০৩:৫৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজারবাগে শহিদ পুলিশদের প্রতি নবনিযুক্ত আইজিপির শ্রদ্ধা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৭২ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার: নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুরো আনুষ্ঠানিকতা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেই গৌরবগাঁথা স্মরণ করেই নবনিযুক্ত আইজিপি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেন, শহিদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস। তাঁদের আদর্শ, সাহস ও দেশপ্রেম ধারণ করেই আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়; এটি জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক। শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করা।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ–এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা এ সময় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নবনিযুক্ত আইজিপির এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে পুলিশের ঐতিহ্য রক্ষার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ দমন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা জোরদার—এসব ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকা–এর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত হয়। জাতীয় দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়ে থাকে।

নবনিযুক্ত আইজিপির প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন—পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্য, দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

রাজারবাগে শহিদ পুলিশদের প্রতি নবনিযুক্ত আইজিপির শ্রদ্ধা

Update Time : ০১:৪৮:৪৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার: নবনিযুক্ত ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মোঃ আলী হোসেন ফকির আজ বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় রাজারবাগ পুলিশ লাইনস প্রাঙ্গণে অবস্থিত পুলিশ স্মৃতিসৌধে পুষ্পস্তবক অর্পণ করে মহান মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছেন।

স্মৃতিসৌধে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণের পর তিনি কিছুক্ষণ নীরবে দাঁড়িয়ে শহিদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করেন। এ সময় একটি সুসজ্জিত পুলিশ দল গার্ড অব অনার প্রদান করে। পুরো আনুষ্ঠানিকতা ছিল অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ ও ভাবগম্ভীর পরিবেশে সম্পন্ন।

বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামের সূচনালগ্নে ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চ রাতে রাজারবাগ পুলিশ লাইনে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে প্রথম সশস্ত্র প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন বীর পুলিশ সদস্যরা। তাঁদের আত্মত্যাগ জাতির ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে চিরস্মরণীয় হয়ে আছে। সেই গৌরবগাঁথা স্মরণ করেই নবনিযুক্ত আইজিপি শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান।

শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে আইজিপি মোঃ আলী হোসেন ফকির বলেন, শহিদ পুলিশ সদস্যদের আত্মত্যাগ দেশের আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর জন্য অনুপ্রেরণার চিরন্তন উৎস। তাঁদের আদর্শ, সাহস ও দেশপ্রেম ধারণ করেই আধুনিক, দক্ষ ও জনবান্ধব পুলিশ বাহিনী গড়ে তোলার অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন তিনি।

তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ পুলিশ কেবল আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নয়; এটি জনগণের আস্থা ও নিরাপত্তার প্রতীক। শহিদদের রক্তের ঋণ শোধ করার একমাত্র পথ হলো সততা, পেশাদারিত্ব ও মানবিকতা দিয়ে দায়িত্ব পালন করা।”

অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ পুলিশ–এর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন। অতিরিক্ত আইজিপি, ডিআইজি, মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারসহ বিভিন্ন ইউনিটের প্রধানরা এ সময় স্মৃতিসৌধ প্রাঙ্গণে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।

নবনিযুক্ত আইজিপির এই শ্রদ্ধা নিবেদনকে পুলিশের ঐতিহ্য রক্ষার ধারাবাহিকতা হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি, সাইবার অপরাধ দমন, জঙ্গিবাদ প্রতিরোধ এবং জননিরাপত্তা জোরদার—এসব ক্ষেত্রে নতুন নেতৃত্বের কার্যকর ভূমিকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেছেন কর্মকর্তারা।

উল্লেখ্য, রাজধানী ঢাকা–এর রাজারবাগ পুলিশ লাইনে অবস্থিত এই স্মৃতিসৌধটি মুক্তিযুদ্ধে শহিদ পুলিশ সদস্যদের স্মরণে নির্মিত হয়। জাতীয় দিবসসহ গুরুত্বপূর্ণ দিনগুলোতে এখানে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়ে থাকে।

নবনিযুক্ত আইজিপির প্রথম আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি হিসেবে শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা নিবেদন—পুলিশ বাহিনীর ঐতিহ্য, দায়বদ্ধতা ও দেশপ্রেমের প্রতীক হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।