বিশেষ কলাম
একজন শিশুর জন্ম কোথায় হয়েছে—শহরের অভিজাত এলাকায়, নাকি প্রত্যন্ত গ্রামের কোনো সাধারণ পরিবারে; তার বাবা-মায়ের আর্থিক সামর্থ্য কতটুকু; তার বিদ্যালয়ে কতজন দক্ষ শিক্ষক আছেন; বাড়িতে ইন্টারনেট ও কম্পিউটার আছে কি না—এসব কি তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে?
নাকি তার ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে তার মেধা, পরিশ্রম ও সম্ভাবনা?সভ্য রাষ্ট্রের উত্তর হওয়া উচিত—মেধা ও পরিশ্রম।কিন্তু বাস্তবতা অনেক সময় অন্য কথা বলে।
একই দেশের দুই শিশু একই বয়সে বিদ্যালয়ে ভর্তি হলেও তাদের শিক্ষার সুযোগ এক নয়। একজন হয়তো উন্নত বিদ্যালয়, দক্ষ শিক্ষক, প্রযুক্তি, ব্যক্তিগত পড়াশোনা, নিরাপদ পরিবেশ ও পর্যাপ্ত পুষ্টির সুবিধা পাচ্ছে। অন্যজন হয়তো শিক্ষক সংকট, আর্থিক অসচ্ছলতা, প্রযুক্তির অভাব, যাতায়াতের সমস্যা কিংবা পারিবারিক চাপের মধ্যে পড়াশোনা করছে।
তারপরও আমরা দুজনকে একই পরীক্ষার খাতায় বসিয়ে বলি—“প্রতিযোগিতা করো।”তখনই প্রশ্নটি সামনে আসে—সুযোগ যখন সমান নয়, প্রতিযোগিতা কীভাবে সমান হবে? এটি শুধু বাংলাদেশের প্রশ্ন নয়। এটি আজকের বিশ্বের অন্যতম বড় শিক্ষা-প্রশ্ন।
জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা—SDG 4—সবার জন্য অন্তর্ভুক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক ও মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার কথা বলে। কিন্তু ২০২৬ সালের UNESCO Global Education Monitoring Report বলছে, ২০২৪ সালে বিশ্বে প্রায় ২৭ কোটি ৩০ লাখ শিশু ও তরুণ স্কুলের বাইরে ছিল। একই প্রতিবেদনে দেখা যায়, শিক্ষা ক্ষেত্রে লিঙ্গ, ভৌগোলিক অবস্থান, সম্পদ ও প্রতিবন্ধিতার ভিত্তিতে বৈষম্য এখনো বড় বাস্তবতা।
অর্থাৎ পৃথিবী এখনো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করতে পারেনি, যেখানে জন্মপরিচয় বা আর্থিক অবস্থান একজন শিশুর শিক্ষার সম্ভাবনাকে নির্ধারণ করবে না।বাংলাদেশ গত কয়েক দশকে শিক্ষায় প্রবেশাধিকার বাড়ানোর ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি করেছে। কিন্তু শুধু বিদ্যালয়ে ভর্তি করানোই শিক্ষার শেষ কথা নয়।
বিশ্বব্যাংকের Bangladesh Learning Poverty Brief 2024 অনুযায়ী, বাংলাদেশে প্রাথমিক শিক্ষার শেষ পর্যায়ের বয়সী শিশুদের প্রায় ৫১ শতাংশ পড়া বুঝে পড়ার ন্যূনতম দক্ষতায় পৌঁছাতে পারেনি। অর্থাৎ একটি শিশু স্কুলে যাচ্ছে—কিন্তু সে বয়স অনুযায়ী প্রয়োজনীয় মৌলিক শেখার দক্ষতা অর্জন করছে কি না, সেটিই এখন বড় প্রশ্ন।
এই তথ্য আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার সামনে একটি কঠিন সত্য তুলে ধরে—বিদ্যালয়ে প্রবেশের সুযোগ এবং মানসম্মত শিক্ষা পাওয়ার সুযোগ এক জিনিস নয়।একটি শিশুকে স্কুলে নিয়ে যাওয়া প্রথম ধাপ।তাকে শেখানো, তার সম্ভাবনা বিকশিত করা এবং তাকে ভবিষ্যতের কর্মজগতের জন্য প্রস্তুত করাই আসল কাজ।আমরা প্রায়ই বলি—সব শিক্ষার্থী একই বই পাচ্ছে, তাই সবার সুযোগ সমান।
