০৭:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সংবাদ উপস্থাপনা: কণ্ঠের উচ্চতা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতাই মূল শক্তি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬
  • ৩০২৯ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সংবাদ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কিন্তু মাধ্যম যতই আধুনিক হোক, সংবাদ পরিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে—সেটি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা।

অনেকের ধারণা, সংবাদ উপস্থাপনা মানেই উচ্চস্বরে, নাটকীয় ভঙ্গিতে কিংবা আবেগময় কণ্ঠে কথা বলা। বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়। সংবাদ উপস্থাপনার মূল শক্তি কখনোই কণ্ঠের উচ্চতা নয়; বরং শুদ্ধ উচ্চারণ, স্পষ্ট ভাষা, যথাযথ গতি, বস্তুনিষ্ঠতা, আত্মবিশ্বাস এবং সংযত উপস্থাপনাই একজন দক্ষ সংবাদ উপস্থাপকের প্রকৃত পরিচয়। সংবাদ উপস্থাপকের কাজ দর্শককে চমকে দেওয়া নয়, বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে মানুষ সহজেই তা বুঝতে পারে এবং সেই তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

সংবাদ উপস্থাপক মূলত সংবাদমাধ্যমের মুখপাত্র। তাঁর কণ্ঠেই দর্শক সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা উপলব্ধি করেন। তাই তাঁর প্রতিটি শব্দচয়ন, উচ্চারণ, বিরতি, অভিব্যক্তি এবং উপস্থাপনার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল উচ্চারণ, অতিরঞ্জিত ভঙ্গি কিংবা অপ্রয়োজনীয় আবেগ কখনো কখনো সংবাদটির গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে। একজন দক্ষ সংবাদ উপস্থাপক জানেন, কোথায় কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে এবং কোথায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

অন্যদিকে, একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাঁকে মাঠে যেতে হয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, বিভিন্ন সূত্র যাচাই করতে হয় এবং প্রতিটি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হয়। কোনো তথ্য সংগ্রহ করলেই সেটি সংবাদ হয়ে যায় না; বরং তথ্যকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা, প্রাসঙ্গিকতা মূল্যায়ন করা এবং সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকাশযোগ্য করে তোলাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের অন্যতম দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের কারণে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপতথ্য খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপকের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। কারণ মানুষ এখন শুধু তথ্য নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের সন্ধান করে। একটি ভুল সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, এমনকি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশ বা উপস্থাপনের আগে তথ্য যাচাই করার কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ উপস্থাপকের অন্যতম গুণ হলো নিরপেক্ষতা। ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা আবেগ কখনোই সংবাদ উপস্থাপনার অংশ হতে পারে না। সংবাদ উপস্থাপককে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হয়, যাতে দর্শক তথ্য গ্রহণ করেন, কিন্তু উপস্থাপকের ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা না পান। এই নিরপেক্ষতাই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে তোলে।

একইভাবে সাংবাদিকতার প্রাণ হলো নৈতিকতা। সত্য প্রকাশের সাহস, তথ্যের নির্ভুলতা, জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করা এবং ক্ষমতার কাছে নয়, সত্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকা—এসবই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য। সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য কখনো উত্তেজনা সৃষ্টি করা নয়; বরং তথ্যভিত্তিক বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।

অনেক সময় দেখা যায়, সংবাদকে আকর্ষণীয় করার নামে অতিরঞ্জিত শিরোনাম, নাটকীয় উপস্থাপনা কিংবা অপ্রয়োজনীয় আবেগের আশ্রয় নেওয়া হয়। স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনে রাখতে হবে, মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হলো আস্থা। একবার সেই আস্থা হারিয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।

একজন সাংবাদিক ও একজন সংবাদ উপস্থাপক—দুজনের কাজ ভিন্ন হলেও তাঁদের লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন। সাংবাদিক মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন, সত্যতা যাচাই করেন এবং সংবাদ তৈরি করেন। সংবাদ উপস্থাপক সেই সংবাদকে প্রাঞ্জল, সংযত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। এই দুই পেশার মধ্যে সমন্বয় যত বেশি হবে, সংবাদ তত বেশি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে।

বিশ্বের উন্নত সংবাদমাধ্যমগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠস্বরের জোর নয়, বরং তথ্যের নির্ভুলতা, ভাষার শুদ্ধতা, উপস্থাপনার সংযম এবং পেশাদারিত্বকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ সংবাদ কোনো নাট্যাভিনয় নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সাংবাদিকতা কেবল জীবিকা নির্বাহের একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। একজন সাংবাদিকের কলম এবং একজন সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠ—উভয়ই জনস্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই তাঁদের প্রতিটি কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সত্য, সততা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।

