
মোঃ শাহজাহান বাশার
চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলায় জনতার হাতে আটক এক কথিত মাদক কারবারির ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত ভয়েস ক্লিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধেও এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো তদন্তের ফল প্রকাশিত হয়নি।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) শাহরাস্তি উপজেলার চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়নের আয়নাতলী এলাকায় মিজানুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে, যাকে স্থানীয়রা মাদক কারবারি হিসেবে দাবি করেন, আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। সেখানে উপস্থিত লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগের তথ্য, হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট এবং কয়েকটি ভয়েস ক্লিপ দেখতে পান বলে অভিযোগ করেন।
স্থানীয়দের দাবি, মোবাইল ফোনে শাহরাস্তি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আরিফ হোসেন, এসআই মিঠুন দাস, সহকারী উপপরিদর্শক (এএসআই) মো. শহীদুল্লাহ, এএসআই এরশাদ হাজারী, পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলাম এবং উঘারিয়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের এসআই রফিকুল ইসলামের নামে সংরক্ষিত নম্বরের সঙ্গে কথোপকথন ও বার্তার তথ্য পাওয়া যায়।
অভিযোগ অনুযায়ী, কয়েকটি ভয়েস ক্লিপে অর্থ লেনদেনের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। একটি ক্লিপে মিজানুর রহমানকে বলতে শোনা যায়, “ভাই, বিকাশে খরচসহ ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি।” আরেকটি ক্লিপে “১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছি, বাকিটা পরে দেব” বলে উল্লেখ রয়েছে বলে স্থানীয়দের দাবি। এছাড়া পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামের উদ্দেশে “পাঁচ হাজার ১০০ টাকা খরচসহ দিয়েছি” বলেও একটি ভয়েস ক্লিপে শোনা যায় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একই সঙ্গে একটি চ্যাটে “আগামীকালের মধ্যে ৫০ শেষ করবি”—এমন বার্তা পাওয়া গেছে বলেও দাবি করেন উপস্থিত ব্যক্তিরা।
আটকের পর মিজানুর রহমান স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন, এলাকায় মাদক ব্যবসা পরিচালনার জন্য তিনি নিয়মিত কিছু পুলিশ সদস্যকে মাসোহারা দিতেন এবং তার ৪১ জন নিয়মিত ক্রেতা রয়েছে। পরে ভবিষ্যতে মাদক ব্যবসায় জড়াবেন না বলে প্রতিশ্রুতি ও ক্ষমা প্রার্থনা করলে স্থানীয়রা তাকে ছেড়ে দেন বলে জানা যায়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি একাধিকবার আটক হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একাধিক মামলা রয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা সালেহ আহমেদ বলেন, “আমরা সবার উপস্থিতিতে যা পেয়েছি, তা অনেকেই দেখেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
চিতোষী পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর বলেন, এর আগেও মিজানুর রহমানকে আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। সতর্ক করার পরও তিনি পুনরায় মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ বিষয়ে শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, অভিযোগের বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি বলেন, “কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
অভিযোগের সত্যতা যাচাই এবং সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।




