কিন্তু বাস্তবতা এত সরল নয়।একজন শিক্ষার্থী বইয়ের পাশাপাশি পাচ্ছে—দক্ষ শিক্ষক;ডিজিটাল ডিভাইস;ইন্টারনেট;ব্যক্তিগত পড়াশোনার সুযোগ;কোচিং বা অতিরিক্ত সহায়তা;ভালো পরিবেশ;পুষ্টিকর খাবার;শিক্ষিত পরিবারের সহায়তা।
অন্যদিকে আরেকজন শিক্ষার্থীর কাছে হয়তো বইটিই একমাত্র শিক্ষাসামগ্রী।দুই শিশুকে একই বই দেওয়া হয়েছে—কিন্তু তাদের শেখার পরিবেশ কি একই? না। আর এখানেই শিক্ষায় প্রকৃত সমতার প্রশ্ন।একটি শিশুর শিক্ষা শুধু বিদ্যালয়ের খরচে সীমাবদ্ধ নয়।যাতায়াত, পোশাক, বই-খাতা, ডিভাইস, ইন্টারনেট, অতিরিক্ত পড়াশোনা—সবকিছু মিলিয়ে শিক্ষার একটি বাস্তব ব্যয় রয়েছে।
বিশ্বব্যাপীও পরিবারের ওপর শিক্ষার ব্যয় একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। UNESCO-এর সাম্প্রতিক শিক্ষা অর্থায়ন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, বিশ্বে মোট শিক্ষা ব্যয়ের প্রায় এক-চতুর্থাংশ পরিবারগুলো বহন করে। একই সঙ্গে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলোর ওপর এই ব্যয়ের চাপ তুলনামূলকভাবে বেশি হতে পারে।
এখানে প্রশ্ন হলো—শিক্ষা কি ধনী পরিবারের সন্তানের জন্য দ্রুত এগিয়ে যাওয়ার পথ এবং দরিদ্র পরিবারের সন্তানের জন্য টিকে থাকার সংগ্রাম হয়ে যাবে?
যদি এমন হয়, তাহলে শিক্ষা সামাজিক বৈষম্য কমানোর বদলে বৈষম্যকে পুনরুৎপাদন করার মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।
বাংলাদেশের শিক্ষা নিয়ে আলোচনা করতে গেলে শহর ও গ্রামের ব্যবধান এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই।
একটি শহুরে শিক্ষার্থী হয়তো আধুনিক ল্যাব, কম্পিউটার, দ্রুত ইন্টারনেট, ভাষা শিক্ষা, দক্ষ শিক্ষক ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমের সুযোগ পাচ্ছে।
অন্যদিকে গ্রামের বা প্রত্যন্ত এলাকার একজন শিক্ষার্থী হয়তো প্রয়োজনীয় শিক্ষক, প্রযুক্তি কিংবা শিক্ষা উপকরণ থেকে বঞ্চিত।
তারপরও পরীক্ষার প্রশ্ন একই।মূল্যায়নের মানদণ্ড একই।প্রত্যাশাও একই।কিন্তু প্রস্তুতির সুযোগ? এক নয়। তাহলে প্রতিযোগিতার ফলাফলকে আমরা কতটা ন্যায্য বলব? এখানে সমতা মানে সবাইকে একই জিনিস দেওয়া নয়।
২০২৬ সালের UNESCO GEM Report-এও শিক্ষা অর্থায়নে এই নীতির ওপর জোর দেওয়া হয়েছে—শিক্ষার সম্পদ ও সহায়তা যেন পিছিয়ে থাকা ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের কাছে বেশি কার্যকরভাবে পৌঁছায়। প্রতিবেদনের নতুন Equitable Financing in Education Index শিক্ষা ও সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার অর্থায়ন কতটা সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে, তা পরিমাপের একটি কাঠামো দিয়েছে।
একজন শিশুর মেধা তার জন্মের সময় একটি সম্ভাবনা হিসেবে থাকে।কিন্তু সেই সম্ভাবনা বিকশিত হয় পরিবেশ, শিক্ষা, পুষ্টি, পরিবার, শিক্ষক, প্রযুক্তি ও সামাজিক সুযোগের মাধ্যমে। একজন দরিদ্র পরিবারের মেধাবী শিশু যদি ভালো শিক্ষক না পায়, প্রযুক্তি না পায়, বই না পায়, নিরাপদ শিক্ষার পরিবেশ না পায়—তাহলে তার মেধা কীভাবে বিকশিত হবে?
