১২:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গঙ্গাচড়ার দুই শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:১৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫
  • ৩০৭১ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‌্যাব-১৩’র অভিযানে দুই শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামী আজাহারুল ইসলাম গ্রেফতার।

বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
জানানো হয়, গত ৫ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের ন্যায় আব্দুর রহমান (০৮) ও মারুফ (০৬) নামের দুই শিশু বাড়ির অদুরে ঘাঘট নদী সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলন পয়েন্টে পাথর কুড়ানোর উদ্দেশ্যে যায়। শিশু দুটি পাথর কুড়ানোর কারনে বালু উত্তোলন পয়েন্টের মালিক আজাহারুল ইসলাম তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের সহায়তায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে লোক জানাজানির ভয়ে গুম করার উদ্দেশ্যে বালুর পয়েন্টে বালু চাপা দিয়ে রাখে।

সারাদিন পেরিয়ে গেলেও শিশুরা বাসায় না ফেরায় শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকে ব্যাপক প্রচার করেও খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে অভিভাবকগণ সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরদিন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে উল্লেখিত বালু উত্তোলনের পয়েন্ট থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশু দুটির মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয়রা। প্রথমে একটি শিশু আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করলেও শিশু মারুফের মরদেহটি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মেশিন লাগিয়ে বালু সরানোর পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় শিশু দুটির পক্ষে শিশু আব্দুর রহমানের পিতা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২/২৬১, তাং-০৭/০৮/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে আসামীদের গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ রংপুর এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর গ্রামের জুয়েল হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তির বাড়ী থেকে আজাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব। গ্রেফতারকৃত আজাহারুল ইসলাম (৩৮) রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার অন্তর্ভুক্ত সিট পাইকান গ্রামের মৃত পেনসুল মিয়ার ছেলে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

গঙ্গাচড়ার দুই শিশু হত্যা মামলার প্রধান আসামী র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার

Update Time : ০৭:১৭:০০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৫

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‌্যাব-১৩’র অভিযানে দুই শিশুকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় গঙ্গাচড়া মডেল থানায় দায়ের করা হত্যা মামলার প্রধান আসামী আজাহারুল ইসলাম গ্রেফতার।

বাদীর দায়ের করা এজাহারের বরাত দিয়ে র‍্যাব-১৩’র অধিনায়কের পক্ষে সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে
জানানো হয়, গত ৫ আগস্ট সকালে প্রতিদিনের ন্যায় আব্দুর রহমান (০৮) ও মারুফ (০৬) নামের দুই শিশু বাড়ির অদুরে ঘাঘট নদী সংলগ্ন এলাকায় বালু উত্তোলন পয়েন্টে পাথর কুড়ানোর উদ্দেশ্যে যায়। শিশু দুটি পাথর কুড়ানোর কারনে বালু উত্তোলন পয়েন্টের মালিক আজাহারুল ইসলাম তাদের উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার সহযোগীদের সহায়তায় নৃশংসভাবে হত্যা করে। পরে লোক জানাজানির ভয়ে গুম করার উদ্দেশ্যে বালুর পয়েন্টে বালু চাপা দিয়ে রাখে।

সারাদিন পেরিয়ে গেলেও শিশুরা বাসায় না ফেরায় শিশুদের পরিবার ও স্থানীয় মানুষজন খোঁজাখুঁজির পাশাপাশি বিভিন্ন এলাকায় মাইকে ব্যাপক প্রচার করেও খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয়ে অভিভাবকগণ সংশ্লিষ্ট থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন।

পরদিন খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে উল্লেখিত বালু উত্তোলনের পয়েন্ট থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় শিশু দুটির মরদেহ খুঁজে পায় স্থানীয়রা। প্রথমে একটি শিশু আব্দুর রহমানের মরদেহ উদ্ধার করলেও শিশু মারুফের মরদেহটি ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা মেশিন লাগিয়ে বালু সরানোর পর উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

এ ঘটনায় শিশু দুটির পক্ষে শিশু আব্দুর রহমানের পিতা আব্দুর রশিদ বাদী হয়ে রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া মডেল থানায় হত্যা মামলা দায়ের করেন। যার মামলা নং-১২/২৬১, তাং-০৭/০৮/২০২৫ খ্রিঃ, ধারা- ৩০২/২০১/৩৪ পেনাল কোড ১৮৬০।

ঘটনাটি বিভিন্ন প্রিন্ট, অনলাইন ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে। ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে আমলে নিয়ে আসামীদের গ্রেফতারে ছায়াতদন্ত শুরু করে র‍্যাব।

এরই ধারাবাহিকতায় ৩১ অক্টোবর সকাল সাড়ে নয়টার দিকে গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাব-১৩ রংপুর এর সিপিএসসি ক্যাম্পের একটি চৌকস আভিযানিক দল লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম থানার অন্তর্ভুক্ত মোহাম্মদপুর গ্রামের জুয়েল হোসেন নামে জনৈক ব্যক্তির বাড়ী থেকে আজাহারুল ইসলামকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয় র‍্যাব। গ্রেফতারকৃত আজাহারুল ইসলাম (৩৮) রংপুর জেলার গঙ্গাচড়া থানার অন্তর্ভুক্ত সিট পাইকান গ্রামের মৃত পেনসুল মিয়ার ছেলে। পরবর্তীতে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামীকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।