০৭:১০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬
  • ৩০২৭ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় সোয়া তিন বছর পর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বঙ্গভবন থেকে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন।

জানা গেছে, বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। পরে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ব্রিফিং দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। এ সময় বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার তখন রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা আবারও সামনে আসে। এর মধ্যে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ৯ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তার ওই সফরের সময় এ যোগাযোগের অভিযোগ সামনে আসে।

তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক অঙ্গনে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

পদত্যাগ করেছেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন

Update Time : ০৬:০৩:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার 

দায়িত্ব গ্রহণের প্রায় সোয়া তিন বছর পর রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন মো. সাহাবুদ্দিন। শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে বঙ্গভবন থেকে তার স্বাক্ষরিত পদত্যাগপত্র জাতীয় সংসদে পাঠানো হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপতির সামরিক সচিব মেজর জেনারেল এএসএম বাহাউদ্দিন।

জানা গেছে, বিকেল ৪টা ২৫ মিনিটে তিনি জাতীয় সংসদে পৌঁছে স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রমের কাছে রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র হস্তান্তর করেন। পরে স্পিকার আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র গ্রহণ করেন।

সাংবিধানিক বিধান অনুযায়ী, নতুন রাষ্ট্রপতি দায়িত্ব গ্রহণ না করা পর্যন্ত স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করবেন। এ বিষয়ে শুক্রবার বিকেল ৫টায় জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে ব্রিফিং দেওয়ার কথা রয়েছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকেই রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে জোরালোভাবে উত্থাপিত হয়। এ সময় বঙ্গভবন ঘেরাওসহ নানা কর্মসূচিও পালন করা হয়। তবে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার স্বার্থে অন্তর্বর্তী সরকার তখন রাষ্ট্রপতি পদে পরিবর্তনের উদ্যোগ নেয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়।

পরবর্তীতে গত ফেব্রুয়ারির নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের আলোচনা আবারও সামনে আসে। এর মধ্যে গত মে মাসে চিকিৎসার জন্য লন্ডন সফরকালে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের টেলিফোনে যোগাযোগ হয়েছিল বলে গোয়েন্দা সূত্রের বরাতে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। ৯ থেকে ১৮ মে পর্যন্ত তার ওই সফরের সময় এ যোগাযোগের অভিযোগ সামনে আসে।

তবে এ বিষয়ে রাষ্ট্রপতির কার্যালয় থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি এবং অভিযোগগুলোর স্বাধীনভাবে সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

সর্বশেষ রাষ্ট্রপতির পদত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশের সাংবিধানিক অঙ্গনে নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। এখন সংবিধান অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছে।