরও ৩০ হাজার টাকা দাবি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে কবিরাজ জাবেদ আলীকে হত্যা করা হয়।

রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, রংপুর জেলার তারাগঞ্জ উপজেলার ১নং আলমপুর ইউপিস্থ পীরপাড়া গ্রামের কথিত কবিরাজ জাবেদ আলীকে (২৪ ডিসেম্বর) মঙ্গলবার দিবাগত রাতে জবাই করে হত্যার পর ডালিয়া ক্যানেলে ফেলে রেখে যায় অজ্ঞাত দুর্বৃত্তরা। তারাগঞ্জ থানার মামলা নং-০৫ তারিখ-২৪/১২/২০২৫ ধারা-৩০২/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

উল্লেখ্য যে, জাবেদ আলী কবিরাজি পেশার পাশাপাশি রাতের বেলা মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করতো। বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) সকাল সাড়ে দশটার দিকে ডালিয়া ক্যানেলের উপর জাবেদ আলীর মরদেহ দেখতে পায় স্থানীয়রা। খবর পেয়ে তারাগঞ্জ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার করে মর্গে পাঠায়।

রংপুর জেলার সম্মানিত পুলিশ সুপার মারুফাত হুসাইন এর দিক নির্দেশনায় ও সরাসরি তত্ত্বাবধানে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অপস্) ও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (বি-সার্কেল), রংপুর এর সার্বিক সহযোগিতায়, জেলা পুলিশ, রংপুর এর বিভিন্ন ইউনিট ও তারাগঞ্জ থানা পুলিশ উক্ত ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটনের জন্য মাঠে নামে পুলিশ। দ্রুত সময়ে ক্লুলেস হত্যা মামলার রহস্য উদঘাটন করতে গিয়ে মাঠে নামে পুলিশ।

শুক্রবার ২৬ ডিসেম্বর চাঞ্চল্যকর ক্লুলেস হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন ও মুল অভিযুক্তকে নীলফামারীর সৈয়দপুর থানাধীন তার ভাড়া বাসা হতে অভিযান চালিয়ে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় তারাগঞ্জ থানা পুলিশ। এ সময় হত্যাকান্ডের ঘটনায় অত্র মামলার গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে একটি ধারালো দা, একটি মোবাইল ও একটি চাদর উদ্ধার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃত অভিযুক্ত নীলফামারী জেলার সৈয়দপুর থানার অন্তর্ভুক্ত লক্ষনপুর ডাঙ্গাপাড়া (চরকডাঙ্গা) গ্রামের মৃত নেজাম উদ্দিনের ছেলে আব্দুল হামিদ (৬৯)। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে গ্রেফতারকৃত অভিযুক্তকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। ধৃত আব্দুল হামিদ স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দী দিয়েছে।

জিজ্ঞাসা বাদে জানা যায়, তদন্তে প্রাপ্ত আসামী আব্দুল হামিদের স্ত্রীর পরকীয়া সম্পর্ক ও বেপরোয়াভাবে চলাফেরা নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে বিভিন্ন তারিখ ও সময়ে কবিরাজ জাবেদ আলীকে ১ লক্ষ ৬০ হাজার টাকা দিয়ে কোনো সুফল পায়নি। তার ওপর আবারও ৩০ হাজার টাকা দাবি করায় ক্ষিপ্ত হয়ে জাবেদ আলীকে হত্যা করা হয়।