০৮:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

লুঙ্গি পরেই মাদককারবারিদের ধাওয়া দিলেন এমপি জসীম দিলেন যুদ্ধ ঘোষণা।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬
  • ৩০৫৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযানে নেমে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। স্থানীয়দের কাছ থেকে গোপন তথ্য পেয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি মাদককারবারিদের ধাওয়া দেন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে যায় তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত সীমান্তসংলগ্ন আশাবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা চলে আসছে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে মাদককারবারীরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

স্থানীয়দের দেওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে এমপি হাজী জসিম উদ্দিন তার ব্যক্তিগত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে একজন সহকারীকে নিয়ে দ্রুত আশাবাড়ি এলাকায় পৌঁছান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদককারবারী অবস্থান করছিলেন। সংসদ সদস্যকে দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই এমপি জসিম উদ্দিন ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

একই সময় আশাবাড়ি সড়কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন নবীনগর উপজেলা থেকে আসা দুই যুবক। তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংসদ সদস্য। পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য না পাওয়ায় দুই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এলাকাকে মাদকমুক্ত করা। আমার নির্বাচনী এলাকা সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক বেশি। তাই আমি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায়, প্রয়োজনে রাতেও, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। আমার এলাকায় হয় মাদককারবারিরা থাকবে, নয়তো আমি থাকব। মাদকের বিরুদ্ধে আমার এই জিহাদ চলবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের এমন সরাসরি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।

 

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

লুঙ্গি পরেই মাদককারবারিদের ধাওয়া দিলেন এমপি জসীম দিলেন যুদ্ধ ঘোষণা।

Update Time : ০৩:৫০:২৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৮ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার সীমান্তবর্তী আশাবাড়ি এলাকায় মাদককারবারিদের বিরুদ্ধে আকস্মিক অভিযানে নেমে আলোচনায় এসেছেন কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) আসনের সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন। স্থানীয়দের কাছ থেকে গোপন তথ্য পেয়ে শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে লুঙ্গি পরিহিত অবস্থায় ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলে ঘটনাস্থলে পৌঁছে তিনি মাদককারবারিদের ধাওয়া দেন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে পালানোর সময় একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে যায় তারা।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ভারত সীমান্তসংলগ্ন আশাবাড়ি এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে প্রকাশ্যে মাদক কেনাবেচা ও মাদকসেবীদের আনাগোনা চলে আসছে। এলাকাবাসী এর প্রতিবাদ করলে মাদককারবারীরা তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে চুপ করিয়ে দেয়। ফলে সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতার কারণে প্রকাশ্যে প্রতিবাদ করতে সাহস পান না।

স্থানীয়দের দেওয়া গোপন সংবাদের ভিত্তিতে শুক্রবার দুপুরে এমপি হাজী জসিম উদ্দিন তার ব্যক্তিগত রয়েল এনফিল্ড মোটরসাইকেলে একজন সহকারীকে নিয়ে দ্রুত আশাবাড়ি এলাকায় পৌঁছান। প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে ৭ থেকে ৮টি মোটরসাইকেলে করে বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা কয়েকজন সন্দেহভাজন মাদককারবারী অবস্থান করছিলেন। সংসদ সদস্যকে দেখতে পেয়ে তারা দ্রুত পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় ধাওয়া খেয়ে একটি মোটরসাইকেল ফেলে রেখে ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন।

ঘটনার পরপরই এমপি জসিম উদ্দিন ব্রাহ্মণপাড়া থানা পুলিশকে বিষয়টি অবহিত করেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ফেলে যাওয়া মোটরসাইকেলটি জব্দ করে থানায় নিয়ে যায়।

একই সময় আশাবাড়ি সড়কে সন্দেহজনকভাবে ঘোরাফেরা করছিলেন নবীনগর উপজেলা থেকে আসা দুই যুবক। তাদের থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করেন সংসদ সদস্য। পরে তাদের ব্যবহৃত মোটরসাইকেলসহ পুলিশকে হস্তান্তর করা হয়। যাচাই-বাছাই ও জিজ্ঞাসাবাদের পর পুলিশের কাছে তাদের বিরুদ্ধে কোনো অপরাধমূলক তথ্য না পাওয়ায় দুই যুবককে ছেড়ে দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সংসদ সদস্য হাজী জসিম উদ্দিন বলেন, “আমার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অন্যতম প্রধান অঙ্গীকার ছিল এলাকাকে মাদকমুক্ত করা। আমার নির্বাচনী এলাকা সীমান্তবর্তী হওয়ায় এখানে মাদকের বিস্তার তুলনামূলক বেশি। তাই আমি নিয়মিত বিভিন্ন এলাকায়, প্রয়োজনে রাতেও, মাদকবিরোধী অভিযান পরিচালনা করছি। আমার এলাকায় হয় মাদককারবারিরা থাকবে, নয়তো আমি থাকব। মাদকের বিরুদ্ধে আমার এই জিহাদ চলবে।”

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদক নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পাশাপাশি জনপ্রতিনিধিদের এমন সরাসরি উদ্যোগ সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে। তবে তারা স্থায়ীভাবে মাদক নির্মূলে নিয়মিত অভিযান ও কঠোর আইনগত ব্যবস্থার দাবি জানান।