০৪:১১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০৬২ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে একদল সেনাসদস্যের হামলায় তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের উপস্থিত সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

সেদিনের ঘটনায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিহত হন তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল এবং ছোট ভাই শেখ নাসের। একই সময় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও কয়েকজন নিহত হন।

দেশের বাইরে অবস্থান করায় শেখ মুজিবুর রহমানের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান। শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়। পরিবারের অন্য নিহত সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ছয় দফা আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্বে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর শাসনামল যেমন রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, তেমনি সে সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও ছিল। বাংলাপিডিয়ার ইতিহাসভিত্তিক পর্যালোচনায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের পাশাপাশি তৎকালীন সংকট ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়। এর পরপরই দেশে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

৫১ বছর পরও ১৫ আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সময়ের পরিবর্তন সত্ত্বেও ইতিহাসের এই ঘটনাকে তথ্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষতার আলোকে মূল্যায়ন করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের এই হত্যাকাণ্ডে নিহত সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কালিকাপুর পশ্চিম রেলক্রসিংয়ে ভাঙা ব্যারিয়ার, ঝুঁকিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ গেটম্যান নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর—আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা

শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ

Update Time : ১২:৪৫:৪১ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

ঢাকা, ১৫ আগস্ট ২০২৬: বাংলাদেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক নেতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্ট ভোরে ধানমন্ডির ৩২ নম্বরের বাসভবনে একদল সেনাসদস্যের হামলায় তিনি নিহত হন। একই ঘটনায় তাঁর পরিবারের উপস্থিত সদস্যদেরও হত্যা করা হয়।

সেদিনের ঘটনায় শেখ মুজিবুর রহমানের সঙ্গে নিহত হন তাঁর স্ত্রী ফজিলাতুন নেছা মুজিব, তিন ছেলে শেখ কামাল, শেখ জামাল ও শেখ রাসেল, শেখ কামালের স্ত্রী সুলতানা কামাল, শেখ জামালের স্ত্রী রোজী জামাল এবং ছোট ভাই শেখ নাসের। একই সময় বঙ্গবন্ধুর ভগ্নিপতি আবদুর রব সেরনিয়াবাতের পরিবারের কয়েকজন সদস্য, বঙ্গবন্ধুর ভাগ্নে শেখ ফজলুল হক মণি ও তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী আরজু মণিসহ আরও কয়েকজন নিহত হন।

দেশের বাইরে অবস্থান করায় শেখ মুজিবুর রহমানের দুই মেয়ে শেখ হাসিনা ও শেখ রেহানা ওই হত্যাকাণ্ড থেকে প্রাণে বেঁচে যান। শেখ মুজিবুর রহমানকে তাঁর জন্মস্থান গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় দাফন করা হয়। পরিবারের অন্য নিহত সদস্যদের ঢাকার বনানী কবরস্থানে দাফন করা হয়।

১৯২০ সালের ১৭ মার্চ গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় জন্মগ্রহণ করেন শেখ মুজিবুর রহমান। ব্রিটিশ শাসনের অবসানের পর পূর্ব পাকিস্তানের রাজনীতিতে তিনি সক্রিয় হয়ে ওঠেন। ভাষা আন্দোলন, যুক্তফ্রন্টের নির্বাচন এবং ছয় দফা আন্দোলনের মতো গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক পর্বে তাঁর ভূমিকা ছিল উল্লেখযোগ্য।

১৯৬৮ সালে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলায় তাঁকে প্রধান আসামি করা হয়। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে তিনি কারামুক্ত হন। এরপর ছাত্র-জনতার পক্ষ থেকে তাঁকে ‘বঙ্গবন্ধু’ উপাধিতে ভূষিত করা হয়।

১৯৭১ সালের ৭ মার্চ তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে দেওয়া তাঁর ঐতিহাসিক ভাষণ বাংলাদেশের স্বাধীনতার সংগ্রামের ইতিহাসে গুরুত্বপূর্ণ স্থান করে নেয়। পরবর্তী সময়ে মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে স্বাধীন বাংলাদেশের অভ্যুদয় ঘটে।

স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান বাংলাদেশের রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নেন। তাঁর শাসনামল যেমন রাষ্ট্র পুনর্গঠন ও স্বাধীন বাংলাদেশের প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি তৈরির গুরুত্বপূর্ণ সময় ছিল, তেমনি সে সময়ের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক নানা সিদ্ধান্ত নিয়ে সমালোচনাও ছিল। বাংলাপিডিয়ার ইতিহাসভিত্তিক পর্যালোচনায় তাঁর সরকারের বিভিন্ন সাফল্যের পাশাপাশি তৎকালীন সংকট ও একদলীয় ব্যবস্থা প্রবর্তনের বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টের হত্যাকাণ্ড বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি গভীর ও বেদনাবিধুর অধ্যায় হিসেবে স্থান করে নেয়। এর পরপরই দেশে একাধিক সামরিক অভ্যুত্থান ও পাল্টা অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে।

৫১ বছর পরও ১৫ আগস্টের ঘটনা বাংলাদেশের ইতিহাস, রাজনীতি ও রাষ্ট্রীয় বিবর্তনের আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। রাজনৈতিক মতপার্থক্য ও সময়ের পরিবর্তন সত্ত্বেও ইতিহাসের এই ঘটনাকে তথ্য, প্রমাণ ও নিরপেক্ষতার আলোকে মূল্যায়ন করাই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। একই সঙ্গে ১৯৭৫ সালের এই হত্যাকাণ্ডে নিহত সব মানুষের প্রতি শ্রদ্ধা ও তাঁদের পরিবারের প্রতি সহমর্মিতা জানানো হয়।