০১:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ সংগ্রহে বাধা: পুলিশের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, উত্তাল রাজশাহী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৭:০২ অপরাহ্ন, রোববার, ২৪ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০৪৭ বার পঠিত হয়েছে

 

মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী: নগরীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজশাহী। শনিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে রাজশাহীর হজের মোড় এলাকায় বরখাস্ত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত আলোচিত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাহবুব হাসানের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে জাতীয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ও জাতীয় দৈনিক যায়যায় কাল ও যুগবাণী পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান মো: পাভেল ইসলাম মিমুল লাঞ্ছিত হয়েছেন।

ঘটনার সময় সাংবাদিক মো: পাভেল ইসলাম স্থানীয় বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও ধারনের চেষ্টা করছিলেন। এসময় চন্দ্রিমা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (সাব-ইন্সপেক্টর) মহিউদ্দিন সোহাগ সাংবাদিককে বাধা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা তখন সিভিল পোশাকে ছিলেন।

মো: পাভেল ইসলাম মিমুল সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় বলেন, “আমি শুধু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়ার পাশাপাশি শারীরিক হস্তক্ষেপ করেছে। এটি সাংবাদিকদের ওপর অযৌক্তিক আক্রমণ এবং স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের জন্য বড় হুমকি।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বরখাস্ত এসআই মাহবুব হাসান শহরে আলোচিত একটি ঘটনায় জড়িত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। সাংবাদিকদের ভিডিও ধারনের সময় পুলিশের বাঁধা দেওয়া আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি। নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা ও লাঞ্ছনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ফোরামের সদস্যরা বলেন, “সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও শারীরিক হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”

রাজশাহী বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, “যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”

উপ-পুলিশ পরিদর্শক মহিউদ্দিন সোহাগ সাংবাদিকদের লাঞ্ছনের ঘটনায় বলেন, “গলায় প্রেস কার্ড ঝোলানো ছিলো না। আমি বুঝতে পারিনি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছি।”

রাজশাহী থেকে প্রকাশিত এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক অঙ্গন থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারের অতি প্রয়োজনীয় দায়িত্ব।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

সংবাদ সংগ্রহে বাধা: পুলিশের হাতে সাংবাদিক লাঞ্ছিত, উত্তাল রাজশাহী

Update Time : ০২:৪৭:০২ অপরাহ্ন, রোববার, ২৪ আগস্ট ২০২৫

 

মোঃ শাহজাহান বাশার, স্টাফ রিপোর্টার

রাজশাহী: নগরীতে সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় উত্তাল রাজশাহী। শনিবার (২৩ জুলাই) দিবাগত গভীর রাতে রাজশাহীর হজের মোড় এলাকায় বরখাস্ত র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (RAB) গোয়েন্দা বিভাগে কর্মরত আলোচিত সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) মাহবুব হাসানের ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গিয়ে জাতীয় দৈনিক বর্তমান পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান ও জাতীয় দৈনিক যায়যায় কাল ও যুগবাণী পত্রিকার রাজশাহী ব্যুরো প্রধান মো: পাভেল ইসলাম মিমুল লাঞ্ছিত হয়েছেন।

ঘটনার সময় সাংবাদিক মো: পাভেল ইসলাম স্থানীয় বরখাস্ত পুলিশ কর্মকর্তার ভিডিও ধারনের চেষ্টা করছিলেন। এসময় চন্দ্রিমা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক (সাব-ইন্সপেক্টর) মহিউদ্দিন সোহাগ সাংবাদিককে বাধা দিয়ে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করেছেন। পুলিশ কর্মকর্তা তখন সিভিল পোশাকে ছিলেন।

মো: পাভেল ইসলাম মিমুল সাংবাদিকদের স্বাধীনতা ও তথ্য সংগ্রহের অধিকার রক্ষায় বলেন, “আমি শুধু তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করছিলাম, কিন্তু পুলিশ বাধা দেয়ার পাশাপাশি শারীরিক হস্তক্ষেপ করেছে। এটি সাংবাদিকদের ওপর অযৌক্তিক আক্রমণ এবং স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহের জন্য বড় হুমকি।”

স্থানীয়রা অভিযোগ করেছেন, বরখাস্ত এসআই মাহবুব হাসান শহরে আলোচিত একটি ঘটনায় জড়িত থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করছিলেন। সাংবাদিকদের ভিডিও ধারনের সময় পুলিশের বাঁধা দেওয়া আইন ও মানবাধিকারের পরিপন্থী বলে তাঁরা উল্লেখ করেছেন।

ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জাতীয় সাংবাদিক সংস্থা, রাজশাহী বিভাগীয় কমিটি। নেতৃবৃন্দ বলেন, “সাংবাদিকদের উপর হামলা ও লাঞ্ছনা গণমাধ্যমের স্বাধীনতাকে বাধাগ্রস্ত করছে। এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে দোষী ব্যক্তির বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হোক।”

রাজশাহী অনলাইন সাংবাদিক ফোরামের নেতৃবৃন্দও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন। ফোরামের সদস্যরা বলেন, “সংবাদ সংগ্রহে বাধা ও শারীরিক হামলা একেবারেই গ্রহণযোগ্য নয়। আমরা আশা করি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।”

রাজশাহী বিভাগীয় প্রেস ক্লাবের নেতৃবৃন্দও সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার গুরুত্বে মন্তব্য করেছেন। তারা বলেছেন, “যদি প্রশাসন কার্যকর পদক্ষেপ না নেয়, তাহলে সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনে নামতে বাধ্য হবে।”

উপ-পুলিশ পরিদর্শক মহিউদ্দিন সোহাগ সাংবাদিকদের লাঞ্ছনের ঘটনায় বলেন, “গলায় প্রেস কার্ড ঝোলানো ছিলো না। আমি বুঝতে পারিনি। শুধুমাত্র সরিয়ে দিয়েছি।”

রাজশাহী থেকে প্রকাশিত এই ঘটনায় স্থানীয় সাংবাদিক সমাজ, বিভিন্ন গণমাধ্যম ও সামাজিক অঙ্গন থেকে তীব্র সমালোচনা ও প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। সাংবাদিকরা জানিয়েছেন, সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা ও নিরাপত্তা রক্ষার জন্য যথাযথ আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ সরকারের অতি প্রয়োজনীয় দায়িত্ব।