০৮:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি হেলাল মাহমুদ ভাইয়ের নির্বাচনকালীন বদলী—আমার হৃদয়ের কিছু কথা

মাওলানা মুফতী এস এম মনিরুজ্জামানঃ

প্রথমেই বলে রাখি—ওসি হেলাল মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার রক্তের বা আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও তিনি আমার কাছে আপনজনের চেয়েও আপন হয়ে উঠেছিলেন। যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন, থানায় আমি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে যাই না। যাই তখনই, যখন কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয়। আর তখনও আমার প্রথম কথা থাকে—“আইনিভাবে ন্যায়সঙ্গত যেটা হয়, সেটাই করবেন।”
আলহামদুলিল্লাহ, ওসি হেলাল মাহমুদ ভাই কখনোই আমাকে নিরাশ করেননি। বরং আমি যখন মাঝে মাঝে বলতাম—“ভাই, থানায় আসতে আমার ভালো লাগে না”—তখন তিনি হাসিমুখে বলতেন,
“ভাই, আপনারা না এলে গরীব-অসহায় মানুষ দালালদের কাছে গিয়ে টাকা খরচ করবে। আপনারা এলেই ওদের উপকার হয়।”
এই কথাগুলো এখনো কানে বাজে।

সত্যি বলতে, ওনার মতো মিশুক, সহজ-সরল, মানবিক একজন অফিসার আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। এজন্যই কখনো কোনো কাজ না থাকলেও ওনার ফাঁকা সময়ে থানায় যেতাম। ওনার সাথে কথা বললে মনে হতো কোনো কর্মকর্তার সাথে নয়, বরং আমার পরিবারের একজন অভিভাবকের সাথে কথা বলছি।
আরও একটি জিনিস আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত—আমি অনেক সময় এসআইদের সাথে কথা বলছি, ওনার প্রয়োজন নেই। তবুও ওনার চোখে পড়লে শত ব্যস্ততার মধ্যেও ডাক দিতেন—
“মনির ভাই, একটু আসেন…”
তারপর কুশল জিজ্ঞেস করতেন, কথাও বলতেন।
এটাই মানুষের কাছে মানুষের মূল্য।

আজ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) যখন শুনলাম নির্বাচনকালীন বদলিতে ভাইকে রাজশাহী রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে, তখন বুকের মাঝে যেন একটা ধাক্কা লাগলো—ঠিক এমনই, যেন নিজের কেউ হঠাৎ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
সন্ধ্যায় ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। নানান বিষয়ে কথা হলো। কিন্তু বিদায়ের মুহূর্তে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। চোখের পানি থামাতে পারলাম না।
আর ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম—তার চোখেও পানি।
হ্যাঁ, আমি জীবনে প্রথম দেখলাম কোনো ওসির চোখে এমন অশ্রু—এটা ছিলো ভালোবাসার পানি, ছিলো মানুষের প্রতি মমতার পানি
এই পানিতে কোনো রঙ ছিল না, ছিলো শুধু সম্পর্কের উষ্ণতা।

কিন্তু দুঃখের বিষয়—
কোনো বাটপার, কোনো দালালের চোখে তিনি কখনোই ভালো হতে পারেন না।
কারণ ভাই ছিলেন আইন ও ন্যায়ের পথে—তাদের স্বার্থে নয়।

শেষকথা—আমি হৃদয়ের গভীরতম স্থান থেকে তার জন্য দোয়া করি—
আল্লাহ তাকে যেখানেই রাখুন, রহমতে ঢেকে রাখুন।
তার পরিবার, তার ভবিষ্যৎ—সবকিছু আল্লাহর হেফাজতে রাখুন।

ভালো থাকবেন ভাই।
হয়তো সামনে আর দেখা হবে না,
কিন্তু—
হৃদয়ের গভীরে আপনি থাকবেন সবসময়, ইনশাআল্লাহ।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

ভূরুঙ্গামারী থানার ওসি হেলাল মাহমুদ ভাইয়ের নির্বাচনকালীন বদলী—আমার হৃদয়ের কিছু কথা

