০২:১৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে বুড়িচংয়ে গাউসিয়া কমিটির নানা কর্মসূচি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৪:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০২৩ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে গাউসিয়া কমিটি রাজাপুর ইউনিয়ন শাখা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র আগমন স্মরণ, তাঁর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে রাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা ও স্মরণসভা, জিকরে মুস্তাফা (দ.), মিলাদ মাহফিল, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত পরিবেশন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র জীবন, চরিত্র, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা।

মহানবী (দ.)-এর জীবনের আদর্শকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের কর্মসূচিতে। এ লক্ষ্যে সুন্নাহর শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন আয়োজকরা।

এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আয়োজকরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও উত্তম আদর্শের প্রতীক। তাঁর শিক্ষা মানুষকে সত্য, ন্যায়, মানবতা, ক্ষমা, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির পথে পরিচালিত করে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর আনন্দকে কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তারা আরও বলেন, সমাজে বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে মহানবী (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। তাঁর জীবন ও কর্মের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি, মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সর্বস্তরের মানুষের সুখ-শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে গৃহীত এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজাপুর ইউনিয়নসহ বুড়িচংয়ের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ আরও জোরদার হবে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কালিকাপুর পশ্চিম রেলক্রসিংয়ে ভাঙা ব্যারিয়ার, ঝুঁকিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ গেটম্যান নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর—আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে বুড়িচংয়ে গাউসিয়া কমিটির নানা কর্মসূচি

Update Time : ০৪:৫৬:০৫ অপরাহ্ন, রোববার, ২৩ আগস্ট ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার: পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নে ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে গাউসিয়া কমিটি রাজাপুর ইউনিয়ন শাখা। মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র আগমন স্মরণ, তাঁর জীবনাদর্শ ও সুন্নাহর শিক্ষা মানুষের মাঝে ছড়িয়ে দেওয়া এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই এসব কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে।

আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে রাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় ধারাবাহিকভাবে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মসূচি পালন করা হবে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে আলোচনা ও স্মরণসভা, জিকরে মুস্তাফা (দ.), মিলাদ মাহফিল, পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত, হামদ-নাত পরিবেশন এবং মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.)-এর পবিত্র জীবন, চরিত্র, আদর্শ ও মানবতার শিক্ষা নিয়ে আলোচনা।

মহানবী (দ.)-এর জীবনের আদর্শকে শুধু আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে তা মানুষের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে বাস্তবায়নের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে এবারের কর্মসূচিতে। এ লক্ষ্যে সুন্নাহর শিক্ষা, নৈতিকতা, মানবিকতা, পারস্পরিক সৌহার্দ্য ও ভ্রাতৃত্ববোধ সম্পর্কে জনসচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মসূচির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তাদের সহযোগিতার পাশাপাশি বিভিন্ন সামাজিক ও মানবিক কল্যাণমূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষের প্রতি সহমর্মিতা প্রদর্শন এবং সামর্থ্য অনুযায়ী তাদের সহযোগিতায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানাবেন আয়োজকরা।

এ ছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ ও পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে সচেতনতা তৈরিতেও কর্মসূচি গ্রহণ করা হয়েছে। ইসলামের সৌন্দর্য, পরিচ্ছন্নতা, পরিবেশের প্রতি দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি দায়িত্বশীল আচরণের শিক্ষা সাধারণ মানুষের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

আয়োজকরা বলেন, মহানবী হযরত মুহাম্মদ (দ.) ছিলেন সমগ্র মানবজাতির জন্য রহমত ও উত্তম আদর্শের প্রতীক। তাঁর শিক্ষা মানুষকে সত্য, ন্যায়, মানবতা, ক্ষমা, সহনশীলতা, ভ্রাতৃত্ব ও শান্তির পথে পরিচালিত করে। তাই ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.)-এর আনন্দকে কেবল উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না রেখে মানবতার কল্যাণে কাজে লাগানোই তাদের মূল উদ্দেশ্য।

তারা আরও বলেন, সমাজে বিভেদ, হিংসা, বিদ্বেষ ও অসহিষ্ণুতা দূর করে পারস্পরিক ভালোবাসা, সৌহার্দ্য ও সম্প্রীতির পরিবেশ গড়ে তুলতে মহানবী (দ.)-এর আদর্শ অনুসরণের বিকল্প নেই। তাঁর জীবন ও কর্মের শিক্ষা নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নৈতিক ও মানবিক মূল্যবোধে উদ্বুদ্ধ করাই তাদের অন্যতম লক্ষ্য।

ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে স্থানীয় আলেম-ওলামা, ধর্মীয় ব্যক্তিত্ব, সামাজিক ও রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জনপ্রতিনিধি এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেবেন বলে আয়োজকরা জানিয়েছেন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে দেশের শান্তি ও সমৃদ্ধি, মানুষের নিরাপত্তা ও কল্যাণ, মুসলিম উম্মাহর ঐক্য এবং সর্বস্তরের মানুষের সুখ-শান্তি কামনায় বিশেষ দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হবে।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, ঈদে মিলাদুন্নবী (দ.) উপলক্ষে গৃহীত এসব কর্মসূচির মাধ্যমে রাজাপুর ইউনিয়নসহ বুড়িচংয়ের মানুষের মধ্যে ধর্মীয় ও নৈতিক মূল্যবোধ আরও সুদৃঢ় হবে এবং সমাজে শান্তি, সম্প্রীতি, মানবিকতা ও পারস্পরিক সহযোগিতার পরিবেশ আরও জোরদার হবে।