০৭:০৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে এক বাড়িতে রাতের রানীর আগমন দৃষ্টিনন্দন রানীদের দেখতে মানুষের ভিড়

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬
  • ৩০১৭ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুর নগরীর এক বাড়িতে এক রাতে আটটি রাতের রানী’র আগমন রানীদের দেখতে প্রতিবেশী মানুষের ঢল বুধবার (২২ জুলাই) রাতে রংপুর নগরীর মুলাটল এলাকার বাসিন্দা রংপুর ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি ও কর আইনজীবী আমিনুল ইসলামের বাড়িতে এক রাতেই ফুটল আটটি রাতের রানী, বৈজ্ঞানিক নাম (Night queen) নাইট কুইন। দৃষ্টিনন্দন এ ফুলগুলো দেখতে ওই বাড়িতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। 

আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নিজ হাতে লাগানো একটি গাছে মোট আটটি ফুল ফুটেছে। আরো দুটি কলি অফুটন্ত অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশী মানুষজন দৃষ্টিনন্দন এ ফুলগুলো দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমান।

এক অনন্য সুবাসিত ফুলের নাম নাইট কুইন বা রাতের রানী এই ফুল ফোটে শুধু রাতের বেলায়। নাইট কুইন ক্যাকটাস পরিবারের একটি আকর্ষণীয় ও রহস্যময় ফুল গাছ। রানীর মতো সৌন্দর্য নিয়ে রাতের গভীরে অপূর্ব সাদা ফুল অসাধারন মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে ফোটে তার নাম নাইট কুইন। রাত বেড়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে কলি থেকে একটি একটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সে সঙ্গে ছড়াতে থাকে মন কেড়ে নেয়া সুগন্ধ। ফুল প্রেমী মানুষ নাইট কুইন ফুলের সুগন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করে।

নাইট কুইন একটি দুর্লভ ফুল। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যে রাতে ফুটে সে রাতেই ঝরে পড়ে। ফুলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি গন্ধেও অতুলনীয়। সাদা রংয়ের ফুলের ভেতর ঘিয়ে রংয়ের আবরণ ও সুমিষ্ট গন্ধ নাইট কুইনকে দিয়েছে রাজকীয় চেহারা। এজন্য নাইট কুইন ফুলকে রাতের রাণী বলা হয়।

বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির আদি নিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং মেক্সিকো হলেও এখন বাংলাদেশে অনেক পুষ্পপ্রেমি মানুষের বাড়িতে এ ফুল শোভা পায়। এই ফুলের বৈশিষ্ট অন্যান্য যেকোনো ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। বছরের মাত্র একদিনে এবং রাতের কোনো এক সময় ফোটাই এর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। নাইট কুইন নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে রাতে এবং সেই রাতেই তার জীবনাবসান হয়। এর ফলে ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। তাছাড়া চারা থেকে ফুলটি ফুটতে সময় নেয় তিন-চার বছরেরও বেশী। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষায় ফোটে। নাইট কুইন ফুলের আর একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এ ফুলের গাছ পাথরকুচি গাছের মতো পাতা থেকে অঙ্কুরিত হয়। একটি পাতা নরম মাটিতে রেখে দিলে ধীরে ধীরে সে পাতা থেকে অঙ্কুর বের হয় এবং পরে তা গাছে পরিণত হয়। একটি পাতা থেকে একাধিক গাছ জন্মাতে পারে। পাতা থেকে শুধু নাইট কুইন ফুলের গাছই জন্মায় না,সেই পাতা থেকে প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ রাতের রানী বা নাইট কুইন ফুল। প্রথমে পাতার যে কোনো দিকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়। এই গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়। ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই গুটি কলিতে রূপান্তরিত হয়। আর কলি পুষ্ট হওয়ার পর যে রাতে ফুল ফুটবে সেদিন বিকালেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় রাতের রাণী আসছে। রাতে অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে পাপড়ি মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি এক ধরনের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ সুগন্ধে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরনের অদ্ভুত মাদকতা, যা যে কোনো মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট। পূর্ব আকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে মৃত্যু ঘণ্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের। এর একটি প্রবাদ রয়েছে রাতের রানী দিনের আলো সইতে পারে না।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

রংপুরে এক বাড়িতে রাতের রানীর আগমন দৃষ্টিনন্দন রানীদের দেখতে মানুষের ভিড়

Update Time : ০৯:১২:১৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুর নগরীর এক বাড়িতে এক রাতে আটটি রাতের রানী’র আগমন রানীদের দেখতে প্রতিবেশী মানুষের ঢল বুধবার (২২ জুলাই) রাতে রংপুর নগরীর মুলাটল এলাকার বাসিন্দা রংপুর ট্যাক্সেস বার এসোসিয়েশন এর সাবেক সভাপতি ও কর আইনজীবী আমিনুল ইসলামের বাড়িতে এক রাতেই ফুটল আটটি রাতের রানী, বৈজ্ঞানিক নাম (Night queen) নাইট কুইন। দৃষ্টিনন্দন এ ফুলগুলো দেখতে ওই বাড়িতে মানুষের উপচে পড়া ভিড়। 

