১১:২৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাদক নীরব মহামারী থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সংকট, এখনই সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৩০৪২ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

মাদক আজ কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয়; এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবার ও নৈতিক ভিত্তির ওপর এক নীরব কিন্তু ধারাবাহিক আঘাত। এই আঘাত দৃশ্যমান নয় সবসময়, কিন্তু এর ক্ষত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। শহরের অভিজাত এলাকা থেকে গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমজীবী মহল্লা—কোথাও মাদকের ছোবল থেকে মুক্ত নয়। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে আমরা যখন উন্নয়ন, স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল অগ্রগতি নিয়ে কথা বলছি, তখন মাদকের বিস্তার আমাদের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মাদক একটি ব্যক্তি ধ্বংস করে, কিন্তু তার প্রভাব থেমে থাকে না সেই ব্যক্তির মধ্যেই। একটি পরিবার ধসে পড়ে, মা-বাবার স্বপ্ন ভেঙে যায়, ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়। সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে, কর্মক্ষম তরুণশক্তি বিপথগামী হয়। মাদকাসক্তির পেছনে অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, এমনকি সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এভাবে মাদক কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়—এটি সামাজিক ও নিরাপত্তাগত সংকট।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাদক ব্যবসা এখন একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সীমান্তপথে চোরাচালান, নদীপথে পাচার, এমনকি অনলাইন যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা তাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে স্কুল-কলেজের আশেপাশে গোপনে জাল বিস্তার করা হচ্ছে। ছোট ছোট ডিলার তৈরি করে বড় নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে যায়—যা রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অবশ্যই প্রশংসনীয়। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার, উদ্ধার—এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক। কিন্তু কেবল অভিযান দিয়ে সমস্যার মূল উৎপাটন সম্ভব নয়। যখন একজন ডিলার ধরা পড়ে, তখন আরেকজন তার জায়গা নেয়—এই চক্র ভাঙতে হলে শিকড়ে আঘাত করতে হবে। প্রয়োজন সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া।

একই সঙ্গে আমাদের আত্মসমালোচনা জরুরি। পরিবার কি যথেষ্ট সময় দিচ্ছে সন্তানকে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিক শিক্ষার যথাযথ চর্চা হচ্ছে? তরুণদের জন্য কি পর্যাপ্ত খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে? যখন একটি তরুণ একাকীত্ব, হতাশা বা হতবুদ্ধি জীবনের মধ্যে বেড়ে ওঠে, তখন সে ভুল পথে পা বাড়াতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধের প্রথম প্রাচীর হতে হবে পরিবার। সন্তানের বন্ধু-বান্ধব, চলাফেরা, আচরণগত পরিবর্তন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। খুতবা, আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে পারেন। সামাজিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীকে বয়কট করা, তার প্রভাব প্রতিহত করা—এটিও একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।

তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কেবল অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না। সে একজন রোগীও বটে। শাস্তির পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মানসম্মত পুনর্বাসন কেন্দ্র, দক্ষ কাউন্সেলর, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ—এসব উদ্যোগ ছাড়া একজন আসক্তকে সমাজে পুনঃস্থাপন করা কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—মানুষকে বাঁচানো, পরিবারকে রক্ষা করা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পথে ফেরানো।

মাদকবিরোধী আন্দোলনকে কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার বানানো যাবে না। এটি হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতীয় অঙ্গীকার। আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই জনগণের আস্থা ফিরবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা—এসবের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে নির্ভয়ে। মাদক চক্রের মুখোশ উন্মোচন, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে সতর্ক করা—এটি সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব।

আজ আমাদের শপথ নিতে হবে—মাদকমুক্ত সমাজ গড়ব। একটি পরিবার যদি সচেতন হয়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সতর্ক থাকে, একটি প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং একটি সমাজ যদি মাদককে ঘৃণা করতে শেখে—তবে এই অন্ধকার কাটানো সম্ভব। উন্নয়নের স্বপ্ন তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম হবে সুস্থ, সচেতন ও সৃজনশীল।

