
মোঃ শাহজাহান বাশার
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিকেই এগোচ্ছে দেশের রাজনীতি। কুমিল্লা জেলা মোট ১১টি আসনের ভোটমাঠেও বইছে নির্বাচনি হাওয়া। সূত্র জানায়, সব আসনেই বিএনপির ঘরে ভাগ বসাতে তৎপর জামায়াতে ইসলামী। বিশেষ করে ৫টি আসনে দ্বিমুখী এবং ৬টি আসনে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে। কুমিল্লা-১১ আসনে জামায়াতের আধিপত্য থাকলেও তারা আরও ২–৩টি আসন নিজেরা দখল করার চেষ্টা চালাচ্ছে।
কুমিল্লা-১ (দাউদকান্দি-মেঘনা) :১৯৯১–২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের নেতৃত্বে আসনটি দলটির দখলে ছিল। মাঝে দেড় দশক বিএনপির আসন আওয়ামী লীগের দখলে থাকলেও এবার আবারো বিএনপি প্রার্থী হিসেবে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন মাঠে রয়েছেন। তাদের প্রতিপক্ষ জামায়াতে ইসলামী প্রার্থী মো. মনিরুজ্জামান বাহলুল।
কুমিল্লা-২ (হোমনা-তিতাস) :একসময় বিএনপির শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত আসনে এবার মনোনয়ন পেয়েছেন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুঁইয়া। তবে চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার সাবেক এপিএস ইঞ্জিনিয়ার আবদুল মতিন খান স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নেবেন। এছাড়া জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী নাজিম উদ্দিন মোল্লা এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের যুগ্ম মহাসচিব ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলমও প্রার্থী। এখানে জোটের কারণে জামায়াত ও ইসলামী আন্দোলনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রার্থী নিয়ে আলোচনা রয়েছে।
কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) :বাইস চেয়ারম্যান কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ বিএনপির প্রার্থী। এই আসনটি বিএনপির ঘাঁটি হলেও জামায়াতের প্রার্থী ইউসুফ হাকিম সোহেলও তৎপর।
কুমিল্লা-৪ (দেবিদ্বার) :এখানে বিএনপি প্রার্থী মঞ্জুরুল আহসান মুন্সী। তবে দলের আরেক মনোনয়নপ্রত্যাশী এ এফ এম তারেক মুন্সি এবং এনসিপি প্রার্থী হাসনাত আবদুল্লাহও মাঠে সক্রিয়। জামায়াতের প্রার্থী সাইফুল ইসলাম শহীদ। এখানে ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে।
কুমিল্লা-৫ (বুড়িচং-ব্রাহ্মণপাড়া) :বিএনপি প্রার্থী জসিম উদ্দিন। স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আসতে পারেন এ টি এম মিজানুর রহমান, ব্যারিস্টার আবদুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ। জামায়াত প্রার্থী ড. মোবারক হোসেন। এছাড়াও ব্যারিস্টার সোহরাব খান চৌধুরী ও এবি পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার যোবায়ের আহমেদ ভুঁইয়া নির্বাচনী মাঠে সক্রিয়।
কুমিল্লা-৬ (সদর, সদর দক্ষিণ, সিটি করপোরেশন ও সেনানিবাস) :বিএনপি প্রার্থী মনিরুল হক চৌধুরী। দলের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্বের কারণে মনোনয়নের দাবিতে আরেক প্রার্থী আমিনুর উর রশিদ ইয়াছিন মাঠে। জামায়াত প্রার্থী কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। এছাড়া এবি পার্টির মিয়া মোহাম্মদ তৌফিক এবং এনসিপির নাভিদ নওরোজ শাহও অংশগ্রহণ করছেন।
কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) :এলডিপি মহাসচিব ড. রেদোয়ান আহমেদ গণসংযোগ করছেন। বিএনপি প্রার্থী এখনও চূড়ান্ত হয়নি। উপজেলা বিএনপি সভাপতি আতিকুল আলম শাওন মনোনয়নের জন্য প্রতিযোগী। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা মোশাররফ হোসেন।
কুমিল্লা-৮ (বরুড়া) :বিএনপি প্রার্থী জাকারিয়া তাহের সুমন, জামায়াত প্রার্থী অধ্যাপক মু. শফিকুল আলম হেলাল।
কুমিল্লা-৯ (লাকসাম-মনোহরগঞ্জ) :বিএনপি প্রার্থী আবুল কালাম। স্বতন্ত্র প্রার্থী সামিরা আজিম দোলা। জামায়াত প্রার্থী ড. সৈয়দ এ কে এম সরওয়ার উদ্দিন ছিদ্দিকী। ত্রিমুখী লড়াইয়ের সম্ভাবনা প্রবল।
কুমিল্লা-১০ (নাঙ্গলকোট-লালমাই) :বিএনপি প্রার্থী সাবেক এমপি আবদুল গগুর ভুঁইয়া। মনোনয়নের দাবিতে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মোবাশ্বের আলম ভুঁইয়াও মাঠে। জামায়াত প্রার্থী মাওলানা ইয়াসিন আরাফাত।
কুমিল্লা-১১ (চৌদ্দগ্রাম) :বিএনপি প্রার্থী কামরুল হুদা। জামায়াত প্রার্থী ডা. সৈয়দ আবদুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন, কুমিল্লায় বিএনপির ঘরে ভাগ বসানোর জন্য জামায়াত ব্যাপক প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। বিশেষ করে ত্রিমুখী লড়াইগুলো ভোটের ফলাফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। ভোটাররা কবে কোন প্রার্থীকে ভোট দেবেন, তা এখনই স্পষ্ট নয়।

Reporter Name 



















