০১:২২ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি বিএনপি নেতার পুত্রের, থানায় জিডি

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫
  • ৩০৭৪ বার পঠিত হয়েছে

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সাংবাদিক হত্যার হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় জিডি করায় তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেছেন সোহেল আনিছ।

শনিবার ( ২০ সেপ্টেম্বর ) রাতে রাজারহাট থানায় ওই সাংবাদিক ও তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সে। তবে মানহানির মামলা আদালত ছাড়া থানায় রেকর্ড করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল আলম।

অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার রাতে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমানের পুত্র সোহেল আনিছ হত্যার হুমকি দেয় সাংবাদিক আসাদকে। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ হয়। এরপর থেকে আনিছুর রহমান ও তার পুত্র সোহেল আনিছ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুনুরের ন্যায় তারা সাংবাদিক আসাদকে হয়রানি করতে উঠে পরে লাগেন। ২০১৩-১৪ সনে আবুনুর তার লোকজন দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা করেছিলেন সমস্ত মামলায় হয়রানির উদ্দেশ্যে সাংবাদিক আসাদকেও আসামি করা হয়েছিল। নানা অপপ্রচার করলেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশে কুণ্ঠাবোধ করেননি সাংবাদিক আসাদ।

২০২২সনে আবুনুরের মদদপুষ্ট রাজাহাট উপজেলার একজন সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আসাদ দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করায় স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছিল তাকে। এতে করে মনঃক্ষুণ্ণ হন আবুনুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে একদিন ঘটা করে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ওই কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করেন তারা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। এ সময় আবুনুর সাংবাদিক আসাদকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক এবং স্বাধীনতা বিরোধী বলে গালি দিয়েছিলেন। তার বক্তব্য দিয়ে তার দলের কিছু পাতি নেতাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম অপপ্রচার করেননি। তবে তিনি প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহনে থেমে থাকেনি।

আবুনুরের মত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান ও তার ছেলে সোহেল আনিছ এবারে সাংবাদিক আসাদ এবং তার ছোট ভাই আরিফুলকে ফ্যাসিষ্ট প্রমাণ করতে থানায় গিয়েছিলেন সাবেক একজন ওসি’র বিদায় এবং অন্য ওসি’র যোগদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ছবি থাকার বিষয় নিয়ে। গত একবছরে বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ করেননি সাংবাদিক আসাদ, তখন তিনি ভালো ছিলেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় খারাপের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সোহেল আনিছ বিএনপি বা তার কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী নয়। ববং সে বিগত সময় রাজারহাট উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আবুনুরের প্রত্যক্ষ কর্মী ও সমর্থক ছিলেন। সম্প্রতি আবুনুর সহ সোহেল আনিছের ঘনিষ্ঠ মহূর্তের ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ায় বিএনপি নেতার আওয়ামী প্রেমি পুত্র বলে অনেকে সমালোচনা করেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান ও তার পুত্র সোহেল আনিছের কুকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন অনেকে। খোদ রাজারহাট উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা আনিছুর ও তার ছেলের অপকর্মগুলো তদন্ত করে জরুরী দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও জানিয়েছেন । এদিকে পিতার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে তার ছেলের নানা অপকর্মের কারণে জনমনেও দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। বিএনপি আহবায়ক আনিছুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই।

রাজারহাটের মানুষের মুখে মুখে এখন একটি কথা আগে বিএনপি নেতা আনিছুর শ্রমিক ফেডারেশন নেতা রুবেল মিয়াকে কলিজা ছিড়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার ছেলে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আনিছুর ও তার ছেলে সোহেল আনিছ সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল আলম জানান, সাংবাদিক আসাদকে হত্যার হুমকির বিষয়ে একটি জিডি দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় পুকুর থেকে যুবকের ভাসমান মরদেহ উদ্ধার

কুড়িগ্রামে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি বিএনপি নেতার পুত্রের, থানায় জিডি

Update Time : ১০:১৪:২২ পূর্বাহ্ন, রোববার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫

আনোয়ার সাঈদ তিতু, কুড়িগ্রাম জেলা প্রতিনিধি:

কুড়িগ্রাম জেলার রাজারহাট উপজেলায় সাংবাদিক হত্যার হুমকির ঘটনায় ভুক্তভোগী সাংবাদিক থানায় জিডি করায় তার বিরুদ্ধে মানহানির অভিযোগ করেছেন সোহেল আনিছ।

শনিবার ( ২০ সেপ্টেম্বর ) রাতে রাজারহাট থানায় ওই সাংবাদিক ও তার ছোট ভাইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ করে সে। তবে মানহানির মামলা আদালত ছাড়া থানায় রেকর্ড করার সুযোগ নেই বলে জানিয়েছেন রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল আলম।

অভিযোগে জানা যায়, শুক্রবার রাতে রাজারহাট উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমানের পুত্র সোহেল আনিছ হত্যার হুমকি দেয় সাংবাদিক আসাদকে। এ ঘটনায় তিনি থানায় জিডি করেন। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে সংবাদটি প্রকাশ হয়। এরপর থেকে আনিছুর রহমান ও তার পুত্র সোহেল আনিছ বিষয়টি ধামাচাপা দিতে মরিয়া হয়ে ওঠে।

