১২:১৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রংপুরে জামাই-শ্বশুর জোড়া হত্যার পলাতক আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৩০৪৫ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরে ভাতিজী জামাই এবং চাচা শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যা মামলার, পলাতক আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার। রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মজিদুল ইসলাম (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার(১৩ মার্চ) ভোরে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ অভিযানে মজিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৯ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে রূপলাল রবিদাস (৪০) ও প্রদীপলাল রবিদাসকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এ ঘটনার পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে, মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রুপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাদের দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।

পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রুপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

রংপুরে জামাই-শ্বশুর জোড়া হত্যার পলাতক আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার

Update Time : ০৮:৩৩:৫৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

রংপুরে ভাতিজী জামাই এবং চাচা শ্বশুরকে পিটিয়ে হত্যা মামলার, পলাতক আসামি র‍্যাবের হাতে গ্রেফতার। রংপুরের তারাগঞ্জে চোর সন্দেহে গণপিটুনিতে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মজিদুল ইসলাম (২৪) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। শুক্রবার(১৩ মার্চ) ভোরে উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার মজিদুল ইসলাম তারাগঞ্জ উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামের আলতাফ হোসেনের ছেলে। এ নিয়ে জামাই-শ্বশুর নিহতের ঘটনায় মোট ১৩ জনকে গ্রেফতার করেছে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।

শুক্রবার দুপুরে র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, শুক্রবার ভোররাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাবের একটি আভিযানিক দল উপজেলার ফকিরপাড়া গ্রামে অভিযান চালায়। এ অভিযানে মজিদুল ইসলামকে তার বাড়ি থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গত বছরের ৯ আগস্ট শনিবার দিবাগত রাতে তারাগঞ্জ উপজেলার সয়ার ইউনিয়নের বটতলা এলাকায় চোর সন্দেহে রূপলাল রবিদাস (৪০) ও প্রদীপলাল রবিদাসকে (৪৫) পিটিয়ে হত্যা করে একদল উচ্ছৃঙ্খল জনতা। এ ঘটনার পরদিন ১০ আগস্ট নিহত রূপলাল দাসের স্ত্রী ভারতী রানী বাদী হয়ে তারাগঞ্জ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলায় অজ্ঞাত ৫০০-৭০০ জনকে আসামি করা হয়।

এদিকে, মামলার এজাহারে সূত্রে জানা গেছে, ৯ আগস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে মিঠাপুকুরের ছরান বালুয়া এলাকা থেকে ভাগনির স্বামী প্রদীপ লালকে নিয়ে ভ্যানে করে বাড়ি ফিরছিলেন রুপলাল দাস। পথে সয়ার ইউনিয়নের বুড়িরহাট বটতলা মোড়ে স্থানীয় কয়েকজন তাদের গতিরোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করেন।

একপর্যায়ে প্রদীপের কাছে থাকা কালো ব্যাগ তল্লাশি করে একটি পানীয়ের বোতল ও ওষুধ পান। বোতলের ঢাকনা খোলার পর দুর্গন্ধে কয়েকজন অসুস্থ হয়ে পড়লে উত্তেজিত জনতা তাদের দুজনকে বিদ্যালয়ের মাঠে নিয়ে গণপিটুনি দেয়।

পরে তাদের উদ্ধার করে তারাগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে রুপলালকে মৃত ঘোষণা করা হয়। আর রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় পরদিন ভোরে প্রদীপ লালের মৃত্যু হয়। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ধৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।