১২:৪৬ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার কার্যালয়, কর্মদিবসেও তালাবদ্ধ অফিস

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০৩৯ বার পঠিত হয়েছে

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ২২ আগষ্ট ২০২৫ ইং ০১:০১ পিএম.

২০ জুলাই ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা বেজে ৩০ মিনিট। কার্যালয়ের সামনে দুজন মধ্যবয়সী। কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরের চর রাজীবপুর থেকে এসেছেন। উদ্দেশ্য ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাবেন। এসে দপ্তরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাননি। জাতীয় তথ্য বাতায়নেও যোগাযোগের কোনো নম্বর নেই। অফিসের সামনে চার্টে যে নম্বর, সেটিও বন্ধ ছিল। বাধ্য হয়ে ফিরে যান তারা।

সরেজমিন এমন চিত্র দেখা মিলেছে কুড়িগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলার দপ্তরটি দিনের পর দিন থাকছে তালাবদ্ধ। কাগজে-কলমে একজন কর্মচারী ও কর্মকর্তা থাকলেও অভিযোগ জানাতে এসে তাদের পান না সাধারণ মানুষ। ফলে প্রতিকার না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।

চর রাজীবপুর উপজেলা থেকে আসা সোহেল রানা বলেন, একটি দোকান থেকে কিছু মালপত্র কিনেছি। ওজনে কম দেওয়ায় অভিযোগ জানাতে তিন ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। এখন দেখি তালা ঝুলছে। লোকজন নেই। অফিসের কোনো ফোন নম্বরও নেই। কষ্ট করে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।

২৩ জুলাই চিলমারীর বাসিন্দা রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার বেশির ভাগ দোকানে মূল্য তালিকা নেই। যে যার মতো জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এসেছি। দুপুর ১২টা পার হলেও অফিসে তালা দেওয়া। কখন খুলবে কেউ বলতে পারে না।

দুই সপ্তাহ ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটির সেবা কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও মিলেছে একই চিত্র। বেলা ১২টার পরও অফিসে তালা ঝুলছিল। দরজা-জানালায় ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ঘেরা। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এখানে কেউ বসেন না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে সর্বশেষ রমজান মাসে ভোক্তা অধিকারের অভিযান চোখে পড়ে। এর পর আর কোনো অভিযান চালানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। যেন দেখার কেউ নেই।

কথা হয় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে পোশাক কিনেছি। মানসম্মত হয়নি। অভিযোগ দিতে ছয় দিন ভোক্তা অধিদপ্তরে এসেছি। অফিস তালাবদ্ধ। জাতীয় তথ্য বাতায়নেও কর্মকর্তার নম্বর নেই। অফিসের সামনে সাঁটানো নম্বরটিও বন্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসসংলগ্ন আরেক দপ্তরের এক কর্মচারী বলেন, আমার জানা মতে একজন কর্মচারী আছেন এ অফিসে। কর্মকর্তার বাড়ি লালমনিরহাটে। রমজানের পর থেকে চার-পাঁচবার অফিস খোলা হয়েছে। কর্মকর্তা বা কর্মচারী কেউ আসেন না। সব সময় তালা দেওয়া থাকে। লোকজন এসে ঘুরে যায়।

বাজার মনিটরিং সম্পর্কিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, লালমনিরহাটের কর্মকর্তা কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে নিয়মিত অফিসে পাই না। তিনি কখন আসেন, কখন যান জানি না। অফিস তালাবদ্ধ থাকে।

কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, আমার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি বদলি হয়েছেন। আমি লালমনিরহাটের দায়িত্বে আছি। কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। সপ্তাহে কদিন এ অফিসে বসেন– জানতে চাইলে বলেন, ‘অফিসে লোকজন নেই, তাই প্রতিদিন আসা হয় না। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে মেইলে দেবে। আমি দেখব।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এখন থেকে ভোক্তার কর্মকর্তা সপ্তাহের কোন দিন কুড়িগ্রামে বসবেন দপ্তরের সামনে লিখে রাখা হবে। সেখানে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও থাকবে। এতে সহজেই সেবা পাবেন ভুক্তভোগীরা।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার কার্যালয়, কর্মদিবসেও তালাবদ্ধ অফিস

Update Time : ০৮:৫৫:১৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২২ আগস্ট ২০২৫

 

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:-
শুক্রবার, ২২ আগষ্ট ২০২৫ ইং ০১:০১ পিএম.