আইনজীবী আমিনুল ইসলামের নিজ হাতে লাগানো একটি গাছে মোট আটটি ফুল ফুটেছে। আরো দুটি কলি অফুটন্ত অবস্থায় রয়েছে। খবর পেয়ে বন্ধু-বান্ধব ও প্রতিবেশী মানুষজন দৃষ্টিনন্দন এ ফুলগুলো দেখতে তার বাড়িতে ভিড় জমান।

এক অনন্য সুবাসিত ফুলের নাম নাইট কুইন বা রাতের রানী এই ফুল ফোটে শুধু রাতের বেলায়। নাইট কুইন ক্যাকটাস পরিবারের একটি আকর্ষণীয় ও রহস্যময় ফুল গাছ। রানীর মতো সৌন্দর্য নিয়ে রাতের গভীরে অপূর্ব সাদা ফুল অসাধারন মিষ্টি সুবাস ছড়িয়ে ফোটে তার নাম নাইট কুইন। রাত বেড়ে চলার সঙ্গে সঙ্গে কলি থেকে একটি একটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সে সঙ্গে ছড়াতে থাকে মন কেড়ে নেয়া সুগন্ধ। ফুল প্রেমী মানুষ নাইট কুইন ফুলের সুগন্ধ ও সৌন্দর্য উপভোগ করার জন্য ব্যাকুল হয়ে প্রতীক্ষা করে।

নাইট কুইন একটি দুর্লভ ফুল। কিন্তু তাও বেশিক্ষণ স্থায়ী হয় না। যে রাতে ফুটে সে রাতেই ঝরে পড়ে। ফুলটি দেখতে যেমন সুন্দর তেমনি গন্ধেও অতুলনীয়। সাদা রংয়ের ফুলের ভেতর ঘিয়ে রংয়ের আবরণ ও সুমিষ্ট গন্ধ নাইট কুইনকে দিয়েছে রাজকীয় চেহারা। এজন্য নাইট কুইন ফুলকে রাতের রাণী বলা হয়।

বিরল ক্যাকটাস জাতীয় এ ফুলটির আদি নিবাস মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণাঞ্চল এবং মেক্সিকো হলেও এখন বাংলাদেশে অনেক পুষ্পপ্রেমি মানুষের বাড়িতে এ ফুল শোভা পায়। এই ফুলের বৈশিষ্ট অন্যান্য যেকোনো ফুলের তুলনায় একটু আলাদা। বছরের মাত্র একদিনে এবং রাতের কোনো এক সময় ফোটাই এর স্বভাবগত বৈশিষ্ট্য। নাইট কুইন নিজেকে আত্মপ্রকাশ করে রাতে এবং সেই রাতেই তার জীবনাবসান হয়। এর ফলে ফুলটিকে সচরাচর দেখা যায় না। তাছাড়া চারা থেকে ফুলটি ফুটতে সময় নেয় তিন-চার বছরেরও বেশী। বাংলাদেশে সাধারণত বর্ষায় ফোটে। নাইট কুইন ফুলের আর একটি অদ্ভুত বৈশিষ্ট্য হলো এ ফুলের গাছ পাথরকুচি গাছের মতো পাতা থেকে অঙ্কুরিত হয়। একটি পাতা নরম মাটিতে রেখে দিলে ধীরে ধীরে সে পাতা থেকে অঙ্কুর বের হয় এবং পরে তা গাছে পরিণত হয়। একটি পাতা থেকে একাধিক গাছ জন্মাতে পারে। পাতা থেকে শুধু নাইট কুইন ফুলের গাছই জন্মায় না,সেই পাতা থেকে প্রস্ফুটিত হয় অসাধারণ রাতের রানী বা নাইট কুইন ফুল। প্রথমে পাতার যে কোনো দিকে ছোট একটি গুটির মতো বের হয়। এই গুটি আস্তে আস্তে বড় হয়। ১৪ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে সেই গুটি কলিতে রূপান্তরিত হয়। আর কলি পুষ্ট হওয়ার পর যে রাতে ফুল ফুটবে সেদিন বিকালেই কলিটি অদ্ভুত সুন্দর সাজে সজ্জিত হয়ে ওঠে। তখন এর দিকে তাকালে খুব সহজেই বোঝা যায় রাতের রাণী আসছে। রাতে অন্ধকারে ছেয়ে গেলে আস্তে আস্তে পাপড়ি মেলতে শুরু করে নাইট কুইনের কলি। রাতের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে একটি দুটি করে পাপড়ি মেলতে থাকে। সেই সঙ্গে মিষ্টি এক ধরনের সুগন্ধ ছড়িয়ে পড়ে চারদিকে। এ সুগন্ধে তীব্রতা না থাকলেও আছে এক ধরনের অদ্ভুত মাদকতা, যা যে কোনো মানুষকে মোহিত করার জন্য যথেষ্ট। পূর্ব আকাশে আলোকছটা দেখা যাওয়ার কিছুক্ষণ আগে মৃত্যু ঘণ্টা বেজে ওঠে নাইট কুইনের। এর একটি প্রবাদ রয়েছে রাতের রানী দিনের আলো সইতে পারে না।