মাদক কেবল ব্যক্তির শত্রু নয়—এটি জাতির ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। এখনই সময়, সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

মাদক নীরব মহামারী থেকে জাতীয় নিরাপত্তা সংকট, এখনই সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে

Update Time : ১১:৩৪:১৬ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

মাদক আজ কেবল একটি সামাজিক ব্যাধি নয়; এটি আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা, অর্থনীতি, শিক্ষা ব্যবস্থা, পরিবার ও নৈতিক ভিত্তির ওপর এক নীরব কিন্তু ধারাবাহিক আঘাত। এই আঘাত দৃশ্যমান নয় সবসময়, কিন্তু এর ক্ষত গভীর ও দীর্ঘস্থায়ী। শহরের অভিজাত এলাকা থেকে গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান থেকে শ্রমজীবী মহল্লা—কোথাও মাদকের ছোবল থেকে মুক্ত নয়। একবিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসে আমরা যখন উন্নয়ন, স্মার্ট বাংলাদেশ, ডিজিটাল অগ্রগতি নিয়ে কথা বলছি, তখন মাদকের বিস্তার আমাদের অর্জনকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

মাদক একটি ব্যক্তি ধ্বংস করে, কিন্তু তার প্রভাব থেমে থাকে না সেই ব্যক্তির মধ্যেই। একটি পরিবার ধসে পড়ে, মা-বাবার স্বপ্ন ভেঙে যায়, ভাই-বোনের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়। সমাজে অপরাধপ্রবণতা বাড়ে, কর্মক্ষম তরুণশক্তি বিপথগামী হয়। মাদকাসক্তির পেছনে অর্থের জোগান দিতে গিয়ে অনেকেই চুরি, ছিনতাই, প্রতারণা, এমনকি সহিংস অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। ফলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি অবনতির দিকে যায়। এভাবে মাদক কেবল একটি স্বাস্থ্যগত সমস্যা নয়—এটি সামাজিক ও নিরাপত্তাগত সংকট।

সবচেয়ে উদ্বেগজনক বিষয় হলো, মাদক ব্যবসা এখন একটি সুসংগঠিত সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে। সীমান্তপথে চোরাচালান, নদীপথে পাচার, এমনকি অনলাইন যোগাযোগ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে তারা তাদের বিস্তার ঘটাচ্ছে। নতুন প্রজন্মকে টার্গেট করে স্কুল-কলেজের আশেপাশে গোপনে জাল বিস্তার করা হচ্ছে। ছোট ছোট ডিলার তৈরি করে বড় নেটওয়ার্ক পরিচালিত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বা প্রভাবশালী মহলের ছত্রচ্ছায়ায় এসব অপরাধী নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে যায়—যা রাষ্ট্রের আইনের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা দুর্বল করে দেয়।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর অভিযান অবশ্যই প্রশংসনীয়। নিয়মিত মাদকবিরোধী অভিযান, গ্রেফতার, উদ্ধার—এসব পদক্ষেপ ইতিবাচক। কিন্তু কেবল অভিযান দিয়ে সমস্যার মূল উৎপাটন সম্ভব নয়। যখন একজন ডিলার ধরা পড়ে, তখন আরেকজন তার জায়গা নেয়—এই চক্র ভাঙতে হলে শিকড়ে আঘাত করতে হবে। প্রয়োজন সমন্বিত গোয়েন্দা তৎপরতা, সীমান্তে প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি, দুর্নীতির বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান এবং দ্রুত বিচার প্রক্রিয়া।