সাবেক উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও উপজেলা চেয়ারম্যান আবুনুরের ন্যায় তারা সাংবাদিক আসাদকে হয়রানি করতে উঠে পরে লাগেন। ২০১৩-১৪ সনে আবুনুর তার লোকজন দিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে যত মামলা করেছিলেন সমস্ত মামলায় হয়রানির উদ্দেশ্যে সাংবাদিক আসাদকেও আসামি করা হয়েছিল। নানা অপপ্রচার করলেও তার বিরুদ্ধে অনিয়ম-দূর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশে কুণ্ঠাবোধ করেননি সাংবাদিক আসাদ।

২০২২সনে আবুনুরের মদদপুষ্ট রাজাহাট উপজেলার একজন সাবেক স্বাস্থ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক আসাদ দুর্নীতির রিপোর্ট প্রকাশ করায় স্টান্ড রিলিজ করা হয়েছিল তাকে। এতে করে মনঃক্ষুণ্ণ হন আবুনুর ও তার সাঙ্গপাঙ্গরা। পরে একদিন ঘটা করে উপজেলা অফিসার্স ক্লাবে ওই কর্মকর্তার বিদায়ী সংবর্ধনার আয়োজন করেন তারা। সংবর্ধনা অনুষ্ঠান সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে লাইভ সম্প্রচার করা হয়। এ সময় আবুনুর সাংবাদিক আসাদকে বিএনপি-জামায়াত সমর্থক এবং স্বাধীনতা বিরোধী বলে গালি দিয়েছিলেন। তার বক্তব্য দিয়ে তার দলের কিছু পাতি নেতাও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কম অপপ্রচার করেননি। তবে তিনি প্রতিবাদ ও আইনি পদক্ষেপ গ্রহনে থেমে থাকেনি।

আবুনুরের মত উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান ও তার ছেলে সোহেল আনিছ এবারে সাংবাদিক আসাদ এবং তার ছোট ভাই আরিফুলকে ফ্যাসিষ্ট প্রমাণ করতে থানায় গিয়েছিলেন সাবেক একজন ওসি’র বিদায় এবং অন্য ওসি’র যোগদান সংক্রান্ত অনুষ্ঠানে সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যানের সাথে ছবি থাকার বিষয় নিয়ে। গত একবছরে বিএনপির ওই নেতার বিরুদ্ধে কোন সংবাদ করেননি সাংবাদিক আসাদ, তখন তিনি ভালো ছিলেন। এখন তাদের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় খারাপের অভিযোগ তার বিরুদ্ধে ।

খোঁজ খবর নিয়ে জানা গেছে, সোহেল আনিছ বিএনপি বা তার কোন অঙ্গ সংগঠনের নেতা কর্মী নয়। ববং সে বিগত সময় রাজারহাট উপজেলা নির্বাচনে উপজেলা আওয়ামীলীগ সভাপতি ও নৌকা প্রতিকের প্রার্থী আবুনুরের প্রত্যক্ষ কর্মী ও সমর্থক ছিলেন। সম্প্রতি আবুনুর সহ সোহেল আনিছের ঘনিষ্ঠ মহূর্তের ১ মিনিট ৩৯ সেকেন্ডের একটি ভিডিও ফাঁস হওয়ায় বিএনপি নেতার আওয়ামী প্রেমি পুত্র বলে অনেকে সমালোচনা করেন।

এদিকে উপজেলা বিএনপির আহবায়ক আনিছুর রহমান ও তার পুত্র সোহেল আনিছের কুকর্মে অতিষ্ঠ হয়ে পরেছেন অনেকে। খোদ রাজারহাট উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতা আনিছুর ও তার ছেলের অপকর্মগুলো তদন্ত করে জরুরী দলীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা উচিত বলেও জানিয়েছেন । এদিকে পিতার রাজনৈতিক পরিচয় দিয়ে তার ছেলের নানা অপকর্মের কারণে জনমনেও দেখা দিয়েছে বিরুপ প্রতিক্রিয়া। বিএনপি আহবায়ক আনিছুরের বিরুদ্ধেও অভিযোগের অন্ত নেই।

রাজারহাটের মানুষের মুখে মুখে এখন একটি কথা আগে বিএনপি নেতা আনিছুর শ্রমিক ফেডারেশন নেতা রুবেল মিয়াকে কলিজা ছিড়ে নেয়ার হুমকি দিয়েছিলেন এবং তার ছেলে সাংবাদিককে হত্যার হুমকি দিচ্ছে।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আনিছুর ও তার ছেলে সোহেল আনিছ সাংবাদিকদের জানান, সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রতিপক্ষ তাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার করছে।

এ বিষয়ে রাজারহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোঃ নাজমুল আলম জানান, সাংবাদিক আসাদকে হত্যার হুমকির বিষয়ে একটি জিডি দায়ের হয়েছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।