০৫:০৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ১০ মিনিটের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৫:১৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫
  • ৩০৪৪ বার পঠিত হয়েছে

 

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতনিধি

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় হাটাহাটি করার সময় মোছাঃ চায়না খাতুন (৬৩) নামের এক বৃদ্ধা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।

আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধা ০৭ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যায়।

এদিকে, মায়ের মৃত্যু দেখে ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫) হাসপাতালেই মাথাঘুরে পড়ে যান। দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত. ঘোষনা করেন। অর্থাৎ প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই মা-ছেলে দুজনই মারা যান। এমন দৃশ্য দেখার পর ওয়ার্ডের রোগী-স্বজন এমনকি ডিউটিরত নার্সদেরও কাদতে দেখা যায়।

বৃদ্ধা চায়না খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার মৃত. আলাউদ্দিনের স্ত্রী।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সন্ধার দিকে চায়না খাতুন নিজ এলাকায় হাটাহাটি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথাঘুরে পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ডিউটিরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রোমানা খাতুন বলেন, বৃদ্ধ নারী ভর্তি হবার কিছুক্ষন পর অবনতি হলে চিকিৎসককে জানানো হয়। পরে জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এরই মধ্যে ওই নারীর জন্য ওষুধ কিনতে তার ছেলেকে ফার্মেসিতে পাঠানো হয়। এরই মাঝে তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালের সিড়ি দিয়ে নামার সময় মাথাঘুরে পড়ে যান। পরবর্তীতে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর তাকেও মৃত ঘোষনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এমন মৃত্যু খুবই কম দেখেছি। আমাদেরও অনেক খারাপ লাগছে। ডিউটি করতে গিয়ে এমন হৃয়দবিদায়ক ঘটনার সাক্ষী হতে হলো।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইসরাত জেরিন জেসি বলে, ওই নারীকে ভর্তির প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপরই তার ছেলে মাথাঘুরে পড়ে গেলে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে তাকেও মৃত ঘোষনা করা হয়।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

চুুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ১০ মিনিটের ব্যবধানে মা-ছেলের মৃত্যু।

Update Time : ০৫:১৮:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৩ আগস্ট ২০২৫

 

মোঃ মিনারুল ইসলাম
চুুয়াডাঙ্গা জেলা প্রতনিধি

চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকায় হাটাহাটি করার সময় মোছাঃ চায়না খাতুন (৬৩) নামের এক বৃদ্ধা হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরবর্তীতে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসলে কিছুক্ষণ পরই তিনি মারা যান।

আজ শনিবার (২৩ আগস্ট) সন্ধা ০৭ টার দিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যায়।

এদিকে, মায়ের মৃত্যু দেখে ছেলে সাইফুল ইসলাম (৪৫) হাসপাতালেই মাথাঘুরে পড়ে যান। দ্রুত জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকেও মৃত. ঘোষনা করেন। অর্থাৎ প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যেই মা-ছেলে দুজনই মারা যান। এমন দৃশ্য দেখার পর ওয়ার্ডের রোগী-স্বজন এমনকি ডিউটিরত নার্সদেরও কাদতে দেখা যায়।

বৃদ্ধা চায়না খাতুন চুয়াডাঙ্গা পৌর এলাকার বাগানপাড়ার মৃত. আলাউদ্দিনের স্ত্রী।

পারিবারিক সুত্রে জানা যায়, সন্ধার দিকে চায়না খাতুন নিজ এলাকায় হাটাহাটি করছিলেন। এ সময় হঠাৎ মাথাঘুরে পড়ে মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত হয় তিনি। পরে তাকে উদ্ধার করে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। কিছুক্ষণ পর চিকিৎসারত অবস্থায় তিনি মারা যান।

মহিলা সার্জারি ওয়ার্ডে ডিউটিরত সিনিয়র স্টাফ নার্স রোমানা খাতুন বলেন, বৃদ্ধ নারী ভর্তি হবার কিছুক্ষন পর অবনতি হলে চিকিৎসককে জানানো হয়। পরে জরুরি বিভাগ থেকে চিকিৎসক এসে তাকে মৃত ঘোষনা করেন।

এরই মধ্যে ওই নারীর জন্য ওষুধ কিনতে তার ছেলেকে ফার্মেসিতে পাঠানো হয়। এরই মাঝে তিনি মায়ের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন। পরে হাসপাতালের সিড়ি দিয়ে নামার সময় মাথাঘুরে পড়ে যান। পরবর্তীতে তাকে জরুরি বিভাগে নিয়ে গেলে পরিক্ষা-নিরিক্ষার পর তাকেও মৃত ঘোষনা করেন।

তিনি আরও বলেন, এমন মৃত্যু খুবই কম দেখেছি। আমাদেরও অনেক খারাপ লাগছে। ডিউটি করতে গিয়ে এমন হৃয়দবিদায়ক ঘটনার সাক্ষী হতে হলো।

চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালের জরুরি বিভাগের ইসরাত জেরিন জেসি বলে, ওই নারীকে ভর্তির প্রায় ১৫ মিনিট পর তিনি চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। এরপরই তার ছেলে মাথাঘুরে পড়ে গেলে জরুরি বিভাগে নিয়ে আসলে তাকেও মৃত ঘোষনা করা হয়।