একই সঙ্গে আমাদের আত্মসমালোচনা জরুরি। পরিবার কি যথেষ্ট সময় দিচ্ছে সন্তানকে? শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কি মানসিক স্বাস্থ্য ও নৈতিক শিক্ষার যথাযথ চর্চা হচ্ছে? তরুণদের জন্য কি পর্যাপ্ত খেলাধুলা, সংস্কৃতি, সৃজনশীলতার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে? যখন একটি তরুণ একাকীত্ব, হতাশা বা হতবুদ্ধি জীবনের মধ্যে বেড়ে ওঠে, তখন সে ভুল পথে পা বাড়াতে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ে। তাই মাদক প্রতিরোধের প্রথম প্রাচীর হতে হবে পরিবার। সন্তানের বন্ধু-বান্ধব, চলাফেরা, আচরণগত পরিবর্তন—এসব বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে।

ধর্মীয় ও সামাজিক প্রতিষ্ঠানগুলোকেও এগিয়ে আসতে হবে। খুতবা, আলোচনা সভা, সচেতনতামূলক কর্মসূচির মাধ্যমে মাদকের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরা জরুরি। স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, শিক্ষক, সাংবাদিক ও সুশীল সমাজের সদস্যরা সম্মিলিতভাবে এলাকাভিত্তিক প্রতিরোধ কমিটি গঠন করতে পারেন। সামাজিকভাবে মাদক ব্যবসায়ীকে বয়কট করা, তার প্রভাব প্রতিহত করা—এটিও একটি শক্তিশালী পদক্ষেপ।

তবে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—মাদকাসক্ত ব্যক্তিকে কেবল অপরাধী হিসেবে দেখলে চলবে না। সে একজন রোগীও বটে। শাস্তির পাশাপাশি চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। মানসম্মত পুনর্বাসন কেন্দ্র, দক্ষ কাউন্সেলর, কর্মমুখী প্রশিক্ষণ—এসব উদ্যোগ ছাড়া একজন আসক্তকে সমাজে পুনঃস্থাপন করা কঠিন। আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত—মানুষকে বাঁচানো, পরিবারকে রক্ষা করা, ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সুস্থ পথে ফেরানো।

মাদকবিরোধী আন্দোলনকে কখনো রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ দমনের হাতিয়ার বানানো যাবে না। এটি হতে হবে দল-মত নির্বিশেষে একটি জাতীয় অঙ্গীকার। আইন সবার জন্য সমান—এই বার্তা স্পষ্টভাবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। প্রভাবশালী বা ক্ষমতাবান কেউ জড়িত থাকলে তার বিরুদ্ধেও একইভাবে ব্যবস্থা নিতে হবে। তবেই জনগণের আস্থা ফিরবে।

গণমাধ্যমের ভূমিকাও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অনুসন্ধানী প্রতিবেদন, তথ্যভিত্তিক বিশ্লেষণ, জনসচেতনতামূলক প্রচারণা—এসবের মাধ্যমে সত্য তুলে ধরতে হবে নির্ভয়ে। মাদক চক্রের মুখোশ উন্মোচন, প্রশাসনের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং সমাজকে সতর্ক করা—এটি সাংবাদিকতার নৈতিক দায়িত্ব।

আজ আমাদের শপথ নিতে হবে—মাদকমুক্ত সমাজ গড়ব। একটি পরিবার যদি সচেতন হয়, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান যদি সতর্ক থাকে, একটি প্রশাসন যদি নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করে এবং একটি সমাজ যদি মাদককে ঘৃণা করতে শেখে—তবে এই অন্ধকার কাটানো সম্ভব। উন্নয়নের স্বপ্ন তখনই পূর্ণতা পাবে, যখন আমাদের তরুণ প্রজন্ম হবে সুস্থ, সচেতন ও সৃজনশীল।

মাদক কেবল ব্যক্তির শত্রু নয়—এটি জাতির ভবিষ্যতের বিরুদ্ধে এক অদৃশ্য যুদ্ধ। সেই যুদ্ধে আমাদের জয়ী হতেই হবে। এখনই সময়, সর্বাত্মক প্রতিরোধ গড়ে তোলার।