০৭:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর ২০২৬, ৫ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৩ পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়া অসহায় কল্পনার পাশে উপজেলা প্রশাসন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:২০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০০২৯ বার পঠিত হয়েছে

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে চিকিৎসা ও সন্তানদের লালন-পালনের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কল্পনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।

‘ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে দুশ্চিন্তায় কল্পনা’ শিরোনামে গত রোববার কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ইউএনও অমৃত দেবনাথের নজরে এলে সোমবার দুপুরে কল্পনা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজ দপ্তরে ডেকে নেন তিনি। পরে কল্পনার হাতে ১০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা তুলে দেন।

কল্পনা বেগম (২৫) নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার জায়দুল হকের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে দিনমজুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁর স্বামী বাক্‌প্রতিবন্ধী এবং একটি হোটেলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। সন্তানদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের সময় হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।

তিন সন্তানের বয়স এক মাস পেরিয়েছে। তারা সুস্থ থাকলেও সন্তান জন্মদানের পর কল্পনার অপারেশনের স্থানে ইনফেকশন দেখা দেওয়ায় তিনি প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ। একদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে তিন শিশুর খাবার ও অন্যান্য খরচ—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে দিনমজুর পরিবারটির।

কল্পনা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে আমার নিজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ লাগে। তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট দুধ কিনতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। ইউএনও স্যার আজ আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এতে আমি খুব খুশি। আমার সন্তান তিনটিকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে এর আগে তিন হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সোমবার আরও ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হারানোর বেদনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা-আইনজীবী হাবিবুল হক

৩ পুত্রসন্তান জন্ম দেওয়া অসহায় কল্পনার পাশে উপজেলা প্রশাসন

Update Time : ০৮:২০:১৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে চিকিৎসা ও সন্তানদের লালন-পালনের খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় থাকা কল্পনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়েছে উপজেলা প্রশাসন। তাকে ১০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ।

‘ভূরুঙ্গামারীতে একসঙ্গে তিন পুত্রসন্তান জন্ম দিয়ে দুশ্চিন্তায় কল্পনা’ শিরোনামে গত রোববার কয়েকটি গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হয়। বিষয়টি ইউএনও অমৃত দেবনাথের নজরে এলে সোমবার দুপুরে কল্পনা বেগম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের নিজ দপ্তরে ডেকে নেন তিনি। পরে কল্পনার হাতে ১০ হাজার টাকা নগদ সহায়তা তুলে দেন।

কল্পনা বেগম (২৫) নাগেশ্বরী উপজেলার রায়গঞ্জ এলাকার জায়দুল হকের স্ত্রী। বর্তমানে তিনি তিন সন্তানকে নিয়ে ভূরুঙ্গামারী সদর ইউনিয়নের দেওয়ানের খামার গ্রামে দিনমজুর বাবার বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাঁর স্বামী বাক্‌প্রতিবন্ধী এবং একটি হোটেলে দিনমজুর হিসেবে কাজ করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ২৩ আগস্ট রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের মাধ্যমে তিন পুত্রসন্তানের জন্ম দেন কল্পনা। সন্তানদের নাম রাখা হয়েছে হাসান, হোসাইন ও বেল্লাল। জন্মের সময় হাসানের ওজন ছিল ২ কেজি এবং হোসাইন ও বেল্লালের ওজন ছিল ১ কেজি ৯০০ গ্রাম করে।

তিন সন্তানের বয়স এক মাস পেরিয়েছে। তারা সুস্থ থাকলেও সন্তান জন্মদানের পর কল্পনার অপারেশনের স্থানে ইনফেকশন দেখা দেওয়ায় তিনি প্রায় এক মাস ধরে অসুস্থ। একদিকে অসুস্থ মায়ের চিকিৎসা, অন্যদিকে তিন শিশুর খাবার ও অন্যান্য খরচ—সব মিলিয়ে চরম আর্থিক সংকটে দিন কাটছে দিনমজুর পরিবারটির।

কল্পনা বেগম বলেন, ‘বর্তমানে আমার নিজের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৫০০ টাকার ওষুধ লাগে। তিন নবজাতকের জন্য প্রতিদিন দুই প্যাকেট দুধ কিনতে প্রায় ৬০০ টাকা খরচ হয়। ইউএনও স্যার আজ আমাকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছেন। এতে আমি খুব খুশি। আমার সন্তান তিনটিকে বাঁচাতে সবার সহযোগিতা চাই।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অমৃত দেবনাথ জানান, পরিবারটির খোঁজখবর নিয়ে এর আগে তিন হাজার টাকা নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছিল। সোমবার আরও ১০ হাজার টাকা সহায়তা দেওয়া হয়েছে।