০১:৪৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সাভারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক আকস্মিক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে; হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সাভারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, কুপিয়ে আহত ৪

সাভারে সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে সন্ত্রাসী হামলায় কুপিয়ে আহত ব্যক্তিদের রক্তাক্ত জখমের বিভিন্ন চিত্র। ছবি: দৈনিক সরেজমিন।

ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ লেগে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ভাকুর্তা বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাঁদের বহরের গতিরোধ করে। অভিযুক্তদের হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ছেনি, কাঠের লাঠি, ধারালো চাকু, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে মো. আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন সামনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধরের পর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেনের চিৎকার শুনে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনসহ কয়েকজন। তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় রিফাতের হাতে, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আলমগীর হোসেনসহ গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় কয়েকজনকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা মামলা বা আইনের আশ্রয় নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমের হুমকি দিয়েও চলে যায়।

এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

 

এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত গগনের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় এলাকায় তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় গগন ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ওপর বা আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ যদি মনে করে আমাকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। প্রয়োজনে মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমি চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মারামারির বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ্য সড়কে এমন হামলার ঘটনায় ভাকুর্তা এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, এতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

সাভারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে একদল দুর্বৃত্ত কর্তৃক আকস্মিক সন্ত্রাসী হামলার অভিযোগ উঠেছে; হামলায় ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অন্তত ৪ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।

সাভারে বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক আনোয়ার হোসেনের বহরে হামলার অভিযোগ, কুপিয়ে আহত ৪

Update Time : ০১:৪১:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬

ঢাকার সাভার উপজেলার ভাকুর্তা ইউনিয়নের বটতলা বাজার এলাকায় বিশিষ্ট ব্যবসায়ী ও সমাজসেবক মো. আনোয়ার হোসেনের বহরে সশস্ত্র হামলার অভিযোগ উঠেছে। হামলায় তাঁকে রক্ষা করতে গিয়ে অন্তত চারজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে আলমগীর হোসেনের মাথায় ধারালো অস্ত্রের কোপ লেগে গুরুতর জখম হয়। বর্তমানে তিনি সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

ভুক্তভোগী পক্ষের অভিযোগ, গত ১১ জুলাই বিকেল প্রায় ৪টার দিকে একটি সামাজিক অনুষ্ঠান শেষে মো. আনোয়ার হোসেন তাঁর অনুসারীদের নিয়ে নিজ গন্তব্যে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে ভাকুর্তা বটতলা বাজারের তিন রাস্তার মোড়ে আগে থেকেই ওত পেতে থাকা একদল ব্যক্তি তাঁদের বহরের গতিরোধ করে। অভিযুক্তদের হাতে লোহার রড, হাতুড়ি, ছেনি, কাঠের লাঠি, ধারালো চাকু, চাইনিজ কুড়াল ও আগ্নেয়াস্ত্র ছিল বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

 

অভিযোগে বলা হয়, প্রথমে মো. আনোয়ার হোসেনকে লক্ষ্য করে হামলার চেষ্টা চালানো হয়। এ সময় তাঁর ভাই আলমগীর হোসেন সামনে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা তাঁর ওপর এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে বেধড়ক মারধরের পর চাইনিজ কুড়াল দিয়ে মাথায় কোপ দেওয়া হয়। এতে তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। এরপর তাঁর গলা চেপে ধরে হত্যার চেষ্টা করা হয় এবং তাঁর পকেটে থাকা নগদ ২৩ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

আলমগীর হোসেনের চিৎকার শুনে তাঁকে উদ্ধার করতে এগিয়ে আসেন রিফাত, শফিকুল ইসলাম, শাহাদাত হোসেন, শাহিন হোসেন ও তৌহিদ হোসেনসহ কয়েকজন। তাঁদের ওপরও ধারালো অস্ত্র ও লোহার রড দিয়ে হামলা চালানো হয়। হামলায় রিফাতের হাতে, শফিকুল ইসলামের চোখের ওপরে এবং শাহাদাত হোসেনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।

স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। পরে আলমগীর হোসেনসহ গুরুতর আহতদের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসকদের বরাত দিয়ে স্বজনরা জানান, আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।

 

ভুক্তভোগী পরিবারের দাবি, হামলার সময় কয়েকজনকে জোরপূর্বক আটকে রাখার চেষ্টা করা হয়। ঘটনার পর হামলাকারীরা মামলা বা আইনের আশ্রয় নিলে ভুক্তভোগী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের হত্যার পাশাপাশি লাশ গুমের হুমকি দিয়েও চলে যায়।

এ ঘটনায় মফিজুল ইসলাম গগন, নাজম, মানিক মিয়া, অনিক, মোশারফ হোসেন, হোসেন ও সুমনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ৫–৬ জনকে আসামি করে সাভার মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।

 

এলাকার একাধিক বাসিন্দার দাবি, অভিযুক্ত গগনের বিরুদ্ধে অতীতে অস্ত্রসংক্রান্ত একাধিক মামলার অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন সময় এলাকায় তাঁর অনুসারীদের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

হামলার ঘটনায় গগন ও তাঁর সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন ভুক্তভোগীরা। তবে এ বিষয়ে তাঁদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

 

মো. আনোয়ার হোসেন বলেন, “আমার ওপর বা আমার কর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কেউ যদি মনে করে আমাকে মানুষের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন করা যাবে, তাহলে তারা ভুল করছে। মানুষের ভালোবাসাই আমার সবচেয়ে বড় শক্তি। আমি সব সময় মানুষের পাশে ছিলাম, আছি এবং ভবিষ্যতেও থাকব। মানুষের সেবাই আমার একমাত্র লক্ষ্য। প্রয়োজনে মানুষের কল্যাণে নিজের জীবনও উৎসর্গ করতে প্রস্তুত। আমি চাই, ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হোক।

সাভার মডেল থানার অধীন ভাকুর্তা পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, “মারামারির বিষয়টি শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর তদন্ত সাপেক্ষে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রকাশ্য সড়কে এমন হামলার ঘটনায় ভাকুর্তা এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তাঁদের মতে, এতে এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তাবোধ ফিরে আসবে।