পরিশেষে বলা যায়, সংবাদ উপস্থাপনার সাফল্য কখনো কণ্ঠের উচ্চতায় নয়; বরং তথ্যের প্রতি সম্মান, ভাষার শুদ্ধতা, উপস্থাপনার সংযম এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্যেই নিহিত। কারণ সংবাদে মানুষের প্রথম চাওয়া উত্তেজনা নয়, সত্য। আর সত্যকে নির্ভুল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরাই একজন প্রকৃত সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপকের সর্বোচ্চ সাফল্য।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

সংবাদ উপস্থাপনা: কণ্ঠের উচ্চতা নয়, বিশ্বাসযোগ্যতাই মূল শক্তি

Update Time : ০৯:১৯:০৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৬ জুলাই ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার,সাংবাদিক ও কলামিস্ট

আজকের তথ্যপ্রযুক্তিনির্ভর বিশ্বে সংবাদ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ। টেলিভিশন, রেডিও, সংবাদপত্র কিংবা অনলাইন প্ল্যাটফর্ম—সবখানেই সংবাদ পরিবেশনের ধরন বদলেছে। প্রযুক্তির অগ্রগতির সঙ্গে সঙ্গে সংবাদ পৌঁছে যাচ্ছে মুহূর্তের মধ্যেই বিশ্বের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে। কিন্তু মাধ্যম যতই আধুনিক হোক, সংবাদ পরিবেশনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি আজও অপরিবর্তিত রয়েছে—সেটি হলো বিশ্বাসযোগ্যতা।

অনেকের ধারণা, সংবাদ উপস্থাপনা মানেই উচ্চস্বরে, নাটকীয় ভঙ্গিতে কিংবা আবেগময় কণ্ঠে কথা বলা। বাস্তবে এই ধারণা সঠিক নয়। সংবাদ উপস্থাপনার মূল শক্তি কখনোই কণ্ঠের উচ্চতা নয়; বরং শুদ্ধ উচ্চারণ, স্পষ্ট ভাষা, যথাযথ গতি, বস্তুনিষ্ঠতা, আত্মবিশ্বাস এবং সংযত উপস্থাপনাই একজন দক্ষ সংবাদ উপস্থাপকের প্রকৃত পরিচয়। সংবাদ উপস্থাপকের কাজ দর্শককে চমকে দেওয়া নয়, বরং তথ্যকে এমনভাবে উপস্থাপন করা, যাতে মানুষ সহজেই তা বুঝতে পারে এবং সেই তথ্যের ওপর আস্থা রাখতে পারে।

সংবাদ উপস্থাপক মূলত সংবাদমাধ্যমের মুখপাত্র। তাঁর কণ্ঠেই দর্শক সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা উপলব্ধি করেন। তাই তাঁর প্রতিটি শব্দচয়ন, উচ্চারণ, বিরতি, অভিব্যক্তি এবং উপস্থাপনার ধরন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি ভুল উচ্চারণ, অতিরঞ্জিত ভঙ্গি কিংবা অপ্রয়োজনীয় আবেগ কখনো কখনো সংবাদটির গ্রহণযোগ্যতাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তুলতে পারে। একজন দক্ষ সংবাদ উপস্থাপক জানেন, কোথায় কতটুকু আবেগ প্রকাশ করতে হবে এবং কোথায় সম্পূর্ণ নিরপেক্ষ থাকতে হবে।

অন্যদিকে, একজন সাংবাদিকের দায়িত্ব আরও বিস্তৃত ও চ্যালেঞ্জপূর্ণ। সংবাদ সংগ্রহের জন্য তাঁকে মাঠে যেতে হয়, মানুষের সঙ্গে কথা বলতে হয়, বিভিন্ন সূত্র যাচাই করতে হয় এবং প্রতিটি তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করতে হয়। কোনো তথ্য সংগ্রহ করলেই সেটি সংবাদ হয়ে যায় না; বরং তথ্যকে একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্রের মাধ্যমে যাচাই করা, প্রাসঙ্গিকতা মূল্যায়ন করা এবং সংবাদমাধ্যমের সম্পাদকীয় নীতিমালা অনুসরণ করে প্রকাশযোগ্য করে তোলাই একজন পেশাদার সাংবাদিকের অন্যতম দায়িত্ব।

বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের দ্রুত বিস্তারের কারণে গুজব, বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং অপতথ্য খুব সহজেই ছড়িয়ে পড়ছে। এমন বাস্তবতায় সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপকের দায়িত্ব আরও বেড়েছে। কারণ মানুষ এখন শুধু তথ্য নয়, নির্ভরযোগ্য তথ্যের সন্ধান করে। একটি ভুল সংবাদ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করতে পারে, সামাজিক অস্থিরতা তৈরি করতে পারে, এমনকি ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের অপূরণীয় ক্ষতির কারণও হতে পারে। তাই সংবাদ প্রকাশ বা উপস্থাপনের আগে তথ্য যাচাই করার কোনো বিকল্প নেই।

