০৬:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২৬, ৬ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি রাস্তার বালুর নামে ব্রহ্মপুত্রে ‘বালু লুট’!

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ১০০৮৪ বার পঠিত হয়েছে

মো. শাহজাহান বাশার

অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ, নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা-আবাদি জমি

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে সরকারি রাস্তার কাজে বালু প্রয়োজন—এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে নদ থেকে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার কাজে যতটুকু বালু প্রয়োজন, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বালু নদ থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা অতিরিক্ত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীরের মাটি সরে যাওয়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

‘বালু তোলায় আমার বাড়ির ভিটা নদীতে চলে গেছে’

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বালু তোলার ফলে আমার বাড়ির ভিটা নদীতে চলে গেছে। আমি এখন কোথায় থাকব?” তার মতো অনেক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের পর দিন নদ থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা হচ্ছে না। ফলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের নদীভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তারা বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজের জন্য বালু প্রয়োজন হলে নিয়ম মেনে নির্ধারিত পরিমাণ বালু উত্তোলন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগে অতিরিক্ত বালু তুলে বাণিজ্য করা হলে তার খেসারত দিতে হচ্ছে নদীতীরের সাধারণ মানুষকে।

নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত, অতিরিক্ত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি কাজের বালুর নামে যদি অতিরিক্ত বালু তুলে বিক্রি করা হয়, তাহলে এর দায় নেবে কে?

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

হারানোর বেদনা থেকে ঘুরে দাঁড়ানোর শিক্ষা-আইনজীবী হাবিবুল হক

সরকারি রাস্তার বালুর নামে ব্রহ্মপুত্রে ‘বালু লুট’!

Update Time : ১১:২১:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬

মো. শাহজাহান বাশার

অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ, নদীভাঙনে বিলীন বসতভিটা-আবাদি জমি

কুড়িগ্রামের রাজিবপুর উপজেলার মোহনগঞ্জ ইউনিয়নের নয়াচর বাজার সংলগ্ন ব্রহ্মপুত্র নদে সরকারি রাস্তার কাজে বালু প্রয়োজন—এই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে অতিরিক্ত বালু উত্তোলন করে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে। প্রকাশ্যে নদ থেকে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে নদীতীরবর্তী মানুষের মধ্যে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, সরকারি রাস্তার কাজে যতটুকু বালু প্রয়োজন, তার চেয়ে কয়েকগুণ বেশি বালু নদ থেকে উত্তোলন করা হচ্ছে। উত্তোলন করা অতিরিক্ত বালু বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে লাভবান হচ্ছে একটি প্রভাবশালী মহল।

এদিকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে নদীর তীর ভেঙে পড়ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয়রা। নদীর গতিপথ পরিবর্তন ও তীরের মাটি সরে যাওয়ায় বসতভিটা, আবাদি জমি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা হুমকির মুখে পড়েছে।

‘বালু তোলায় আমার বাড়ির ভিটা নদীতে চলে গেছে’

নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত এক ভুক্তভোগী কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “বালু তোলার ফলে আমার বাড়ির ভিটা নদীতে চলে গেছে। আমি এখন কোথায় থাকব?” তার মতো অনেক পরিবার ভাঙনের শিকার হয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন বলে জানান স্থানীয়রা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, দিনের পর দিন নদ থেকে বালু উত্তোলন করা হলেও কার্যকরভাবে তা বন্ধ করা হচ্ছে না। ফলে যেকোনো সময় আরও বড় ধরনের নদীভাঙন দেখা দিতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।

তারা বলেন, সরকারি উন্নয়নকাজের জন্য বালু প্রয়োজন হলে নিয়ম মেনে নির্ধারিত পরিমাণ বালু উত্তোলন করা যেতে পারে। কিন্তু সেই সুযোগে অতিরিক্ত বালু তুলে বাণিজ্য করা হলে তার খেসারত দিতে হচ্ছে নদীতীরের সাধারণ মানুষকে।

নদীতীরবর্তী বাসিন্দারা অবিলম্বে প্রশাসনের সরেজমিন তদন্ত, অতিরিক্ত বালু উত্তোলন বন্ধ এবং নদীভাঙন রোধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের প্রশ্ন—সরকারি কাজের বালুর নামে যদি অতিরিক্ত বালু তুলে বিক্রি করা হয়, তাহলে এর দায় নেবে কে?