Update Time : ০৮:০২:৫৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২৫

মাওলানা মুফতী এস এম মনিরুজ্জামানঃ

প্রথমেই বলে রাখি—ওসি হেলাল মাহমুদ ভাইয়ের সঙ্গে আমার রক্তের বা আত্মীয়তার কোনো সম্পর্ক নেই। তবুও তিনি আমার কাছে আপনজনের চেয়েও আপন হয়ে উঠেছিলেন। যারা আমাকে চেনেন তারা জানেন, থানায় আমি কখনো ব্যক্তিগত স্বার্থে যাই না। যাই তখনই, যখন কোনো অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রয়োজন হয়। আর তখনও আমার প্রথম কথা থাকে—“আইনিভাবে ন্যায়সঙ্গত যেটা হয়, সেটাই করবেন।”
আলহামদুলিল্লাহ, ওসি হেলাল মাহমুদ ভাই কখনোই আমাকে নিরাশ করেননি। বরং আমি যখন মাঝে মাঝে বলতাম—“ভাই, থানায় আসতে আমার ভালো লাগে না”—তখন তিনি হাসিমুখে বলতেন,
“ভাই, আপনারা না এলে গরীব-অসহায় মানুষ দালালদের কাছে গিয়ে টাকা খরচ করবে। আপনারা এলেই ওদের উপকার হয়।”
এই কথাগুলো এখনো কানে বাজে।

সত্যি বলতে, ওনার মতো মিশুক, সহজ-সরল, মানবিক একজন অফিসার আমি জীবনে খুব কম দেখেছি। এজন্যই কখনো কোনো কাজ না থাকলেও ওনার ফাঁকা সময়ে থানায় যেতাম। ওনার সাথে কথা বললে মনে হতো কোনো কর্মকর্তার সাথে নয়, বরং আমার পরিবারের একজন অভিভাবকের সাথে কথা বলছি।
আরও একটি জিনিস আমাকে গভীরভাবে ছুঁয়ে যেত—আমি অনেক সময় এসআইদের সাথে কথা বলছি, ওনার প্রয়োজন নেই। তবুও ওনার চোখে পড়লে শত ব্যস্ততার মধ্যেও ডাক দিতেন—
“মনির ভাই, একটু আসেন…”
তারপর কুশল জিজ্ঞেস করতেন, কথাও বলতেন।
এটাই মানুষের কাছে মানুষের মূল্য।

আজ (২৭ নভেম্বর ২০২৫) যখন শুনলাম নির্বাচনকালীন বদলিতে ভাইকে রাজশাহী রেঞ্জে পাঠানো হয়েছে, তখন বুকের মাঝে যেন একটা ধাক্কা লাগলো—ঠিক এমনই, যেন নিজের কেউ হঠাৎ ছেড়ে চলে যাচ্ছে।
সন্ধ্যায় ভাইয়ের সাথে দেখা হলো। নানান বিষয়ে কথা হলো। কিন্তু বিদায়ের মুহূর্তে নিজেকে আর ধরে রাখতে পারলাম না। চোখের পানি থামাতে পারলাম না।
আর ভাইয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলাম—তার চোখেও পানি।
হ্যাঁ, আমি জীবনে প্রথম দেখলাম কোনো ওসির চোখে এমন অশ্রু—এটা ছিলো ভালোবাসার পানি, ছিলো মানুষের প্রতি মমতার পানি
এই পানিতে কোনো রঙ ছিল না, ছিলো শুধু সম্পর্কের উষ্ণতা।

কিন্তু দুঃখের বিষয়—
কোনো বাটপার, কোনো দালালের চোখে তিনি কখনোই ভালো হতে পারেন না।
কারণ ভাই ছিলেন আইন ও ন্যায়ের পথে—তাদের স্বার্থে নয়।

শেষকথা—আমি হৃদয়ের গভীরতম স্থান থেকে তার জন্য দোয়া করি—
আল্লাহ তাকে যেখানেই রাখুন, রহমতে ঢেকে রাখুন।
তার পরিবার, তার ভবিষ্যৎ—সবকিছু আল্লাহর হেফাজতে রাখুন।

ভালো থাকবেন ভাই।
হয়তো সামনে আর দেখা হবে না,
কিন্তু—
হৃদয়ের গভীরে আপনি থাকবেন সবসময়, ইনশাআল্লাহ।