০১:৪৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইভটিজিং বন্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা একযোগে প্রতিরোধ করতে হবে

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:০১:০৩ অপরাহ্ন, রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৪৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার,

ইভটিজিং বা নারীদের প্রতি অশ্লীল ও অসম্মানজনক আচরণ বর্তমানে সমাজে এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী কিংবা সাধারণ পথচলতি নারীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ অশ্লীলতা শুধু ভুক্তভোগীদের মানসিক ক্ষতিই করছে না, বরং শিক্ষা, পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থায় এক গভীর সংকট তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভটিজিং কোনো একক সমস্যা নয়, বরং এটি নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অনীহা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের ফলাফল। শুধু আইন দিয়ে এটি প্রতিরোধ সম্ভব নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা—এসবই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। ইতিমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনসহ বিভিন্ন আইন থাকলেও, সঠিক প্রয়োগের ঘাটতির কারণে ইভটিজাররা প্রায়শই আইনের ফাঁক গলে পালিয়ে যায়। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হবে।

শুধু রাষ্ট্র নয়, সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারে ছেলেদের নৈতিক শিক্ষা, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মসজিদ-মন্দিরে ধর্মীয় নেতাদের প্রচার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না উঠলে শুধু পুলিশের উপস্থিতিতে ইভটিজিং বন্ধ হবে না।

প্রতিটি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠন, শিক্ষক-অভিভাবকের নিয়মিত নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক আলোচনা আয়োজন করতে হবে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও বুঝাতে হবে—নারীর প্রতি অসম্মান সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত আন্দোলন এ বিষয়ে জনমত তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু শাস্তির ভয়ে নয়, সামাজিক লজ্জা ও নৈতিক দায়বোধ থেকেই যেন মানুষ ইভটিজিং থেকে বিরত থাকে, সেই পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

ইভটিজিং বন্ধের জন্য শুধু আইন নয়, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন—সবাই মিলে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তবেই এ ব্যাধি নির্মূল সম্ভব। নইলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

ইভটিজিং বন্ধে সামাজিক ও রাষ্ট্রের ভূমিকা একযোগে প্রতিরোধ করতে হবে

Update Time : ০৬:০১:০৩ অপরাহ্ন, রোববার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫

মোঃ শাহজাহান বাশার,

ইভটিজিং বা নারীদের প্রতি অশ্লীল ও অসম্মানজনক আচরণ বর্তমানে সমাজে এক ভয়াবহ সামাজিক ব্যাধি হিসেবে দেখা দিয়েছে। প্রতিদিনই দেশের বিভিন্ন স্থানে স্কুল, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়পড়ুয়া শিক্ষার্থী, কর্মজীবী নারী কিংবা সাধারণ পথচলতি নারীরা ইভটিজিংয়ের শিকার হচ্ছেন। এ অশ্লীলতা শুধু ভুক্তভোগীদের মানসিক ক্ষতিই করছে না, বরং শিক্ষা, পরিবার ও সমাজ ব্যবস্থায় এক গভীর সংকট তৈরি করছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইভটিজিং কোনো একক সমস্যা নয়, বরং এটি নৈতিক অবক্ষয়, সামাজিক অনীহা এবং আইনের দুর্বল প্রয়োগের ফলাফল। শুধু আইন দিয়ে এটি প্রতিরোধ সম্ভব নয়, সমাজ ও রাষ্ট্রকে একযোগে কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে।

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যকর তৎপরতা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর আশপাশে নিরাপত্তা জোরদার, অপরাধীদের দ্রুত বিচারের আওতায় আনা—এসবই রাষ্ট্রের প্রধান দায়িত্ব। ইতিমধ্যে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, তথ্যপ্রযুক্তি আইনসহ বিভিন্ন আইন থাকলেও, সঠিক প্রয়োগের ঘাটতির কারণে ইভটিজাররা প্রায়শই আইনের ফাঁক গলে পালিয়ে যায়। দ্রুত বিচার ও কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে অপরাধীরা নিরুৎসাহিত হবে।

শুধু রাষ্ট্র নয়, সমাজকেও এগিয়ে আসতে হবে। পরিবারে ছেলেদের নৈতিক শিক্ষা, স্কুল-কলেজে সচেতনতামূলক কর্মসূচি, মসজিদ-মন্দিরে ধর্মীয় নেতাদের প্রচার, গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানো অত্যন্ত জরুরি। সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে না উঠলে শুধু পুলিশের উপস্থিতিতে ইভটিজিং বন্ধ হবে না।

প্রতিটি স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ সেল গঠন, শিক্ষক-অভিভাবকের নিয়মিত নজরদারি এবং শিক্ষার্থীদের মাঝে সচেতনতামূলক আলোচনা আয়োজন করতে হবে। মেয়েদের পাশাপাশি ছেলেদেরও বুঝাতে হবে—নারীর প্রতি অসম্মান সমাজের জন্য কতটা ক্ষতিকর।

নারী সংগঠন, মানবাধিকার সংস্থা এবং তরুণ প্রজন্মের সম্মিলিত আন্দোলন এ বিষয়ে জনমত তৈরিতে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে। শুধু শাস্তির ভয়ে নয়, সামাজিক লজ্জা ও নৈতিক দায়বোধ থেকেই যেন মানুষ ইভটিজিং থেকে বিরত থাকে, সেই পরিবেশ গড়ে তোলা অত্যন্ত জরুরি।

ইভটিজিং বন্ধের জন্য শুধু আইন নয়, রাষ্ট্রের পাশাপাশি সমাজের প্রতিটি স্তরের মানুষকে সচেতন হতে হবে। পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও প্রশাসন—সবাই মিলে যৌথভাবে প্রতিরোধ গড়ে তুললে তবেই এ ব্যাধি নির্মূল সম্ভব। নইলে আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম আরও বড় বিপদের মুখে পড়বে।