০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা র‍্যাবের অভিযানে প্রেমিক গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৩০৫৮ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

পরকীয়া প্রেমের বলি হলো স্বামী, এ ঘটনায় স্ত্রী গ্রেফতার হলেও পালিয়ে যায় পরকীয়া প্রেমিক। জানা গেছে, পরকীয়ার সম্পর্ক অটুট রাখতে স্ত্রী হ্যাপি তার পরকীয়া প্রেমিক রুবেল মিলে স্বামী জাবেদ ইকবালকে হত্যা করে। অবশেষে নীলফামারী থেকে র‍্যাব-১৩’র হাতে গ্রেফতার হলো পলাতক রুবেল। ঘটনাটি ঘটছে নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে।

শুক্রবার বাদীর দায়েরকৃত এজাহার এর বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত জাবেদ ইকবাল গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানা এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। রুবেলও গার্মেন্টসে চাকরি করতো। সেই সুবাদেই হ্যাপি বেগমের সাথে রুবেল মিয়ার সব কথা গড়ে ওঠে। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জাবেদ ইকবাল জানতে পেরে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে পরকীয়ার পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করে। এতে রুবেল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হ্যাপি বেগমের সাথে পরিকল্পনা করে গত ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর জাবেদ ইকবালের ভাড়া বাসায় প্রথমে তার মাথায় পিছন থেকে আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রুবেল ও হ্যাপি মিলে হার্ট এটাকে জাবেদের মৃত্যু হয়েছে মর্মে নাটক সাজায়।

এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে রুপগঞ্জ থানায় দন্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৭৬। মামলা পরবর্তী ১নং আসামি হ্যাপি বেগম গ্রেফতার হলেও ২নং আসামি রুবেল গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চলের সৃষ্টি করলে আসামিকে গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ২৬ মার্চ ২০২৬ ভোর সোয়া ছয়টায় আসামির নিজ বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার আসামি নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন চড়াইখোলা (সরকারপাড়া) গ্রামের সায়দার রহমানের ছেলে রুবেল মিয়া (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

পরকীয়ার জেরে স্বামীকে হত্যা র‍্যাবের অভিযানে প্রেমিক গ্রেফতার

Update Time : ০২:৩৬:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

পরকীয়া প্রেমের বলি হলো স্বামী, এ ঘটনায় স্ত্রী গ্রেফতার হলেও পালিয়ে যায় পরকীয়া প্রেমিক। জানা গেছে, পরকীয়ার সম্পর্ক অটুট রাখতে স্ত্রী হ্যাপি তার পরকীয়া প্রেমিক রুবেল মিলে স্বামী জাবেদ ইকবালকে হত্যা করে। অবশেষে নীলফামারী থেকে র‍্যাব-১৩’র হাতে গ্রেফতার হলো পলাতক রুবেল। ঘটনাটি ঘটছে নারায়নগঞ্জের রুপগঞ্জে।

শুক্রবার বাদীর দায়েরকৃত এজাহার এর বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, নিহত জাবেদ ইকবাল গার্মেন্টসে চাকরি করার সুবাদে নারায়ণগঞ্জ জেলার রুপগঞ্জ থানা এলাকায় স্ত্রী-সন্তান নিয়ে ভাড়া বাসায় বসবাস করতো। রুবেলও গার্মেন্টসে চাকরি করতো। সেই সুবাদেই হ্যাপি বেগমের সাথে রুবেল মিয়ার সব কথা গড়ে ওঠে। পরকীয়া সম্পর্কের বিষয়টি জাবেদ ইকবাল জানতে পেরে স্ত্রী হ্যাপি বেগমকে পরকীয়ার পথ থেকে ফেরানোর চেষ্টা করে। এতে রুবেল আরও ক্ষিপ্ত হয়ে হ্যাপি বেগমের সাথে পরিকল্পনা করে গত ২০২৫ সালের ২১ অক্টোবর জাবেদ ইকবালের ভাড়া বাসায় প্রথমে তার মাথায় পিছন থেকে আঘাত এবং শ্বাসরোধ করে হত্যা করে। ঘটনাটি ভিন্ন খাতে প্রবাহিত করতে রুবেল ও হ্যাপি মিলে হার্ট এটাকে জাবেদের মৃত্যু হয়েছে মর্মে নাটক সাজায়।

এ ঘটনায় ২৩ অক্টোবর ভিকটিমের ভাই বাদী হয়ে রুপগঞ্জ থানায় দন্ডবিধির ৩০২/২০১/৩৪ ধারায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন, যার মামলা নং-৭৬। মামলা পরবর্তী ১নং আসামি হ্যাপি বেগম গ্রেফতার হলেও ২নং আসামি রুবেল গ্রেফতার এড়াতে আত্মগোপনে চলে যায়।

হত্যাকাণ্ডের ঘটনাটি এলাকায় বেশ চাঞ্চলের সৃষ্টি করলে আসামিকে গ্রেফতারে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি র‍্যাব গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ সিপিসি-২ নীলফামারী ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল ২৬ মার্চ ২০২৬ ভোর সোয়া ছয়টায় আসামির নিজ বাড়ীতে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত হত্যা মামলার আসামি নীলফামারী জেলার সদর থানাধীন চড়াইখোলা (সরকারপাড়া) গ্রামের সায়দার রহমানের ছেলে রুবেল মিয়া (৩৬) কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।