০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা নিহত ৭৮৭

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬
  • ৩১০১ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ৪ মার্চ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাত চতুর্থ দিনে এসে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। তবে প্রতিহত করতে গিয়ে ইরানও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, যার ফলে তেহরান, তেল আবিব, দুবাই, রিয়াদ, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন নগরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হলেও এখন বেসামরিক স্থাপনাগুলোও আক্রান্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিরোধ চালাবে। ইতোমধ্যে ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় সীমিত মাত্রার ক্ষতি হলেও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪টি দেশ থেকে নাগরিকদের দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশগুলো হলো বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

ইরানি হামলার কারণে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখা হয়েছে। জর্ডান, বাহরাইন, কাতার, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জরুরি নয় এমন কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস কোরপস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার জানায়, ইসরায়েলের ১৬০টি তথ্যকেন্দ্রে ইরান সাইবার হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অবকাঠামোতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে, যা ইসরায়েলের পেতাহ তিকভায় আঘাত হেনেছে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ইরানি হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইতে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রাইভেট জেটে দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া। এই চাহিদার কারণে চার্টার্ড বিমানের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মাসকাট থেকে ইস্তাম্বুলগামী ছোট জেটের এক সিটের দাম এখন প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, আর রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটের ভাড়া ৩ লাখ ডলারের ওপরে।

বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি ব্যবহার করে গ্রাহকদের ১০ ঘণ্টার যাত্রা পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছে দিচ্ছে, কারণ রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও কার্যক্রম চালু রয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলা নিহত ৭৮৭

Update Time : ১০:৪৯:৩০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ৪ মার্চ ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ৪ মার্চ: ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি নিহত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া সংঘাত চতুর্থ দিনে এসে ভয়াবহ আকার নিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় ইরানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৭৮৭ জনে। তবে প্রতিহত করতে গিয়ে ইরানও গোটা মধ্যপ্রাচ্যে পাল্টা আক্রমণ চালাচ্ছে, যার ফলে তেহরান, তেল আবিব, দুবাই, রিয়াদ, বাহরাইনসহ উপসাগরীয় বিভিন্ন নগরে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে।

শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটিতে হামলা হলেও এখন বেসামরিক স্থাপনাগুলোও আক্রান্ত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মহল উদ্বেগ প্রকাশ করেছে, কারণ সংঘাত দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। জাতিসংঘ অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি ও সংলাপের আহ্বান জানিয়ে পরিস্থিতি স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, তারা ‘শেষ রক্তবিন্দু পর্যন্ত’ প্রতিরোধ চালাবে। ইতোমধ্যে ইরানি হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের স্থাপনাগুলো। সৌদি আরবের রিয়াদে মার্কিন দূতাবাসে ড্রোন হামলায় সীমিত মাত্রার ক্ষতি হলেও বাহরাইনের সামরিক ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। একই সঙ্গে ওমানের দুকুম বাণিজ্যিক বন্দরের একটি তেলের ট্যাংকারও ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, সংঘাত চার থেকে পাঁচ সপ্তাহ স্থায়ী হতে পারে এবং প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর হুমকিও দিয়েছেন।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর মঙ্গলবার (৩ মার্চ) ভেরিফায়েড সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ১৪টি দেশ থেকে নাগরিকদের দ্রুত বের হওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। দেশগুলো হলো বাহরাইন, মিসর, ইরান, ইরাক, ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন, জর্ডান, কুয়েত, লেবানন, ওমান, কাতার, সৌদি আরব, সিরিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইয়েমেন।

ইরানি হামলার কারণে সৌদি আরব ও কুয়েতে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ রাখা হয়েছে। জর্ডান, বাহরাইন, কাতার, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে জরুরি নয় এমন কর্মীদের নিরাপত্তার কারণে দেশ ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ডস কোরপস (আইআরজিসি) মঙ্গলবার জানায়, ইসরায়েলের ১৬০টি তথ্যকেন্দ্রে ইরান সাইবার হামলা চালিয়েছে। এর মাধ্যমে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য ও অবকাঠামোতে প্রবেশের চেষ্টা করা হয়েছে। পাশাপাশি ইরান মধ্য ইসরায়েলে ক্ষেপণাস্ত্র হামলাও চালিয়েছে, যা ইসরায়েলের পেতাহ তিকভায় আঘাত হেনেছে।

বিশ্লেষকেরা আশঙ্কা করছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে এটি শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, সমগ্র বিশ্বের নিরাপত্তা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়াবে।

ইরানি হামলার জেরে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাণিজ্যিক রাজধানী দুবাইতে চরম অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। আন্তর্জাতিক ফ্লাইট বন্ধ থাকায় ধনী ও প্রভাবশালী ব্যক্তিরা প্রাইভেট জেটে দেশ ছাড়ার জন্য মরিয়া। এই চাহিদার কারণে চার্টার্ড বিমানের ভাড়া স্বাভাবিকের তুলনায় কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। মাসকাট থেকে ইস্তাম্বুলগামী ছোট জেটের এক সিটের দাম এখন প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টাকা, আর রিয়াদ থেকে ইউরোপগামী ফ্লাইটের ভাড়া ৩ লাখ ডলারের ওপরে।

বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো বিলাসবহুল এসইউভি গাড়ি ব্যবহার করে গ্রাহকদের ১০ ঘণ্টার যাত্রা পাড়ি দিয়ে রিয়াদে পৌঁছে দিচ্ছে, কারণ রিয়াদ বিমানবন্দর এখনও কার্যক্রম চালু রয়েছে।