১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের দুই বিশ্বজয়

পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন দেশের দুই কৃতি হাফেজ। মর্যাদাপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ কোরআন হাফেজ।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বসেরার গৌরব অর্জন করেছেন হাফেজ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ জাকারিয়া। আর তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশের জন্য আরেকটি অনন্য সম্মান বয়ে এনেছেন হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের দুই হাফেজের এ সাফল্য দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনন্য গৌরবের বিষয়। পবিত্র কোরআনের হিফজ ও তিলাওয়াতে তাদের মেধা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাফেজ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জন আমার একার নয়। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া, উস্তাদদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সবার ভালোবাসা ও দোয়ার ফলেই আমি এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছি। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পতাকা ও পবিত্র কোরআনের বার্তা তুলে ধরতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও কোরআনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনতে পারি।”

‘শিক্ষার্থীর সাফল্যই উস্তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ’

হাফেজের উস্তাদ বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য একজন উস্তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। নুরুদ্দিনের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই কোরআন শেখার প্রতি গভীর আগ্রহ, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় ছিল। তার এই অর্জনের পেছনে মহান আল্লাহর রহমত, তার কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের দোয়া রয়েছে। আমরা তার এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের আলোয় জীবন পরিচালনা করার এবং ভবিষ্যতে দেশ ও দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের আরও অনেক সন্তান যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআনের মাধ্যমে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

দেশবাসীর অভিনন্দন

দুই হাফেজের এই অনন্য সাফল্যে বাংলাদেশি কোরআনপ্রেমী মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অসাধারণ অর্জন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার।

পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে তারা ভবিষ্যতেও দেশ ও উম্মাহর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সবার। মহান আল্লাহ দুই কৃতি হাফেজকে কোরআনের খেদমতে কবুল করুন এবং তাঁদের জীবনে বরকত দান করুন—আমিন।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sayeduzzaman Shad

Popular Post

কালিকাপুর পশ্চিম রেলক্রসিংয়ে ভাঙা ব্যারিয়ার, ঝুঁকিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ গেটম্যান নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর—আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক কোরআন প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের দুই বিশ্বজয়

Update Time : ০১:৪০:৪৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬

পবিত্র মক্কা নগরীতে অনুষ্ঠিত কিং আবদুল আজিজ আন্তর্জাতিক হিফজুল কুরআন প্রতিযোগিতায় অসাধারণ সাফল্য অর্জন করে বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের নাম উজ্জ্বল করেছেন দেশের দুই কৃতি হাফেজ। মর্যাদাপূর্ণ এ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় প্রথম ও তৃতীয় স্থান অর্জন করেছেন বাংলাদেশের দুই তরুণ কোরআন হাফেজ।

প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে বিশ্বসেরার গৌরব অর্জন করেছেন হাফেজ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ জাকারিয়া। আর তৃতীয় স্থান অর্জন করে দেশের জন্য আরেকটি অনন্য সম্মান বয়ে এনেছেন হাফেজ মাহমুদুল হাসান আশরাফী।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রতিযোগীদের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে বাংলাদেশের দুই হাফেজের এ সাফল্য দেশের জন্য নিঃসন্দেহে এক অনন্য গৌরবের বিষয়। পবিত্র কোরআনের হিফজ ও তিলাওয়াতে তাদের মেধা, নিষ্ঠা, অধ্যবসায় ও কঠোর পরিশ্রমের উজ্জ্বল স্বীকৃতি হিসেবে এ অর্জনকে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

হাফেজ নুরুদ্দিন মুহাম্মদ জাকারিয়া বলেন, “আলহামদুলিল্লাহ, এই অর্জন আমার একার নয়। মহান আল্লাহ তায়ালার অশেষ রহমত, বাবা-মায়ের দোয়া, উস্তাদদের অক্লান্ত পরিশ্রম এবং সবার ভালোবাসা ও দোয়ার ফলেই আমি এই সম্মান অর্জন করতে পেরেছি। বিশ্বের দরবারে বাংলাদেশের পতাকা ও পবিত্র কোরআনের বার্তা তুলে ধরতে পেরে আমি অত্যন্ত আনন্দিত ও গর্বিত। ভবিষ্যতেও কোরআনের খেদমতে নিজেকে নিয়োজিত রাখতে চাই। সবার কাছে দোয়া চাই, যেন দেশের জন্য আরও সম্মান বয়ে আনতে পারি।”

‘শিক্ষার্থীর সাফল্যই উস্তাদের সবচেয়ে বড় আনন্দ’

হাফেজের উস্তাদ বলেন, “একজন শিক্ষার্থীর এমন সাফল্য একজন উস্তাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। নুরুদ্দিনের মধ্যে ছোটবেলা থেকেই কোরআন শেখার প্রতি গভীর আগ্রহ, নিষ্ঠা ও অধ্যবসায় ছিল। তার এই অর্জনের পেছনে মহান আল্লাহর রহমত, তার কঠোর পরিশ্রম এবং পরিবারের দোয়া রয়েছে। আমরা তার এই সাফল্যে অত্যন্ত আনন্দিত। আল্লাহ যেন তাকে কোরআনের আলোয় জীবন পরিচালনা করার এবং ভবিষ্যতে দেশ ও দ্বীনের খেদমত করার তাওফিক দান করেন।”

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশের আরও অনেক সন্তান যেন আন্তর্জাতিক অঙ্গনে কোরআনের মাধ্যমে দেশের মুখ উজ্জ্বল করতে পারে—এটাই আমাদের প্রত্যাশা।”

দেশবাসীর অভিনন্দন

দুই হাফেজের এই অনন্য সাফল্যে বাংলাদেশি কোরআনপ্রেমী মানুষের মধ্যে আনন্দ ও গর্বের সৃষ্টি হয়েছে। তাদের অসাধারণ অর্জন দেশের ধর্মপ্রাণ মানুষের জন্য যেমন আনন্দের, তেমনি নতুন প্রজন্মের জন্যও অনুপ্রেরণার।

পবিত্র কোরআনের আলোয় আলোকিত হয়ে তারা ভবিষ্যতেও দেশ ও উম্মাহর কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবেন—এমন প্রত্যাশা সবার। মহান আল্লাহ দুই কৃতি হাফেজকে কোরআনের খেদমতে কবুল করুন এবং তাঁদের জীবনে বরকত দান করুন—আমিন।