সংবাদ উপস্থাপকের অন্যতম গুণ হলো নিরপেক্ষতা। ব্যক্তিগত মতামত, রাজনৈতিক বিশ্বাস কিংবা আবেগ কখনোই সংবাদ উপস্থাপনার অংশ হতে পারে না। সংবাদ উপস্থাপককে এমনভাবে সংবাদ পরিবেশন করতে হয়, যাতে দর্শক তথ্য গ্রহণ করেন, কিন্তু উপস্থাপকের ব্যক্তিগত অবস্থান সম্পর্কে কোনো ধারণা না পান। এই নিরপেক্ষতাই গণমাধ্যমের প্রতি মানুষের আস্থা গড়ে তোলে।

একইভাবে সাংবাদিকতার প্রাণ হলো নৈতিকতা। সত্য প্রকাশের সাহস, তথ্যের নির্ভুলতা, জনগণের জানার অধিকারকে সম্মান করা এবং ক্ষমতার কাছে নয়, সত্যের কাছে দায়বদ্ধ থাকা—এসবই একজন প্রকৃত সাংবাদিকের বৈশিষ্ট্য। সাংবাদিকতার উদ্দেশ্য কখনো উত্তেজনা সৃষ্টি করা নয়; বরং তথ্যভিত্তিক বাস্তবতা তুলে ধরে জনগণকে সচেতন করা এবং জবাবদিহিমূলক সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখা।

অনেক সময় দেখা যায়, সংবাদকে আকর্ষণীয় করার নামে অতিরঞ্জিত শিরোনাম, নাটকীয় উপস্থাপনা কিংবা অপ্রয়োজনীয় আবেগের আশ্রয় নেওয়া হয়। স্বল্পমেয়াদে এটি হয়তো দর্শকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারে, কিন্তু দীর্ঘমেয়াদে সংবাদমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা ক্ষতিগ্রস্ত হয়। মনে রাখতে হবে, মানুষের কাছে সবচেয়ে মূল্যবান বিষয় হলো আস্থা। একবার সেই আস্থা হারিয়ে গেলে তা পুনরুদ্ধার করা অত্যন্ত কঠিন।

একজন সাংবাদিক ও একজন সংবাদ উপস্থাপক—দুজনের কাজ ভিন্ন হলেও তাঁদের লক্ষ্য এক এবং অভিন্ন। সাংবাদিক মাঠ থেকে তথ্য সংগ্রহ করেন, সত্যতা যাচাই করেন এবং সংবাদ তৈরি করেন। সংবাদ উপস্থাপক সেই সংবাদকে প্রাঞ্জল, সংযত ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের কাছে পৌঁছে দেন। এই দুই পেশার মধ্যে সমন্বয় যত বেশি হবে, সংবাদ তত বেশি গ্রহণযোগ্য ও কার্যকর হবে।

বিশ্বের উন্নত সংবাদমাধ্যমগুলোর দিকে তাকালে দেখা যায়, সেখানে সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠস্বরের জোর নয়, বরং তথ্যের নির্ভুলতা, ভাষার শুদ্ধতা, উপস্থাপনার সংযম এবং পেশাদারিত্বকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ সংবাদ কোনো নাট্যাভিনয় নয়; এটি জনগণের জানার অধিকার নিশ্চিত করার একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম।

সাংবাদিকতা কেবল জীবিকা নির্বাহের একটি পেশা নয়; এটি একটি সামাজিক অঙ্গীকার, একটি নৈতিক দায়িত্ব এবং গণতন্ত্রের অন্যতম শক্তিশালী ভিত্তি। একজন সাংবাদিকের কলম এবং একজন সংবাদ উপস্থাপকের কণ্ঠ—উভয়ই জনস্বার্থ রক্ষার গুরুত্বপূর্ণ হাতিয়ার। তাই তাঁদের প্রতিটি কাজের কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে হবে সত্য, সততা, নিরপেক্ষতা এবং জনগণের প্রতি দায়বদ্ধতা।

পরিশেষে বলা যায়, সংবাদ উপস্থাপনার সাফল্য কখনো কণ্ঠের উচ্চতায় নয়; বরং তথ্যের প্রতি সম্মান, ভাষার শুদ্ধতা, উপস্থাপনার সংযম এবং মানুষের আস্থা অর্জনের মধ্যেই নিহিত। কারণ সংবাদে মানুষের প্রথম চাওয়া উত্তেজনা নয়, সত্য। আর সত্যকে নির্ভুল, দায়িত্বশীল ও বিশ্বাসযোগ্যভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরাই একজন প্রকৃত সাংবাদিক ও সংবাদ উপস্থাপকের সর্বোচ্চ সাফল্য।