এইচ এম হাছনাইন,
বিশেষ প্রতিনিধিঃ
ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের প্রতিবাদ জানিয়ে মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ ফয়জুল করিম বলেন, বাংলাদেশে ইসলামের রাজনীতি ইসলামী ছাত্র আন্দোলনই করবে।
ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র নায়েবে আমীর মুফতী সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করীম (শায়খে চরমোনাই) বলেছেন, “বাংলাদেশে ইসলামের রাজনীতি তোমরাই করবে।” তিনি বলেন, ইসলামের আদর্শভিত্তিক রাজনীতি প্রতিষ্ঠা এবং নৈতিক নেতৃত্ব গড়ে তোলার দায়িত্ব বর্তমান ছাত্রসমাজের কাঁধে।
এ লক্ষ্য অর্জনে শিক্ষার্থীদের আদর্শ, তাকওয়া, নৈতিকতা ও যোগ্যতার মাধ্যমে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর পল্টনের ইকোনোমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ আয়োজিত ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সভায় ঢাকেশ্বরী মন্দিরে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত ট্রান্সজেন্ডার বিয়ের কঠোর প্রতিবাদ জানায় ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ। তাদের বক্তব্যে দাবি করা হয়, এ ধরনের বিতর্কিত আয়োজন বাংলাদেশের সংস্কৃতি ও প্রচলিত আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
শায়খে চরমোনাই বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলনের নেতাকর্মীদের লক্ষ্য সুস্পষ্ট রাখতে হবে এবং সাহাবায়ে কেরামের আদর্শ অনুসরণ করে সমাজের সর্বস্তরে সত্য, ন্যায় ও ইনসাফ প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আত্মনিয়োগ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, আত্মশুদ্ধি ছাড়া ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রের প্রকৃত পরিবর্তন সম্ভব নয়। শিক্ষার্থীদের রূহানিয়াত ও সংগ্রামী চেতনার সমন্বয়ে নিজেদের গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি ক্যাম্পাসে মাদক, সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি, দখলদারিত্ব ও অনৈতিক সংস্কৃতির বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়ে একটি সুস্থ ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান।
রাষ্ট্র পরিচালনার বিভিন্ন বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জনগণের প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থতা, প্রশাসনিক অদক্ষতা, দুর্নীতি, নৈতিক অবক্ষয় এবং শিক্ষা খাতের সংকট দেশের অগ্রযাত্রাকে বাধাগ্রস্ত করছে। একটি জবাবদিহিমূলক, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণমুখী রাষ্ট্রব্যবস্থা গঠনে আদর্শিক নেতৃত্বের বিকল্প নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। সভায় সভাপতিত্ব করেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ এবং সঞ্চালনা করেন, সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ।
সভাপতির বক্তব্যে মুনতাছির আহমাদ বলেন, গত ৫৪ বছরে বাংলাদেশের ছাত্ররাজনীতিতে সহিংসতা, লেজুড়বৃত্তি, সন্ত্রাস ও আদর্শহীনতার যে ধারা তৈরি হয়েছে, তা থেকে বেরিয়ে এসে ইসলাম ভিত্তিক আদর্শিক সমাজ বিনির্মাণে ক্যাম্পাসের দায়িত্বশীলদের অগ্রণী ভূমিকা পালন করতে হবে। তিনি বলেন, সাংগঠনিক কার্যক্রমের মাধ্যমে পরিশুদ্ধ, দক্ষ ও দেশপ্রেমিক জনশক্তি তৈরি করে সমাজ পরিবর্তনের বাস্তব ভিত্তি নির্মাণ করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার, নৈতিক মূল্যবোধ, শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আগামী দিনে দেশের প্রতিটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আদর্শিক নেতৃত্ব তৈরির আন্দোলন আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।
সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম, শাহ ইফতেখার তারিক, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি এস এম মাইনুদ্দিন জাহাঙ্গীর, নোয়াখালী-১ আসনে হাতপাখা প্রতীকের সাবেক সংসদ সদস্য প্রার্থী আলহাজ্ব জহিরুল ইসলাম সিআইপি এবং চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি হাসিব আর রহমান। এছাড়াও কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি, সম্পাদকমণ্ডলী এবং দেশের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠনের ক্যাম্পাস প্রতিনিধি সহ সংগঠনের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বক্তারা শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইসলামী মূল্যবোধ, দেশপ্রেম, নেতৃত্বগুণ ও সামাজিক দায়বদ্ধতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। একই সঙ্গে একটি বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক ও কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
