তাই শুধু বলা—“যে মেধাবী সে এগিয়ে যাবে”—বাস্তবতার পুরোটা নয়।
প্রশ্ন হলো—মেধাবী হওয়ার পর তাকে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ আমরা কতটা দিচ্ছি? শিক্ষক একটি শিক্ষা ব্যবস্থার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানবসম্পদ। একজন ভালো শিক্ষক সীমিত সম্পদের মধ্যেও শিক্ষার্থীর সম্ভাবনা জাগিয়ে তুলতে পারেন। কিন্তু শিক্ষক সংকট, প্রশিক্ষণের ঘাটতি কিংবা অসম বণ্টন থাকলে শিক্ষা বৈষম্য আরও বাড়তে পারে।
তাই শুধু কতজন শিক্ষক নিয়োগ হলো—এই হিসাব যথেষ্ট নয়।দেখতে হবে—কোথায় শিক্ষক গেলেন?কোন বিষয়ে শিক্ষক নেই?প্রত্যন্ত বিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষক ধরে রাখা যাচ্ছে কি না?শিক্ষকরা আধুনিক প্রযুক্তি ও শিক্ষণপদ্ধতির সঙ্গে কতটা পরিচিত?
শিক্ষা ব্যবস্থার প্রকৃত মান নির্ধারণে এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।কোচিং নিয়ে বিতর্ক নতুন নয়।কিন্তু বিষয়টি শুধু কোচিং ভালো না খারাপ—এভাবে দেখলে সমস্যার গভীরে যাওয়া যাবে না।
মূল প্রশ্ন হলো—যে পরিবার অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় করে সন্তানের জন্য কোচিং, প্রাইভেট শিক্ষক, ডিভাইস ও অন্যান্য সহায়তা কিনতে পারে এবং যে পরিবার পারে না—তাদের প্রতিযোগিতা কি একই জায়গা থেকে শুরু হচ্ছে?
