১১:৪৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

টুঙ্গিপাড়ায় কৃষি উদ্যোক্তার উদ্যোগ অবহেলিত, পাশে নেই উপজেলা কৃষি অফিস

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৭৩ বার পঠিত হয়েছে

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার – জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা মৌজায় পৌরসভার পানির প্লান্ট সংলগ্ন টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া মহাসড়কের পাশেই প্রায় ১৩ বিঘা জমিতে কৃষি খেত পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তা কৃষক মোঃ আমিনুর শেখ। প্রায় ১৪ মাস ধরে তিনি এই খেতটি পরিচালনা করছেন, যেখানে রয়েছে উন্নত জাতের আখের চাষ, বাঙ্গি চাষ, মাছ চাষসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ। খেতটিতে প্রতিদিন ১০–১২ জন শ্রমজীবী কৃষক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তবে উদ্যোক্তার দাবি, কৃষি থেকে আয় হওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে ব্যয়ই হচ্ছে বেশি। তিনি বলেন,
“ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করেছি। ভেবেছিলাম কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে লাভবান হতে পারবো। কিন্তু আজ পর্যন্ত কৃষি অফিসের কাছ থেকে কোনো সহায়তা বা পরামর্শ পাইনি।”

আমিনুর শেখ অভিযোগ করেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কাছেই তার এই বিশাল কৃষি খেত হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো খোঁজখবর রাখেননি। তিনি হতাশ হয়ে বলেন,
“সরকারি সুবিধা কারা পায় তা আমরা জানি না। ভেবেছিলাম অন্তত পরামর্শ পাবো, কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও কোনো সহায়তা পাইনি।”

স্থানীয় কৃষক মোকসেদ বলেন, “আমি শুরু থেকেই এখানে কাজ করছি। কখনও দেখিনি কৃষি অফিস থেকে কেউ এসে খোঁজ নিয়েছে। অথচ আমরা শুনি কৃষকদের জন্য অনেক কিছু বরাদ্দ থাকে। সেগুলো কোথায় যায়?”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব হোসেন জানান, “আমি এ খেত সম্পর্কে আগে জানতাম না। তবে কৃষক আমিনুর সম্প্রতি আমার সাথে দেখা করেছেন। আগামীতে কোনো সরকারি প্রণোদনার সুযোগ এলে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।”

তবে তিনি আরও বলেন, “টুঙ্গিপাড়া এলাকায় আখ চাষ উপযোগী নয়। কারণ এখানে খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেচের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”

এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, কৃষি অফিসের চোখের সামনেই এত বড় কৃষি উদ্যোগ পরিচালিত হলেও উদ্যোক্তা কোনো সহায়তা বা পরামর্শ পেলেন না কেন? আর এত সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি আসলে কারা পাচ্ছেন—এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

টুঙ্গিপাড়ায় কৃষি উদ্যোক্তার উদ্যোগ অবহেলিত, পাশে নেই উপজেলা কৃষি অফিস

Update Time : ১২:৫১:২২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫

বিশ্বজিৎ চন্দ্র সরকার – জেলা প্রতিনিধি, গোপালগঞ্জ: গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার বালাডাঙ্গা মৌজায় পৌরসভার পানির প্লান্ট সংলগ্ন টুঙ্গিপাড়া–কোটালীপাড়া মহাসড়কের পাশেই প্রায় ১৩ বিঘা জমিতে কৃষি খেত পরিচালনা করছেন উদ্যোক্তা কৃষক মোঃ আমিনুর শেখ। প্রায় ১৪ মাস ধরে তিনি এই খেতটি পরিচালনা করছেন, যেখানে রয়েছে উন্নত জাতের আখের চাষ, বাঙ্গি চাষ, মাছ চাষসহ বিভিন্ন মৌসুমি সবজির আবাদ। খেতটিতে প্রতিদিন ১০–১২ জন শ্রমজীবী কৃষক কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

তবে উদ্যোক্তার দাবি, কৃষি থেকে আয় হওয়ার পরিবর্তে বর্তমানে ব্যয়ই হচ্ছে বেশি। তিনি বলেন,
“ঋণ নিয়ে চাষ শুরু করেছি। ভেবেছিলাম কৃষি অফিসের সহযোগিতা ও পরামর্শে লাভবান হতে পারবো। কিন্তু আজ পর্যন্ত কৃষি অফিসের কাছ থেকে কোনো সহায়তা বা পরামর্শ পাইনি।”

আমিনুর শেখ অভিযোগ করেন, উপজেলা কৃষি অফিসের কাছেই তার এই বিশাল কৃষি খেত হলেও তারা এ বিষয়ে কোনো খোঁজখবর রাখেননি। তিনি হতাশ হয়ে বলেন,
“সরকারি সুবিধা কারা পায় তা আমরা জানি না। ভেবেছিলাম অন্তত পরামর্শ পাবো, কিন্তু বারবার চেষ্টা করেও কোনো সহায়তা পাইনি।”

স্থানীয় কৃষক মোকসেদ বলেন, “আমি শুরু থেকেই এখানে কাজ করছি। কখনও দেখিনি কৃষি অফিস থেকে কেউ এসে খোঁজ নিয়েছে। অথচ আমরা শুনি কৃষকদের জন্য অনেক কিছু বরাদ্দ থাকে। সেগুলো কোথায় যায়?”

এ বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রাকিব হোসেন জানান, “আমি এ খেত সম্পর্কে আগে জানতাম না। তবে কৃষক আমিনুর সম্প্রতি আমার সাথে দেখা করেছেন। আগামীতে কোনো সরকারি প্রণোদনার সুযোগ এলে তাকে সহায়তা করার চেষ্টা করবো।”

তবে তিনি আরও বলেন, “টুঙ্গিপাড়া এলাকায় আখ চাষ উপযোগী নয়। কারণ এখানে খালের পানি লবণাক্ত হওয়ায় সেচের মাধ্যমে ফসলের ক্ষতি হতে পারে।”

এলাকার সচেতন মহলের প্রশ্ন, কৃষি অফিসের চোখের সামনেই এত বড় কৃষি উদ্যোগ পরিচালিত হলেও উদ্যোক্তা কোনো সহায়তা বা পরামর্শ পেলেন না কেন? আর এত সার, বীজ, কৃষি যন্ত্রপাতি আসলে কারা পাচ্ছেন—এ প্রশ্নই ঘুরপাক খাচ্ছে সাধারণ মানুষের মনে।