০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ভবঘুরে সেজে হত্যাকাণ্ড চালাত দুর্ধর্ষ এই খুনি।

ভবঘুরের ছদ্মবেশে নৃশংস ৫ খুন: সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত ‘সাইকো সম্রাট’

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৭৩ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শান্ত খান সাভার উপজেলা প্রতিনিধি: সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে থমকে গেছে, ঠিক তখনই তাৎক্ষণিক অভিযানে রহস্যের জট খুলে দিল পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক নীরব ঘাতক- মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে রবিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২ টায় কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে জোড়া লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দেখায় যাকে দেখে কেউই সন্দেহ করবে না-সেই ভবঘুরে বেশে ঘুরে বেড়ানো সম্রাটই যে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনের মূল হোতা, তা ছিল কল্পনারও বাইরে। কিন্তু স্থানীয় এক সাংবাদিকের আগের দিনের করা একটি ভিডিও ও হত্যাকাণ্ডের দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজই বদলে দেয় সবকিছু।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি ভিডিও ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, সময় ও অবস্থান মিলিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকেই। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই জায়গায় রবিবারের দুইটি হত্যাকাণ্ড, পূর্বের পৃথক তিনটিসহ মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোমবার তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র।

একটি দায়িত্বশীল পুলিশ সূত্র জানায়, “লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয় এবং দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়।”
এলাকাবাসী জানায়, সম্রাটকে সবাই ভবঘুরে হিসেবেই চিনত। কখনো রাস্তায়, কখনো কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাঘুরি করত। তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর নৃশংসতা লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে, তখন পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী মানবজমিনকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি একসময় ছিল আনন্দ ও মিলনের ঠিকানা, সেই জায়গাই এখন সাক্ষী রইল একের পর এক ৫টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ভবঘুরে সেজে হত্যাকাণ্ড চালাত দুর্ধর্ষ এই খুনি।

ভবঘুরের ছদ্মবেশে নৃশংস ৫ খুন: সিসিটিভি ফুটেজে শনাক্ত ‘সাইকো সম্রাট’

Update Time : ১১:২৫:০১ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শান্ত খান সাভার উপজেলা প্রতিনিধি: সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারে একের পর এক লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন পুরো এলাকা আতঙ্কে থমকে গেছে, ঠিক তখনই তাৎক্ষণিক অভিযানে রহস্যের জট খুলে দিল পুলিশ। ভবঘুরের ছদ্মবেশে ঘুরে বেড়ানো এক নীরব ঘাতক- মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’-কে রবিবার বিকেল সাড়ে ৩ টায় আটক করেছে সাভার মডেল থানা পুলিশ।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) দুপুর ২ টায় কমিউনিটি সেন্টারের দ্বিতীয় তলা থেকে নতুন করে জোড়া লাশ উদ্ধারের পরপরই পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে। প্রথম দেখায় যাকে দেখে কেউই সন্দেহ করবে না-সেই ভবঘুরে বেশে ঘুরে বেড়ানো সম্রাটই যে এই ভয়াবহ হত্যাকাণ্ডগুলোর পেছনের মূল হোতা, তা ছিল কল্পনারও বাইরে। কিন্তু স্থানীয় এক সাংবাদিকের আগের দিনের করা একটি ভিডিও ও হত্যাকাণ্ডের দিনের একটি সিসিটিভি ফুটেজই বদলে দেয় সবকিছু।

পুলিশ সূত্র জানায়, একটি ভিডিও ও কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশের একটি সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে সন্দেহজনকভাবে এক ব্যক্তিকে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। তার চলাফেরা, সময় ও অবস্থান মিলিয়ে তদন্তকারীদের সন্দেহ গিয়ে পড়ে ওই ভবঘুরে ব্যক্তির দিকেই। এরপরই তাৎক্ষণিকভাবে অভিযান চালিয়ে তাকে আটক করা হয়।

আটক ব্যক্তি মশিউর রহমান খান সম্রাট ওরফে ‘সাইকো সম্রাট’।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে একই জায়গায় রবিবারের দুইটি হত্যাকাণ্ড, পূর্বের পৃথক তিনটিসহ মোট পাঁচটি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে সে। বর্তমানে তাকে থানায় রেখে নিবিড়ভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। সোমবার তাকে আদালতে নেওয়া হবে বলে মানবজমিনকে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের একটি সূত্র।

একটি দায়িত্বশীল পুলিশ সূত্র জানায়, “লাশ উদ্ধারের পরপরই আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করি। ফুটেজ বিশ্লেষণ করেই সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করা হয় এবং দুই ঘণ্টার মধ্যেই তাকে আটক করা সম্ভব হয়।”
এলাকাবাসী জানায়, সম্রাটকে সবাই ভবঘুরে হিসেবেই চিনত। কখনো রাস্তায়, কখনো কমিউনিটি সেন্টারের আশপাশে ঘোরাঘুরি করত। তার মধ্যে যে এমন ভয়ংকর নৃশংসতা লুকিয়ে আছে, তা কেউ কল্পনাও করেনি।

একজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, “প্রতিদিন যাকে দেখি রাস্তায় হাটাহাটি করতে, চুপচাপ বসে থাকতে, কখনো বিড়বিড় করে কথা বলতে, সেই লোক যে একের পর এক মানুষ হত্যা করেছে-এটা ভাবতেই গা শিউরে উঠছে।”

পরপর লাশ উদ্ধারের ঘটনায় যখন সাভারজুড়ে আতঙ্ক আর উৎকণ্ঠা চরমে, তখন পুলিশের দ্রুত ও সাহসী অভিযানে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এলাকাবাসী। তারা দাবি জানিয়েছেন-এই নৃশংস খুনির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।

এ ব্যাপারে সাভার মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আরমান আলী মানবজমিনকে বলেন, “ঘটনাটি অত্যন্ত স্পর্শকাতর ও নৃশংস। লাশ উদ্ধারের সঙ্গে সঙ্গেই আমরা সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করি। ফুটেজ ও পারিপার্শ্বিক তথ্যের ভিত্তিতে সন্দেহভাজনকে শনাক্ত করে দ্রুত আটক করা সম্ভব হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে সে একাধিক হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে। আমরা বিষয়টি গভীরভাবে তদন্ত করছি এবং আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে সর্বোচ্চ শাস্তির আওতায় আনা হবে।”

সাভার পৌর কমিউনিটি সেন্টারটি একসময় ছিল আনন্দ ও মিলনের ঠিকানা, সেই জায়গাই এখন সাক্ষী রইল একের পর এক ৫টি নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিভীষিকা।