
আবুল হোসেন বাবলুঃ
আরপিএমপি’র মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ (আরপিএমপি) এর জুন/২০২৬ মাসের অপরাধ পর্যালোচনা সভা মঙ্গলবার ২১ জুলাই দুপুরে আরপিএমপি পুলিশ কমিশনার কার্যালয়ের কনফারেন্স রুমে অনুষ্ঠিত হয়েছে।

আরপিএমপি’র সম্মানিত পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ এর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় উপস্থিত ছিলেন, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (প্রশাসন ও অর্থ) নরেশ চাকমা, অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) তোফায়েল আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (সদর দপ্তর ও প্রশাসন) অতিরিক্ত দায়িত্বে ডিসি (সিটিএসবি) হাবিবুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (অপরাধ) মাহফুজুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) অতিরিক্ত দায়িত্বে (এস্টেট অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট) আবদুর রহমান, উপ-পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মারুফ আহমেদ, উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিবি) সনাতন চক্রবর্তী। এছাড়াও বিভিন্ন জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার, সকল থানার অফিসার ইনচার্জ এবং আরপিএমপির অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
উক্ত সভায় জুন/২০২৬ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, অপরাধের সার্বিক চিত্র, মাদকবিরোধী অভিযান, ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, ওয়ারেন্ট তামিল, তদন্ত কার্যক্রম এবং জননিরাপত্তা বিষয়ক বিভিন্ন দিক পর্যালোচনা করা হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরও জানানো হয়, রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশের জুন/২০২৬ মাসে পরিচালিত ধারাবাহিক মাদকবিরোধী ও অপরাধ দমন অভিযানে ১১০টি নন-এফআইআর মামলায় ১৮২ জন, রুজুকৃত ১৫৬টি মামলায় ১৫০ জন আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। এছাড়া ৬০টি মাদক মামলায় ৭৪ জন মাদক কারবারিকে গ্রেফতার করা হয়।
অভিযানে ১.১১৪ কেজি গাঁজা, ৯৪৭ পিস ইয়াবা, ২২ গ্রাম হেরোইন, ৩৩ পিস ট্যাপেন্ডল এবং ১৬ বোতল এসকাফ (ফেন্সিডিল) উদ্ধার করা হয়, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ৪,৩১,১৪০ (চার লক্ষ একত্রিশ হাজার একশত চল্লিশ) টাকা।
একই সঙ্গে পৃথক পৃথক অভিযানে ২টি চোরাই অটো রিকশা, ২টি মোটরসাইকেল এবং এসি’র চোরাই তার উদ্ধার করা হয়েছে। জুন/২০২৬ মাসে আরপিএমপিতে সর্বমোট ১৫৬টি মামলা রুজু হয়েছে।
সভাপতির বক্তব্যে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আবদুল মাবুদ বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা, মাদক নির্মূল, চুরি, ছিনতাই, ডাকাতি, প্রতারণা, কিশোর গ্যাং, সাইবার অপরাধসহ সকল অপরাধ দমনে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও সমন্বিত অভিযান আরও জোরদার করতে হবে। অপরাধ সংঘটনের পূর্বেই প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ, ওয়ারেন্ট তামিল বৃদ্ধি, পলাতক আসামি গ্রেফতার এবং মামলার দ্রুত ও মানসম্মত তদন্ত নিশ্চিত করার জন্য তিনি সংশ্লিষ্ট সকল ইউনিটকে নির্দেশনা প্রদান করেন।
পুলিশ কমিশনার আরও নির্দেশনা প্রদান করেন যে, মাদকের বিরুদ্ধে আরপিএমপির ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি কঠোরভাবে বাস্তবায়ন করতে হবে। মাদক কারবারি, সেবনকারী ও অপরাধচক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযান অব্যাহত রাখার পাশাপাশি জনগণের সহযোগিতায় একটি নিরাপদ ও অপরাধমুক্ত মহানগর গড়ে তুলতে হবে।
ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে পুলিশ কমিশনার বলেন, মহানগরের সড়ক গুলোতে শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা, যানজট নিরসন, অবৈধ পার্কিং ও ফুটপাত দখলমুক্ত রাখা, ফিটনেসবিহীন, কাগজপত্রবিহীন এবং বেপরোয়া যানবাহনের বিরুদ্ধে নিয়মিত বিশেষ অভিযান পরিচালনা করতে হবে। পথচারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণে ট্রাফিক আইন সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং দুর্ঘটনা হ্রাসে ট্রাফিক বিভাগের সকল সদস্যকে পেশাদারিত্ব, সততা ও মানবিকতার সঙ্গে দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন।
সভায় উপস্থিত সকল কর্মকর্তাকে জনগণকে পুলিশি সেবা প্রদানের ক্ষেত্রে আন্তরিকতা, জবাবদিহিতা, পেশাদারিত্ব এবং সুশৃঙ্খল কর্মপরিবেশ বজায় রেখে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানানো হয়।
রংপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ রংপুর মহানগরবাসীর জানমাল রক্ষা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন, মাদক নির্মূল, অপরাধ নিয়ন্ত্রণ এবং নিরাপদ নগরী গড়ে তোলার লক্ষ্যে জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমের পাশাপাশি ধারাবাহিকভাবে অভিযান পরিচালনা করবে।
























