০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ, মানববন্ধন

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩০৭৩ বার পঠিত হয়েছে

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগ কার্যকর ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল প্রস্তুত এবং ৪৭১ ধারায় জাল দলিল ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের শামিল।
নিয়োগ বাণিজ্যের কাঠামোগত অনিয়ম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়ালকে পরবর্তীতে গোপনে রেজুলেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার অজান্তেই অন্য একজনকে নিয়োগ দেখিয়ে কাগজে-কলমে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ শেখ বলেন,
“কমিটির সিদ্ধান্ত জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে। রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি অপরাধ।”
নিম্নপদেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু লাইব্রেরিয়ান পদেই নয়, আয়া ও ঝাড়ুদার পদেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সুপার মো. শফিকুল ইসলাম একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মাহাতাব মন্ডল বলেন,
“চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরে জানতে পারি, অন্য একজনের নামে কাগজপত্র তৈরি করে বেতন তোলা হচ্ছে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সুপারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারা (জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার), ৪৭১ ধারা (জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের মামলা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা অবিলম্বে সুপার মো. শফিকুল ইসলামের অপসারণ, সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা।

নাগেশ্বরীতে মাদ্রাসা সুপারের বিরুদ্ধে নিয়োগ বাণিজ্য ও জালিয়াতির অভিযোগ, মানববন্ধন

Update Time : ১১:১৯:৪৪ অপরাহ্ন, রোববার, ১৮ জানুয়ারি ২০২৬

কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী উপজেলার কেদার ইউনিয়নের টেপারকুটি দারুল উলুম দাখিল মাদ্রাসায় দীর্ঘদিন ধরে নিয়োগ বাণিজ্য, প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার সুপার মো. শফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
অভিযোগে জানা যায়, বিভিন্ন পদে নিয়োগ দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে তিনি একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা গ্রহণ করেন। পরে ম্যানেজিং কমিটির সিদ্ধান্ত উপেক্ষা করে অবৈধভাবে নিয়োগ কার্যকর ও কাগজপত্র জালিয়াতির মাধ্যমে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) সকাল ১১টায় মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ভুক্তভোগী পরিবার ও এলাকাবাসীর ব্যানারে আয়োজিত মানববন্ধনে এসব অভিযোগ প্রকাশ্যে আসে। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, বিষয়টি কেবল প্রশাসনিক অনিয়ম নয়; বরং এটি বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪২০ ধারায় প্রতারণা, ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারায় জাল দলিল প্রস্তুত এবং ৪৭১ ধারায় জাল দলিল ব্যবহার করে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের শামিল।
নিয়োগ বাণিজ্যের কাঠামোগত অনিয়ম
অনুসন্ধানে জানা গেছে, মাদ্রাসায় লাইব্রেরিয়ান পদে নিয়োগ দেওয়ার কথা বলে একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ নেওয়া হয়। অথচ ম্যানেজিং কমিটির সভায় সর্বসম্মতিক্রমে নির্বাচিত প্রার্থী মো. আব্দুল আউয়ালকে পরবর্তীতে গোপনে রেজুলেশন থেকে বাদ দেওয়া হয়। তার অজান্তেই অন্য একজনকে নিয়োগ দেখিয়ে কাগজে-কলমে বেতন উত্তোলন করা হচ্ছে বলে অভিযোগ ওঠে।
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য ও সাবেক ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মদ শেখ বলেন,
“কমিটির সিদ্ধান্ত জালিয়াতির মাধ্যমে পরিবর্তন করা হয়েছে। রেজুলেশন ও স্বাক্ষর জাল করে নিয়োগ দেখানো হয়েছে, যা সরাসরি অপরাধ।”
নিম্নপদেও অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, শুধু লাইব্রেরিয়ান পদেই নয়, আয়া ও ঝাড়ুদার পদেও চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সুপার মো. শফিকুল ইসলাম একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে অর্থ গ্রহণ করেন। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য মাহাতাব মন্ডল বলেন,
“চাকরি দেওয়ার কথা বলে টাকা নেওয়া হয়েছে, কিন্তু নিয়োগ দেওয়া হয়নি। পরে জানতে পারি, অন্য একজনের নামে কাগজপত্র তৈরি করে বেতন তোলা হচ্ছে।”
আইন বিশেষজ্ঞদের মতে, অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সুপারের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ দণ্ডবিধি ১৮৬০-এর ৪২০ ধারা (প্রতারণা), ৪৬৬ ও ৪৬৮ ধারা (জাল দলিল প্রস্তুত ও ব্যবহার), ৪৭১ ধারা (জাল দলিলকে আসল হিসেবে ব্যবহার) এবং দুর্নীতি দমন কমিশন আইন অনুযায়ী ক্ষমতার অপব্যবহার ও অর্থ আত্মসাতের মামলা হতে পারে।
দীর্ঘদিন ধরে এসব অনিয়ম চললেও প্রশাসনিক তদারকির অভাবে ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় চরম ক্ষোভ তৈরি হয়েছে বলে জানান বক্তারা। তারা অবিলম্বে সুপার মো. শফিকুল ইসলামের অপসারণ, সব অবৈধ নিয়োগ বাতিল, আত্মসাৎ করা অর্থ ফেরত এবং শিক্ষা প্রশাসনের মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানান।
মানববন্ধন শেষে এলাকাবাসী হুঁশিয়ারি দেন, দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে তারা জেলা প্রশাসন, মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের কাছে লিখিত অভিযোগ দাখিলসহ বৃহত্তর আন্দোলনে যাবেন।