০৩:৫৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গুলশান কার্যালয় থেকে মন্ত্রিসভায়: জাকারিয়া তাহেরের উত্থানের গল্প

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৭০ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র গুলশান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাই, দমন-পীড়ন ও উত্তাল সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে এই বাড়িটি। বহু বছর ধরে এটি দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত ধারণা—বাড়িটি বিএনপির নিজস্ব সম্পত্তি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গুলশানের এই বাড়িটির মালিক বর্তমান মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ সালের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়িটি উন্মুক্ত করে দেন তিনি। দীর্ঘ দেড় দশক পুলিশি বেষ্টনী ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও কার্যালয়টি সরিয়ে না নেওয়াকে অনেকেই তার দলীয় একনিষ্ঠতার নিদর্শন হিসেবে দেখেন।

কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান প্রায় চারগুণ বলে জানা গেছে। আসনের সবকটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে তিনি একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের নিজ নামে রয়েছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। এ হিসাবে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

১৯৬৫ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া তাহের। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ। তিনি কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।

পিতার মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবারের নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।

এ কে এম আবু তাহের ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাকারিয়া তাহের বর্তমানে ব্যাংকটির একজন পরিচালক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগেও বরুড়ায় তাহের পরিবারের সক্রিয়তা রয়েছে।

জাকারিয়া তাহেরের মন্ত্রীত্ব লাভে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলাজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা বরুড়ার এই সন্তান তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শুধু নিজ এলাকা নয়, সারাদেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করবেন।

গুলশানের সেই রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মন্ত্রিসভায়—জাকারিয়া তাহেরের এই যাত্রা এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচ্য বিষয়।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

গুলশান কার্যালয় থেকে মন্ত্রিসভায়: জাকারিয়া তাহেরের উত্থানের গল্প

Update Time : ১১:৩২:২১ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার: বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-র গুলশান কার্যালয় দীর্ঘদিন ধরেই দেশের রাজনীতির এক গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। ২০০৮ সালের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে নানা চড়াই-উৎরাই, দমন-পীড়ন ও উত্তাল সময়ের সাক্ষী হয়ে আছে এই বাড়িটি। বহু বছর ধরে এটি দলটির চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে পরিচিত।

রাজনৈতিক অঙ্গনে প্রচলিত ধারণা—বাড়িটি বিএনপির নিজস্ব সম্পত্তি। তবে বিভিন্ন সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, গুলশানের এই বাড়িটির মালিক বর্তমান মন্ত্রিসভার গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ সালের প্রতিকূল রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে দলীয় চেয়ারপারসনের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহারের জন্য বাড়িটি উন্মুক্ত করে দেন তিনি। দীর্ঘ দেড় দশক পুলিশি বেষ্টনী ও প্রশাসনিক চাপের মধ্যেও কার্যালয়টি সরিয়ে না নেওয়াকে অনেকেই তার দলীয় একনিষ্ঠতার নিদর্শন হিসেবে দেখেন।

কুমিল্লা-৮ আসন থেকে নির্বাচিত জাকারিয়া তাহের এবারের নির্বাচনে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানে জয় লাভ করেন। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-র প্রার্থী শফিকুল আলম হেলাল। প্রাপ্ত ভোটের ব্যবধান প্রায় চারগুণ বলে জানা গেছে। আসনের সবকটি কেন্দ্রে বিজয়ী হয়ে তিনি একটি অনন্য নজির স্থাপন করেছেন।

হলফনামা অনুযায়ী, জাকারিয়া তাহেরের নিজ নামে রয়েছে ২৩১ কোটি ৪১ লাখ ৪৬ হাজার ৯৭১ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ। এ হিসাবে তিনি নতুন মন্ত্রিসভার অন্যতম শীর্ষ ধনী মন্ত্রী হিসেবে বিবেচিত হচ্ছেন।

১৯৬৫ সালে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার আদ্রা ইউনিয়নের সোনাইমুড়ী গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন জাকারিয়া তাহের। তিনি যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিজনেস ম্যানেজমেন্টে বিএসসি ডিগ্রি অর্জন করেন। তার বাবা এ কে এম আবু তাহের ছিলেন দেশের বিশিষ্ট শিল্পপতি ও রাজনীতিবিদ। তিনি কুমিল্লা-৮ আসন থেকে ১৯৯১, ১৯৯৬ ও ২০০১ সালের নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচিত হন।

পিতার মৃত্যুর পর ২০০৪ সালের উপনির্বাচনে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন জাকারিয়া তাহের। ২০০৮ ও ২০১৮ সালের নির্বাচনে পরাজিত হলেও এবারের নির্বাচনে বিশাল ব্যবধানে জয়লাভ করে পুনরায় জাতীয় রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছেন।

এ কে এম আবু তাহের ছিলেন ন্যাশনাল ব্যাংক লিমিটেড-এর প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। জাকারিয়া তাহের বর্তমানে ব্যাংকটির একজন পরিচালক। রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবামূলক উদ্যোগেও বরুড়ায় তাহের পরিবারের সক্রিয়তা রয়েছে।

জাকারিয়া তাহেরের মন্ত্রীত্ব লাভে কুমিল্লার বরুড়া উপজেলাজুড়ে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা গেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা বরুড়ার এই সন্তান তার দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে শুধু নিজ এলাকা নয়, সারাদেশের মানুষের আস্থা ও ভালোবাসা অর্জন করবেন।

গুলশানের সেই রাজনৈতিক কার্যালয় থেকে মন্ত্রিসভায়—জাকারিয়া তাহেরের এই যাত্রা এখন জাতীয় রাজনীতির আলোচ্য বিষয়।