১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মিলছে ৬০-১৬০ টাকার গ্যাস চালকের সময় অপচয় হচ্ছে ৫-৬ ঘণ্টা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০৩৩ বার পঠিত হয়েছে

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:

রাজধানীর মতোই গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পগুলো দিনভর রিফুয়েলিং স্টেশন ,সীমান্ত ফিলিং স্টেশনগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধ থাকা এবং খোলা থাকা গুটি কতক পাম্পে পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় থমকে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র ৬০ থেকে ১৬০ টাকার গ্যাস পেতে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে চালকদের অপচয় হচ্ছে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। এতে গাড়ির জমা ও তেলের বাড়তি খরচ মেটাতে না পেরে অর্থসংকটে পড়ছেন চালকেরা, আর সড়কে সিএনজি অটোরিকশা কমে যাওয়ায় গালভরা ভাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড, সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক ও মির্জাপুর এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে চালকদের চরম ক্ষোভ ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প চালু থাকলেও অতি কম প্রেশারে গ্যাস মিলছে, যা দিয়ে দীর্ঘ পথ চলাই অসম্ভব।

চন্দ্রা এলাকার রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, শুক্রবার ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, সকাল সাড়ে ১০টা বাজলেও গ্যাস পাইনি। প্রেশার না থাকায় পাম্প চালুর অপেক্ষাতেই সময় পার হচ্ছে। পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালালে জমা ও চালকের খরচ উঠিয়ে কিছুই থাকে না।

মৌচাকের এক পাম্পের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন তিনি। যা দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ চালানোর পর ফের আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মেলেন ১২০ টাকার গ্যাস। ১৫ বছরের ড্রাইভিং ক্যারিয়ারে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখে তিনি কখনো পড়েননি বলে জানান।

একই সংকটের কথা জানান কালিয়াকৈরের সিএনজি চালক আবুল হোসেন ও আনিছুর রহমান। তাঁরা বলেন, ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১০০ টাকার গ্যাস মিলছে, যা দিয়ে ২০০ টাকার ভাড়া খাটার পরই তা শেষ হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈরের এক পাম্পের বিক্রয়কর্মী জানান, গ্যাসের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কম। সকালে হালকা সরবরাহ দেওয়া গেলেও দুপুরে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সফিপুরের এক পাম্প কর্মকর্তা জানান, চালকদের আকুল আবেদনের কারণে কম প্রেশারেই ঝুঁকি নিয়ে সীমিত গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল।

এদিকে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হওয়ায় কালিয়াকৈরজুড়ে সিএনজি ও লোকাল পরিবহনে ভাড়া দ্বিগুণের বেশি হাঁকা হচ্ছে। ২০ টাকার নিয়মিত ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ চাকরিজীবী ও পথচারীরা।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sayeduzzaman Shad

Popular Post

কালিকাপুর পশ্চিম রেলক্রসিংয়ে ভাঙা ব্যারিয়ার, ঝুঁকিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ গেটম্যান নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর—আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কালিয়াকৈরে গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে দীর্ঘ লাইনে দাড়িয়ে মিলছে ৬০-১৬০ টাকার গ্যাস চালকের সময় অপচয় হচ্ছে ৫-৬ ঘণ্টা

Update Time : ০৭:০২:০৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর(গাজীপুর)প্রতিনিধি:

রাজধানীর মতোই গ্যাসের তীব্র সংকটে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার বিভিন্ন পাম্পগুলো দিনভর রিফুয়েলিং স্টেশন ,সীমান্ত ফিলিং স্টেশনগুলোর একটি বড় অংশ বন্ধ থাকা এবং খোলা থাকা গুটি কতক পাম্পে পর্যাপ্ত প্রেশার না থাকায় থমকে গেছে পরিবহন ব্যবস্থা। মাত্র ৬০ থেকে ১৬০ টাকার গ্যাস পেতে পাম্পের দীর্ঘ লাইনে চালকদের অপচয় হচ্ছে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। এতে গাড়ির জমা ও তেলের বাড়তি খরচ মেটাতে না পেরে অর্থসংকটে পড়ছেন চালকেরা, আর সড়কে সিএনজি অটোরিকশা কমে যাওয়ায় গালভরা ভাড়ায় হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

আজ শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সরেজমিনে কালিয়াকৈর বাসস্ট্যান্ড, সফিপুর, চন্দ্রা, মৌচাক ও মির্জাপুর এলাকার পাম্পগুলো ঘুরে চালকদের চরম ক্ষোভ ও গাড়ির দীর্ঘ সারি দেখা যায়। হাতে গোনা কয়েকটি পাম্প চালু থাকলেও অতি কম প্রেশারে গ্যাস মিলছে, যা দিয়ে দীর্ঘ পথ চলাই অসম্ভব।

চন্দ্রা এলাকার রেন্ট-এ-কার চালক সোহেল রানা আক্ষেপ করে বলেন, শুক্রবার ভোরে লাইনে দাঁড়িয়েছি, সকাল সাড়ে ১০টা বাজলেও গ্যাস পাইনি। প্রেশার না থাকায় পাম্প চালুর অপেক্ষাতেই সময় পার হচ্ছে। পেট্রোল বা অকটেন দিয়ে গাড়ি চালালে জমা ও চালকের খরচ উঠিয়ে কিছুই থাকে না।

মৌচাকের এক পাম্পের অভিজ্ঞতার কথা জানিয়ে অটোরিকশাচালক সানাউল্লাহ জানান, বৃহস্পতিবার রাতে ৩ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১৬০ টাকার গ্যাস পেয়েছেন তিনি। যা দিয়ে অল্প কিছুক্ষণ চালানোর পর ফের আড়াই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মেলেন ১২০ টাকার গ্যাস। ১৫ বছরের ড্রাইভিং ক্যারিয়ারে এমন কঠিন পরিস্থিতির মুখে তিনি কখনো পড়েননি বলে জানান।

একই সংকটের কথা জানান কালিয়াকৈরের সিএনজি চালক আবুল হোসেন ও আনিছুর রহমান। তাঁরা বলেন, ৪-৫ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে মাত্র ১০০ টাকার গ্যাস মিলছে, যা দিয়ে ২০০ টাকার ভাড়া খাটার পরই তা শেষ হয়ে যায়। এভাবে চলতে থাকলে পরিবার নিয়ে না খেয়ে থাকা ছাড়া উপায় থাকবে না।

এ বিষয়ে কালিয়াকৈরের এক পাম্পের বিক্রয়কর্মী জানান, গ্যাসের প্রেশার আশঙ্কাজনকভাবে কম। সকালে হালকা সরবরাহ দেওয়া গেলেও দুপুরে সম্পূর্ণ বন্ধ রাখতে হচ্ছে। সফিপুরের এক পাম্প কর্মকর্তা জানান, চালকদের আকুল আবেদনের কারণে কম প্রেশারেই ঝুঁকি নিয়ে সীমিত গ্যাস দেওয়া হচ্ছিল।

এদিকে পাম্পে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় অপচয় হওয়ায় কালিয়াকৈরজুড়ে সিএনজি ও লোকাল পরিবহনে ভাড়া দ্বিগুণের বেশি হাঁকা হচ্ছে। ২০ টাকার নিয়মিত ভাড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকায় গিয়ে ঠেকেছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ চাকরিজীবী ও পথচারীরা।