২০ জুলাই ঘড়ির কাঁটায় বেলা ১১টা বেজে ৩০ মিনিট। কার্যালয়ের সামনে দুজন মধ্যবয়সী। কুড়িগ্রাম জেলা শহর থেকে ৪৭ কিলোমিটার দূরের চর রাজীবপুর থেকে এসেছেন। উদ্দেশ্য ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তরে অভিযোগ জানাবেন। এসে দপ্তরে কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারীকে পাননি। জাতীয় তথ্য বাতায়নেও যোগাযোগের কোনো নম্বর নেই। অফিসের সামনে চার্টে যে নম্বর, সেটিও বন্ধ ছিল। বাধ্য হয়ে ফিরে যান তারা।

সরেজমিন এমন চিত্র দেখা মিলেছে কুড়িগ্রাম জেলা ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর কার্যালয়ে। জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের নিচতলার দপ্তরটি দিনের পর দিন থাকছে তালাবদ্ধ। কাগজে-কলমে একজন কর্মচারী ও কর্মকর্তা থাকলেও অভিযোগ জানাতে এসে তাদের পান না সাধারণ মানুষ। ফলে প্রতিকার না পেয়ে ফিরে যেতে হয় তাদের।

চর রাজীবপুর উপজেলা থেকে আসা সোহেল রানা বলেন, একটি দোকান থেকে কিছু মালপত্র কিনেছি। ওজনে কম দেওয়ায় অভিযোগ জানাতে তিন ঘণ্টার নদীপথ পাড়ি দিয়ে এখানে এসেছি। এখন দেখি তালা ঝুলছে। লোকজন নেই। অফিসের কোনো ফোন নম্বরও নেই। কষ্ট করে এসে ফিরে যেতে হচ্ছে।

২৩ জুলাই চিলমারীর বাসিন্দা রিয়াদুল ইসলাম বলেন, আমাদের এলাকার বেশির ভাগ দোকানে মূল্য তালিকা নেই। যে যার মতো জিনিসপত্রের দাম বাড়ায়। ৩৫ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এসেছি। দুপুর ১২টা পার হলেও অফিসে তালা দেওয়া। কখন খুলবে কেউ বলতে পারে না।

দুই সপ্তাহ ধরে জনগুরুত্বপূর্ণ এই দপ্তরটির সেবা কার্যক্রম নিয়ে অনুসন্ধান চালিয়ে এমন চিত্র উঠে এসেছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার সপ্তাহের শেষ কর্মদিবসেও মিলেছে একই চিত্র। বেলা ১২টার পরও অফিসে তালা ঝুলছিল। দরজা-জানালায় ধুলোবালি আর মাকড়সার জালে ঘেরা। দেখেই বোঝা যাচ্ছিল, এখানে কেউ বসেন না।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কুড়িগ্রামে সর্বশেষ রমজান মাসে ভোক্তা অধিকারের অভিযান চোখে পড়ে। এর পর আর কোনো অভিযান চালানো হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার উদাসীনতায় প্রতিনিয়ত ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ ভোক্তারা। যেন দেখার কেউ নেই।

কথা হয় ভুক্তভোগী সাইফুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, বিজ্ঞাপন দেখে পোশাক কিনেছি। মানসম্মত হয়নি। অভিযোগ দিতে ছয় দিন ভোক্তা অধিদপ্তরে এসেছি। অফিস তালাবদ্ধ। জাতীয় তথ্য বাতায়নেও কর্মকর্তার নম্বর নেই। অফিসের সামনে সাঁটানো নম্বরটিও বন্ধ।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসসংলগ্ন আরেক দপ্তরের এক কর্মচারী বলেন, আমার জানা মতে একজন কর্মচারী আছেন এ অফিসে। কর্মকর্তার বাড়ি লালমনিরহাটে। রমজানের পর থেকে চার-পাঁচবার অফিস খোলা হয়েছে। কর্মকর্তা বা কর্মচারী কেউ আসেন না। সব সময় তালা দেওয়া থাকে। লোকজন এসে ঘুরে যায়।

বাজার মনিটরিং সম্পর্কিত জেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য আলমগীর হোসেন বলেন, লালমনিরহাটের কর্মকর্তা কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছেন। তাঁকে নিয়মিত অফিসে পাই না। তিনি কখন আসেন, কখন যান জানি না। অফিস তালাবদ্ধ থাকে।

কুড়িগ্রাম ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক শেখ সাদী বলেন, আমার কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী নেই। একজন কর্মচারী ছিলেন। তিনি বদলি হয়েছেন। আমি লালমনিরহাটের দায়িত্বে আছি। কুড়িগ্রামে অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করছি। সপ্তাহে কদিন এ অফিসে বসেন– জানতে চাইলে বলেন, ‘অফিসে লোকজন নেই, তাই প্রতিদিন আসা হয় না। কারও কোনো অভিযোগ থাকলে মেইলে দেবে। আমি দেখব।’

কুড়িগ্রাম জেলা প্রশাসক নুসরাত সুলতানা বলেন, বিষয়টি জানা ছিল না। এখন থেকে ভোক্তার কর্মকর্তা সপ্তাহের কোন দিন কুড়িগ্রামে বসবেন দপ্তরের সামনে লিখে রাখা হবে। সেখানে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগের নম্বরও থাকবে। এতে সহজেই সেবা পাবেন ভুক্তভোগীরা।