০৫:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিবির মানবিকতায় মায়ের মরদেহের শেষ দর্শন পেলেন মেয়ে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৩৯ বার পঠিত হয়েছে

 

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

আজ শনিবার (৬ সেপ্টম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের নদিয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৫) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল শুক্রবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৃত্যুবরণ্র করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

এর মধ্যে তাঁর এক কন্যা পারভিনা বেগম বহু বছর আগে বৈবাহিক সূত্রে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

মাতৃবিয়োগের করুণ সংবাদে ভেঙে পড়া এই কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার জন্য চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) নিকট আকুতি জানালে বিজিবি সেটিকে একজন সন্তানের চিরন্তন অধিকারের আবেদন হিসেবে গ্রহণ করে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগীতায় সকাল ১০ টা থেকে ১০ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মেহেরপুর মুজিবনগর সীমান্তের ১০৫ নং পিলার শূন্যরেখায় জাহানারা বেগমের মরদেহ আনা হয়।

সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দর্শনের সুযোগ পান। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিজিবি শুধু সুরক্ষা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে থাকে।

এই ধরনের ঘটনা সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে আস্থা ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন রচনা করে।” বিজিবি ও বিএসএফ-এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকবে। ক

সীমান্তে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিকতাও যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে, তার এক অনন্য প্রমাণ এই আয়োজন।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

বিজিবির মানবিকতায় মায়ের মরদেহের শেষ দর্শন পেলেন মেয়ে

Update Time : ০৭:১৪:০৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৫

 

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতিনিধি

আজ শনিবার (৬ সেপ্টম্বর) বিকেলে চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. নাজমুল হাসান স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ভারতের নদিয়া জেলার হৃদয়পুর গ্রামের বাসিন্দা জাহানারা বেগম (৬৫) দীর্ঘদিন অসুস্থ থাকার পর গতকাল শুক্রবার (০৫ সেপ্টেম্বর) বিকেলে মৃত্যুবরণ্র করেন। মৃত্যুকালে তিনি তিন ছেলে ও দুই মেয়ে রেখে গেছেন।

এর মধ্যে তাঁর এক কন্যা পারভিনা বেগম বহু বছর আগে বৈবাহিক সূত্রে মেহেরপুর জেলার মুজিবনগর উপজেলার আনন্দবাস গ্রামে স্বামী-সন্তান নিয়ে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন।

মাতৃবিয়োগের করুণ সংবাদে ভেঙে পড়া এই কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দেখার জন্য চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়নের (৬ বিজিবি) নিকট আকুতি জানালে বিজিবি সেটিকে একজন সন্তানের চিরন্তন অধিকারের আবেদন হিসেবে গ্রহণ করে।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি) বিষয়টিকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দ্রুত ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ-এর সঙ্গে যোগাযোগ করে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, আজ শনিবার (০৬ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সহযোগীতায় সকাল ১০ টা থেকে ১০ টা ২০ মিনিট পর্যন্ত মেহেরপুর মুজিবনগর সীমান্তের ১০৫ নং পিলার শূন্যরেখায় জাহানারা বেগমের মরদেহ আনা হয়।

সেখানে দাঁড়িয়ে বাংলাদেশে বসবাসরত তাঁর কন্যা শেষবারের মতো মায়ের মুখ দর্শনের সুযোগ পান। হৃদয়বিদারক এ দৃশ্যে উপস্থিত সকলেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন।

চুয়াডাঙ্গা ব্যাটালিয়ন (৬ বিজিবি)-এর অধিনায়ক লে. কর্ণেল নাজমুল হাসান বলেন, “সীমান্তের নিরাপত্তা ও আস্থার প্রতীক” মূলমন্ত্রকে সামনে রেখে বিজিবি শুধু সুরক্ষা নয়, বরং মানবিক মূল্যবোধকেও সর্বোচ্চ মর্যাদা দিয়ে থাকে।

এই ধরনের ঘটনা সীমান্তবর্তী মানুষের মধ্যে আস্থা ও সৌহার্দ্যের সেতুবন্ধন রচনা করে।” বিজিবি ও বিএসএফ-এর সমন্বয়ে গড়ে ওঠা এই ঘটনা দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও পারস্পরিক মানবিক সহমর্মিতার উজ্জ্বল নিদর্শন হয়ে থাকবে। ক

সীমান্তে শুধু নিরাপত্তা নয়, মানবিকতাও যে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার পেতে পারে, তার এক অনন্য প্রমাণ এই আয়োজন।