১২:২৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৮ অগাস্ট ২০২৬, ১২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালিয়াকৈরে অধিকাংশ স্টেশন গুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:১৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০২৯ বার পঠিত হয়েছে

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সিএনজি চালিত বাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের পাম্পে পাম্পে ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমনি চিত্র দেখা গেছে।

​চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপজেলার সিংহভাগ সিএনজি পাম্পই তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। যে কয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে, সেগুলোর সামনেও দেখা গেছে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সিএনজি মিলছে না বলে অভিযোগ চালকদের।

​পাম্পে অপেক্ষা করা সিএনজি চালক আবির জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের দৈনিক আয় একবারে নেমে এসেছে, যা দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। অনেক চালক পুরো দিন চেষ্টা করেও খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

​এক বাস সিএনজি (অটোরিকশা)ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের অভাবে সময়মতো গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। পাম্পে এসে ৩-৪ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে ট্রিপ মিস হচ্ছে, আবার যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

​এদিকে সিএনজি সংকট ও পরিবহন স্বল্পতার সুযোগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও অর্থ গুনতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকলা কারখানা রয়েছে। গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রায় ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছেন মালিকপক্ষ।

​গ্যাস সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও এলাকাবাসী।

কালিয়াকৈর চন্দ্রা তিতাস জোনাল অফিস প্রকৌশলী মাসুদ জানান, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে উপজেলার অনেক কারখানায় গ্যাস রয়েছে। তবে খুব দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান হবে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Sayeduzzaman Shad

Popular Post

কালিকাপুর পশ্চিম রেলক্রসিংয়ে ভাঙা ব্যারিয়ার, ঝুঁকিতে ঢাকা–চট্টগ্রাম রেলপথ গেটম্যান নেই, নিরাপত্তা ব্যবস্থা অকার্যকর—আরেকটি প্রাণঘাতী দুর্ঘটনার আশঙ্কা

কালিয়াকৈরে অধিকাংশ স্টেশন গুলোতে তীব্র গ্যাস সংকট দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে চালকদের ভোগান্তি মহাসড়কে যানজট সৃষ্টি

Update Time : ০১:১৪:৪৫ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৭ আগস্ট ২০২৬

শাকিল হোসেন,কালিয়াকৈর (গাজীপুর) প্রতিনিধিঃ

গাজীপুরের কালিয়াকৈরে তীব্র গ্যাস সংকটের কারণে অধিকাংশ সিএনজি স্টেশন বন্ধ হয়ে পড়েছে। ফলে সিএনজি চালিত বাস ও প্রাইভেটকারসহ বিভিন্ন যানবাহনের চালকদের পাম্পে পাম্পে ঘুরে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। সিএনজি না পাওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন পরিবহন চালক ও সাধারণ যাত্রীরা।

রোববার (১৬ আগস্ট) সকালে উপজেলার বিভিন্ন পাম্প ঘুরে এমনি চিত্র দেখা গেছে।

​চালক ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরে গ্যাসের চাপ আশঙ্কাজনকভাবে কমে গেছে। পর্যাপ্ত চাপ না থাকায় উপজেলার সিংহভাগ সিএনজি পাম্পই তাদের স্বাভাবিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে পারছে না। যে কয়েকটি পাম্প খোলা রয়েছে, সেগুলোর সামনেও দেখা গেছে শত শত যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও কাঙ্ক্ষিত সিএনজি মিলছে না বলে অভিযোগ চালকদের।

​পাম্পে অপেক্ষা করা সিএনজি চালক আবির জানান, সারাদিন লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও পর্যাপ্ত গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে না। এতে তাদের দৈনিক আয় একবারে নেমে এসেছে, যা দিয়ে পরিবারের খরচ চালানোই দায় হয়ে পড়েছে। অনেক চালক পুরো দিন চেষ্টা করেও খালি হাতে বাড়ি ফিরছেন।

​এক বাস সিএনজি (অটোরিকশা)ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, গ্যাসের অভাবে সময়মতো গাড়ি চালানো যাচ্ছে না। পাম্পে এসে ৩-৪ ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। এতে ট্রিপ মিস হচ্ছে, আবার যাত্রীদের ভোগান্তিও বাড়ছে।

​এদিকে সিএনজি সংকট ও পরিবহন স্বল্পতার সুযোগে কিছু কিছু ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের অভিযোগ তুলেছেন সাধারণ যাত্রীরা। গন্তব্যে পৌঁছাতে স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি সময় ও অর্থ গুনতে হচ্ছে তাদের। অপরদিকে কালিয়াকৈর উপজেলায় প্রায় তিন শতাধিক শিল্পকলা কারখানা রয়েছে। গ্যাস সংকটে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। ফলে প্রায় ১৫টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছেন মালিকপক্ষ।

​গ্যাস সংকটের বিষয়টি দ্রুত সমাধান করে সিএনজি সরবরাহ স্বাভাবিক করার জন্য তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন ভুক্তভোগী চালক ও এলাকাবাসী।

কালিয়াকৈর চন্দ্রা তিতাস জোনাল অফিস প্রকৌশলী মাসুদ জানান, চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস কম পাওয়া যাচ্ছে। ফলে অনেক পাম্প বন্ধ হয়ে গেছে। এদিকে উপজেলার অনেক কারখানায় গ্যাস রয়েছে। তবে খুব দ্রুত গ্যাস সংকট সমাধান হবে।