নিজস্ব প্রতিবেদক
সৌদি আরবে তিন বছর কারাভোগের পর দেশে ফিরেছেন এক প্রবাসী বাংলাদেশি। বিদেশের মাটিতে দীর্ঘ কারাজীবন, অর্থনৈতিক ক্ষতি ও নানা প্রতিকূলতার পর দেশে ফিরে স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলার কথা ছিল তার। কিন্তু দেশে ফেরার পর রাজধানীর আশকোনা হাজি ক্যাম্পের কাছে একটি ছোট নন-এসি সেলুনে গিয়ে তিনি পড়েন ভিন্ন এক অভিজ্ঞতায়।
ঘটনার বর্ণনা অনুযায়ী, সেলুনে চুল-দাড়ি সেভ এবং হালকা ফেসিয়াল করানোর পর ওই ব্যক্তির কাছে বিল হিসেবে চাওয়া হয় সাড়ে ৪ হাজার টাকা। দীর্ঘ তিন বছর দেশে না থাকায় তিনি স্বাভাবিকভাবেই এত বেশি বিল শুনে বিস্মিত হয়ে পড়েন। তার ধারণা ছিল, এ ধরনের সেবার জন্য কয়েকশ টাকার বেশি বিল হওয়ার কথা নয়।
বিলের পরিমাণ নিয়ে সেলুন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার কথা কাটাকাটি শুরু হয়। পরিস্থিতি আরও জটিল হওয়ার আশঙ্কায় শেষ পর্যন্ত তিনি বাড়িতে ফোন করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা আনেন এবং সেলুনের বিল পরিশোধ করেন বলে জানা গেছে।
পরে বিষয়টি স্থানীয় থানায় জানানো হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। অভিযোগকারীর দাবি, সেখানে গিয়ে পুলিশ জানতে পারে—ওই সেলুনের বিরুদ্ধে একইভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। তবে বিষয়টি নিয়ে সেলুন কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও পুলিশের আনুষ্ঠানিক তদন্তের ফলাফল এখনো বিস্তারিতভাবে জানা যায়নি।
ওই প্রবাসীর জীবনের গল্পটিও কম কষ্টের নয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবে থাকা অবস্থায় তার কফিল অর্থ-পয়সা নিয়ে তার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা করেন। এরপর তাকে দীর্ঘ তিন বছর কারাগারে থাকতে হয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময় হারানোর পাশাপাশি অর্থনৈতিকভাবেও তিনি সর্বস্বান্ত হয়েছেন বলে জানা গেছে।
অবশেষে দেশে ফিরে নিজের মাটিতে পা রাখার পর সামান্য পরিচর্যার জন্য একটি সেলুনে গিয়ে সাড়ে ৪ হাজার টাকার বিলের মুখোমুখি হওয়ায় তিনি হতবাক হয়ে যান।
প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। পরিবার-পরিজন ছেড়ে বছরের পর বছর বিদেশে শ্রম দিয়ে দেশে অর্থ পাঠান তারা। তাই দেশে ফেরার পর তাদের সঙ্গে প্রতারণা, অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা কোনো ধরনের হয়রানি হলে তা শুধু একজন ব্যক্তির ক্ষতি নয়—এটি প্রবাসী শ্রমজীবী মানুষের প্রতি সামাজিক দায়বদ্ধতারও প্রশ্ন তোলে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের মতে, কোনো সেবার মূল্য নির্ধারিত থাকলে তা গ্রাহকের কাছে স্পষ্টভাবে জানানো উচিত। সেবা নেওয়ার আগে মূল্য তালিকা প্রকাশ ও বিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা জরুরি। অভিযোগ সত্য হলে সংশ্লিষ্ট সেলুনের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি একই ধরনের অভিযোগ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
তিন বছর সৌদি আরবের কারাগারে কাটিয়ে দেশে ফিরে যদি একজন মানুষ নিজের দেশেই এমন অভিজ্ঞতার শিকার হন, তাহলে স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন ওঠে—প্রবাসফেরত মানুষগুলো নিরাপদ ও সম্মানজনক সেবা পাবেন কোথায়?
প্রবাসীরা শুধু অর্থ পাঠানো মানুষ নন; তারা দেশের সম্পদ। তাদের সঙ্গে প্রতারণা ও অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ বন্ধে কার্যকর নজরদারি ও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি উঠেছে।




