যদি না হয়, তাহলে শিক্ষা ব্যবস্থার দায়িত্ব হলো বিদ্যালয়কেন্দ্রিক মানসম্মত শিক্ষা এতটাই শক্তিশালী করা, যাতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের ওপর শিক্ষার্থীর সাফল্য অতিরিক্তভাবে নির্ভর না করে।
পরীক্ষা প্রয়োজন।মূল্যায়নও প্রয়োজন।কিন্তু একটি পরীক্ষার ফল একজন মানুষের সম্পূর্ণ মেধা বা সম্ভাবনার চূড়ান্ত পরিচয় হতে পারে না।একজন শিক্ষার্থী হয়তো গণিতে অসাধারণ নয়, কিন্তু সে অসাধারণ লেখক হতে পারে।কেউ হয়তো পরীক্ষায় মাঝারি, কিন্তু প্রযুক্তিতে অসাধারণ।কেউ হয়তো বইয়ের প্রশ্নে দুর্বল, কিন্তু বাস্তব সমস্যা সমাধানে দক্ষ।তাই ভবিষ্যতের শিক্ষা ব্যবস্থায় শুধু নম্বর নয়—
চিন্তা, সৃজনশীলতা, সমস্যা সমাধান, যোগাযোগ, নেতৃত্ব, প্রযুক্তি ব্যবহার ও বাস্তব দক্ষতার মূল্যায়নও গুরুত্বপূর্ণ।
বিশ্ব এখন এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে, যেখানে একটি দেশের শিক্ষার্থীকে শুধু দেশের আরেক শিক্ষার্থীর সঙ্গে নয়—বিশ্বের শিক্ষার্থীদের সঙ্গেও প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্রযুক্তি এই প্রতিযোগিতাকে আরও তীব্র করেছে।আগামী দিনের চাকরি ও অর্থনীতিতে প্রয়োজন হবে এমন মানুষ, যারা নতুন কিছু শিখতে পারে, প্রযুক্তি ব্যবহার করতে পারে, তথ্য বিশ্লেষণ করতে পারে এবং পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারে।
অতএব শিক্ষা ব্যবস্থাকে শুধু ‘পরীক্ষার বাজারের’ জন্য নয়, বিশ্বের কর্মবাজারের জন্য শিক্ষার্থী তৈরি করতে হবে।অর্থ অবশ্যই প্রয়োজন।কিন্তু শুধু বরাদ্দ বাড়ালেই সমতা নিশ্চিত হয় না।অর্থ কোথায় যাচ্ছে—সেটিই বড় প্রশ্ন।
UNESCO-এর ২০২৬ সালের বৈশ্বিক তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের মধ্যম সরকারি শিক্ষা ব্যয় ছিল জিডিপির ৪.২ শতাংশ এবং মোট সরকারি ব্যয়ের ১২.৬ শতাংশ। কিন্তু মাত্র ২২ শতাংশ দেশের মতো দেশ একই সঙ্গে জিডিপির অন্তত ৪ শতাংশ এবং সরকারি ব্যয়ের অন্তত ১৫ শতাংশ—এই দুই আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক পূরণ করেছে।
আরও গুরুত্বপূর্ণ হলো, UNESCO বলছে শিক্ষা অর্থায়নের ক্ষেত্রে শুধু অর্থের পরিমাণ নয়, কাকে কতটা দেওয়া হচ্ছে—সেটিও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
অর্থাৎ একই পরিমাণ টাকা দুই জায়গায় ব্যয় করলেও ফল একই নাও হতে পারে।একটি দরিদ্র এলাকার বিদ্যালয়ে অতিরিক্ত বিনিয়োগ হয়তো একটি শিশুর পুরো শিক্ষাজীবন বদলে দিতে পারে।
প্রকৃত সমতা মানে সবাইকে একই প্রশ্নপত্র দেওয়া নয়।প্রকৃত সমতা মানে—যে শিশুর বই নেই, তাকে বই দেওয়া। যে শিশুর প্রযুক্তি নেই, তাকে প্রযুক্তির সুযোগ দেওয়া। যে বিদ্যালয়ে দক্ষ শিক্ষক নেই, সেখানে দক্ষ শিক্ষক পাঠানো। যে পরিবার শিক্ষার অতিরিক্ত ব্যয় বহন করতে পারে না, তাদের জন্য সহায়তা তৈরি করা। যে শিশু প্রতিবন্ধকতার কারণে পিছিয়ে আছে, তাকে প্রয়োজনীয় সহায়ক ব্যবস্থা দেওয়া। যে অঞ্চল পিছিয়ে আছে, সেখানে বেশি বিনিয়োগ করা।
অর্থাৎ—সমান ফল চাইলে সবসময় সমান সম্পদ নয়; প্রয়োজন অনুযায়ী ন্যায্য সম্পদ বণ্টন করতে হয়।
এটাই শিক্ষা ন্যায়ের মূল দর্শন।আমাদের শিক্ষা নীতিতে একটি মৌলিক পরিবর্তন প্রয়োজন।শিক্ষার সাফল্য শুধু কতজন স্কুলে ভর্তি হলো, কতজন পরীক্ষা দিল বা কতজন পাস করল—এ দিয়ে মাপা যাবে না।মাপতে হবে—কে শিখল?কতটা শিখল?কে পিছিয়ে রইল?কেন পিছিয়ে রইল?তার জন্য কী ব্যবস্থা নেওয়া হলো?
