০৯:১৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

তীব্র গ্যাস সংকটে এলপিজি আমদানিতে ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৩:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬
  • ৩১১৬ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার

দেশে জ্বালানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রে নীতিগত শিথিলতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এলপিজি আমদানিকারকদের অর্থায়ন সহজ করতে সরবরাহকারী ও ক্রেতা ঋণের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ইউসেন্স সুবিধা অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এখন থেকে এলপিজি আমদানিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ইউসেন্স সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। এর ফলে আমদানিকারকরা পণ্য দেশে আনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন, যা চলমান ডলার সংকট ও ব্যাংকিং খাতের তারল্য চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

বর্তমানে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় এবং এলপিজির সরবরাহ সীমিত থাকায় দেশজুড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংকটের সুযোগে বাজারে এলপিজির দাম সিলিন্ডারভেদে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যেরও ঊর্ধ্বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে দেশীয় পর্যায়ে বোতলজাত করে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহনসহ নানা ধাপে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলপিজিকে শিল্পখাতের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা ক্রেতা ঋণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউসেন্স মেয়াদ অথবা ক্যাশ কনভার্সন সাইকেলের মধ্যে যেটি কম—সে সুবিধা প্রদান করা যায়।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ঋণের পাশাপাশি দেশীয় ব্যাংকগুলো চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে Buyer’s Credit সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে পারবে। একই সঙ্গে, প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও সতর্কতামূলক ঋণ নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও দেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ এলপিজি আমদানিকারকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে করে গ্যাস সংকটের এই সময়ে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

প্রায় ৫২ কোটি টাকার মাদক ধ্বংস করল বিজিবি সীমান্তে নজরদারি জোরদারে বাড়ছে ড্রোন ও সিসিটিভির ব্যবহার

তীব্র গ্যাস সংকটে এলপিজি আমদানিতে ছাড় দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

Update Time : ০৩:১৬:৫১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৩ জানুয়ারি ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার

দেশে জ্বালানি সংকট দিন দিন ভয়াবহ রূপ নেওয়ায় তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) আমদানির ক্ষেত্রে নীতিগত শিথিলতা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এলপিজি আমদানিকারকদের অর্থায়ন সহজ করতে সরবরাহকারী ও ক্রেতা ঋণের আওতায় দীর্ঘমেয়াদি ইউসেন্স সুবিধা অনুমোদন করা হয়েছে।

সোমবার জারি করা এক সার্কুলারে কেন্দ্রীয় ব্যাংক জানায়, এখন থেকে এলপিজি আমদানিতে সর্বোচ্চ ২৭০ দিন পর্যন্ত ইউসেন্স সুবিধা গ্রহণ করা যাবে। এর ফলে আমদানিকারকরা পণ্য দেশে আনার পর নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বিল পরিশোধের সুযোগ পাবেন, যা চলমান ডলার সংকট ও ব্যাংকিং খাতের তারল্য চাপ মোকাবিলায় সহায়ক হবে।

বর্তমানে পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহে বড় ধরনের বিঘ্ন দেখা দেওয়ায় এবং এলপিজির সরবরাহ সীমিত থাকায় দেশজুড়ে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ গ্রাহক ও ব্যবসায়ীরা। অনেক এলাকায় বাসাবাড়ি ও হোটেল-রেস্তোরাঁয় রান্না কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। সংকটের সুযোগে বাজারে এলপিজির দাম সিলিন্ডারভেদে ৩৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা অনেক ক্ষেত্রে সরকার নির্ধারিত মূল্যেরও ঊর্ধ্বে।

বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নির্দেশনায় উল্লেখ করেছে, এলপিজি সাধারণত বাল্ক আকারে আমদানি করা হয় এবং পরবর্তীতে দেশীয় পর্যায়ে বোতলজাত করে বাজারজাত করা হয়। এই পুরো প্রক্রিয়ায় সংরক্ষণ, বোতলজাতকরণ ও পরিবহনসহ নানা ধাপে অতিরিক্ত সময় ব্যয় হয়। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে এলপিজিকে শিল্পখাতের কাঁচামাল হিসেবে গণ্য করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

বিদ্যমান বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবস্থাপনা নীতিমালা অনুযায়ী, শিল্প কাঁচামাল আমদানির ক্ষেত্রে সরবরাহকারী বা ক্রেতা ঋণের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ২৭০ দিনের ইউসেন্স মেয়াদ অথবা ক্যাশ কনভার্সন সাইকেলের মধ্যে যেটি কম—সে সুবিধা প্রদান করা যায়।

সার্কুলারে আরও বলা হয়েছে, সরবরাহকারী ঋণের পাশাপাশি দেশীয় ব্যাংকগুলো চাইলে বিদেশি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে Buyer’s Credit সুবিধা গ্রহণের ব্যবস্থা করতে পারবে। একই সঙ্গে, প্রচলিত বৈদেশিক মুদ্রা বিধি ও সতর্কতামূলক ঋণ নীতিমালা অনুসরণ সাপেক্ষে, তফসিলি ব্যাংকগুলোর অফশোর ব্যাংকিং ইউনিটের মাধ্যমে বিল ডিসকাউন্টিং সুবিধাও দেওয়া যাবে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, বাংলাদেশ ব্যাংকের এই উদ্যোগ এলপিজি আমদানিকারকদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াবে এবং বাজারে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে। এতে করে গ্যাস সংকটের এই সময়ে ভোক্তা পর্যায়ে চাপ কিছুটা হলেও কমবে বলে আশা করা হচ্ছে।