০৭:৫২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বসন্তের শুরুতে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি বাগান ও বাড়ির আঙিনায় আমের মুকুলের ম ম গন্ধ; আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

চুয়াডাঙ্গায় আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ

ছবিঃ দৈনিক সরেজমিন

উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই চুুয়াডাঙ্গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার ০৪ টি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগান গুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

০৪ উপজেলাতেই মুকুলের সমারোহ জেলার চুুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা, আলমডাঙ্গা উপজেলা, জীবনগর উপজেলা,—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।

বিশেষ করে দামুড়হুদা ও জীবনগর বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং সদর ও আলমডাঙ্গা সদরের গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ এখন প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।

অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব।

চুুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছরচ বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে চুুয়াডাঙ্গায় এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

বসন্তের শুরুতে চুয়াডাঙ্গার প্রতিটি বাগান ও বাড়ির আঙিনায় আমের মুকুলের ম ম গন্ধ; আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবার বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছেন স্থানীয় আম চাষিরা।

চুয়াডাঙ্গায় আম্র মুকুলের সুবাসে মাতোয়ারা জনপদ

Update Time : ০১:০৬:৪৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

উত্তরের হাওয়ায় বসন্তের ছোঁয়া লাগতেই চুুয়াডাঙ্গা জুড়ে ছড়িয়ে পড়েছে আম্র মুকুলের মিষ্টি সুবাস। জেলার ০৪ টি উপজেলাতেই এখন গাছে গাছে সবুজাভ-হলুদ মুকুলের সমারোহ। সকাল-বিকেল হালকা বাতাসে ভেসে আসা ঘ্রাণ জানিয়ে দিচ্ছে—মধুমাসের দিন আর বেশি দূরে নয়।

জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, গ্রাম থেকে শহর পর্যন্ত আমবাগান গুলোতে মৌমাছির গুঞ্জন আর পাখির কোলাহলে মুখর পরিবেশ। কৃষকদের মুখে এখন আশার হাসি। অনুকূল আবহাওয়া অব্যাহত থাকলে এ বছর আমের ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনা দেখছেন তারা।

০৪ উপজেলাতেই মুকুলের সমারোহ জেলার চুুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা, দামুড়হুদা উপজেলা, আলমডাঙ্গা উপজেলা, জীবনগর উপজেলা,—সবখানেই আম্র মুকুলে ভরে উঠেছে বাগান ও বাড়ির আঙিনা।

বিশেষ করে দামুড়হুদা ও জীবনগর বিস্তীর্ণ বনাঞ্চলঘেরা আমবাগান এবং সদর ও আলমডাঙ্গা সদরের গ্রামীণ অঞ্চলে মুকুলের ঘ্রাণ এখন প্রকৃতিকে করেছে উৎসবমুখর।

অনুকূল আবহাওয়ায় আশাবাদী কৃষক
স্থানীয় আমচাষিরা জানান, চলতি মৌসুমে তাপমাত্রা অনুকূলে থাকায় এবং টানা কয়েকদিন রোদেলা আবহাওয়ায় গাছে ভালো মুকুল এসেছে। ঝড়, শিলাবৃষ্টি বা অতিরিক্ত কুয়াশা না হলে ফলন আশানুরূপ হতে পারে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা বলছেন, এ সময় নিয়মিত বাগান পরিদর্শন, পোকার আক্রমণ প্রতিরোধ এবং ছত্রাকনাশক প্রয়োগ জরুরি। বিশেষ করে হঠাৎ কালবৈশাখী ঝড় বা বৃষ্টিপাত হলে মুকুল ঝরে পড়ার ঝুঁকি থাকে।
অর্থনীতি ও গ্রামীণ জীবনে প্রভাব।

চুুয়াডাঙ্গায় বাণিজ্যিকভাবে আমচাষের পরিমাণ প্রতিবছরচ বাড়ছে। স্থানীয় বাজার ছাড়াও রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় এখানকার আম সরবরাহ করা হয়। ভালো ফলন হলে কৃষকের আয় যেমন বাড়বে, তেমনি জেলা অর্থনীতিতেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।

গ্রামীণ জীবনে আম্র মুকুল কেবল ফলনের ইঙ্গিত নয়—এটি ঋতু পরিবর্তনের এক আবেগঘন প্রতীক। বিকেলে আমবাগানে তরুণদের আড্ডা, শিশুদের খেলাধুলা আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মুকুলের ছবি—সব মিলিয়ে চুুয়াডাঙ্গায় এখন বসন্তের সুবাসে মাতোয়ারা।

সবকিছু অনুকূলে থাকলে কয়েক মাস পরই জেলার বাজারগুলো সোনালি আমে ভরে উঠবে—এমনটাই প্রত্যাশা কৃষক ও সংশ্লিষ্ট সবার।