প্রতিটি শিক্ষা বাজেটের সঙ্গে তাই একটি Equity Audit বা সমতা নিরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে।
দেখতে হবে—শহর ও গ্রামের মধ্যে অর্থ বরাদ্দের পার্থক্য;বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষক ও অবকাঠামোর বৈষম্য;দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের জন্য সহায়তা;প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের সুযোগ;প্রযুক্তি ব্যবহারের বৈষম্য;শিক্ষার্থীর শেখার ফলাফল;এবং সরকারি ব্যয়ের বাস্তব প্রভাব।
কারণ শিক্ষা খাতে শুধু “কত খরচ হলো”—এই প্রশ্ন নয়।
প্রশ্ন হওয়া উচিত—এই ব্যয়ে সবচেয়ে পিছিয়ে থাকা শিশুটি কতটা এগিয়ে গেল?”একটি জাতির সবচেয়ে বড় অন্যায় তখনই ঘটে, যখন একটি শিশুকে তার মেধা দিয়ে নয়, তার জন্মপরিস্থিতি দিয়ে ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে বাধ্য করা হয়।
একজন শিশুর বাবা দরিদ্র—এটি তার অপরাধ নয়।সে প্রত্যন্ত গ্রামে জন্মেছে—এটিও তার অপরাধ নয়।তার পরিবার প্রযুক্তি কিনতে পারে না—এটিও তার অপরাধ নয়।তাহলে তার স্বপ্ন কেন ছোট হবে?তার প্রতিযোগিতার মাঠ কেন অসম হবে?তার সম্ভাবনা কেন জন্মপরিচয়ের কাছে পরাজিত হবে?
রাষ্ট্রের দায়িত্ব হলো এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করা, যেখানে একজন শিশুর জন্মস্থান তার ভবিষ্যতের সীমা নির্ধারণ করবে না।
কারণ—মেধার কোনো ঠিকানা নেই।স্বপ্নের কোনো শ্রেণি নেই।প্রতিভার কোনো শহর-গ্রাম নেই। কিন্তু সেই মেধা, স্বপ্ন ও প্রতিভাকে বিকশিত করার জন্য সুযোগের প্রয়োজন।আর সেই সুযোগ নিশ্চিত করার দায়িত্ব রাষ্ট্র ও সমাজের।তাই আজ আমাদের সবচেয়ে জরুরি প্রশ্ন—এই প্রশ্নের উত্তর আমরা যতদিন না খুঁজছি, ততদিন শিক্ষায় সাফল্যের অনেক পরিসংখ্যান থাকলেও শিক্ষায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে—এ কথা বলার সুযোগ থাকবে না।
একটি উন্নত রাষ্ট্র শুধু বড় অর্থনীতি তৈরি করে না।একটি ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র এমন একটি শিক্ষা ব্যবস্থা তৈরি করে, যেখানে—একজন দরিদ্র শিশুও ধনী শিশুর মতো স্বপ্ন দেখার অধিকার রাখে,একজন গ্রামের শিশুও শহরের শিশুর মতো সুযোগ পায়,এবং একজন মেধাবী শিশু তার জন্মপরিস্থিতির কারণে পিছিয়ে পড়ে না।
কারণ শিক্ষা তখনই সত্যিকার অর্থে সফল, যখন একটি শিশুর ভবিষ্যৎ তার জন্ম নয়—তার সম্ভাবনা নির্ধারণ করে।



















