০৬:২৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিউইয়র্ক থেকে: ধর্মের নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই ইসলামে—শাহসুফি ড. সাইফুদ্দীন আহমদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬
  • ৩০১৩ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ শাহজাহান বাশার
ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও ঘৃণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বরং ইসলাম মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই উগ্রবাদ ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

এ কথা বলেছেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) নিউইয়র্ক শহরের সানাই কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ-জাতি গঠনে সম্প্রীতির আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ঘৃণা, সহিংসতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা ইসলামের শান্তি, দয়া ও মানবকল্যাণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।”

তিনি আরও বলেন, “উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিকতা, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্প্রীতি ও মানবতার আদর্শে গড়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেবিবিএ (জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন)-এর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস আহমেদ।
তিনি বলেন, “প্রবাসে বাংলাদেশি সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই আমরা উগ্রবাদমুক্ত, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি।”

বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ্ বলেন, “চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতিই টেকসই শান্তির ভিত্তি।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ কোরবান আলী, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উগ্রবাদ, ঘৃণা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিউইয়র্ক থেকে: ধর্মের নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই ইসলামে—শাহসুফি ড. সাইফুদ্দীন আহমদ

বিশ্বশান্তি ও সম্প্রীতির বার্তা নিউইয়র্ক থেকে: ধর্মের নামে সহিংসতার কোনো স্থান নেই ইসলামে—শাহসুফি ড. সাইফুদ্দীন আহমদ

Update Time : ০৬:২০:৩৯ অপরাহ্ন, শনিবার, ১ আগস্ট ২০২৬

মোঃ শাহজাহান বাশার
ধর্মকে ব্যবহার করে উগ্রবাদ, সন্ত্রাস ও ঘৃণার রাজনীতি প্রতিষ্ঠার কোনো সুযোগ ইসলামে নেই। বরং ইসলাম মানুষে মানুষে ভালোবাসা, সহমর্মিতা, ন্যায়বিচার, মানবিক মর্যাদা এবং সম্প্রীতির শিক্ষা দেয়। ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে এই মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে পারলেই উগ্রবাদ ও সহিংসতামুক্ত শান্তিপূর্ণ বিশ্ব গড়ে তোলা সম্ভব।

এ কথা বলেছেন আওলাদে রাসূল (ﷺ), সাজ্জাদানশীন-এ দরবারে গাউছুল আযম মাইজভাণ্ডার শরীফ এবং হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) নিউইয়র্ক শহরের সানাই কনভেনশন হলে অনুষ্ঠিত ‘উগ্রবাদ ও সন্ত্রাসমুক্ত দেশ-জাতি গঠনে সম্প্রীতির আলোকে সমাজ প্রতিষ্ঠায় করণীয়’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, “ধর্মের অপব্যাখ্যা নয়, সম্প্রীতির শিক্ষাই ইসলামের প্রকৃত পরিচয়। যারা ধর্মকে ব্যবহার করে ঘৃণা, সহিংসতা ও বিভাজন সৃষ্টি করে, তারা ইসলামের শান্তি, দয়া ও মানবকল্যাণের আদর্শ থেকে বিচ্যুত। কুরআন ও সুন্নাহর প্রকৃত শিক্ষা মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।”

তিনি আরও বলেন, “উগ্রবাদ ও সন্ত্রাস কোনো ধর্মের প্রতিনিধিত্ব করে না। সমাজে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, নৈতিকতা, সংলাপ ও মানবিক মূল্যবোধের চর্চা বাড়াতে হবে। ধর্মীয় নেতা, শিক্ষাবিদ, সামাজিক সংগঠন এবং তরুণ সমাজকে একযোগে কাজ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম সম্প্রীতি ও মানবতার আদর্শে গড়ে ওঠে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এবং জেবিবিএ (জ্যাকসন হাইটস বাংলাদেশ বিজনেস অ্যাসোসিয়েশন)-এর সভাপতি মোহাম্মদ গিয়াস আহমেদ।
তিনি বলেন, “প্রবাসে বাংলাদেশি সমাজের ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ এবং সামাজিক সম্প্রীতি রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। ধর্মীয় ও সামাজিক মূল্যবোধকে ধারণ করেই আমরা উগ্রবাদমুক্ত, মানবিক ও শান্তিপূর্ণ সমাজ গড়ে তুলতে পারি।”

বিশেষ অতিথি মোহাম্মদ আতিকুল্লাহ্ বলেন, “চরমপন্থা ও সহিংসতা প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান এবং কমিউনিটির মধ্যে সমন্বিত সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। সামাজিক সম্প্রীতিই টেকসই শান্তির ভিত্তি।”

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন খলিফা মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, মোহাম্মদ কোরবান আলী, আক্কাস মিয়া, সেতু মিয়া, হযরত সৈয়দ মইনুদ্দীন আহমদ মাইজভাণ্ডারী ট্রাস্টের এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর মোহাম্মদ রানা তালুকদার, সাইদুল আলম সুজন, মোহাম্মদ জালাল তালুকদার, মোহাম্মদ মানিক, মোহাম্মদ হিরুসহ বিভিন্ন কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ।

বক্তারা বলেন, বর্তমান বিশ্বে উগ্রবাদ, ঘৃণা, ধর্মীয় বিদ্বেষ এবং সামাজিক বিভাজনের বিরুদ্ধে মানবিক মূল্যবোধ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা, আন্তঃধর্মীয় সম্প্রীতি ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের সংস্কৃতি গড়ে তোলা সময়ের দাবি। এ লক্ষ্যে ধর্মীয় নেতা, নাগরিক সমাজ এবং প্রবাসী কমিউনিটির সমন্বিত উদ্যোগ আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

অনুষ্ঠান শেষে মুসলিম উম্মাহর শান্তি, বাংলাদেশের সমৃদ্ধি, বিশ্বব্যাপী শান্তি, সম্প্রীতি এবং সমগ্র মানবজাতির কল্যাণ কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মুনাজাত পরিচালনা করেন হযরত শাহসুফি ড. সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল-হাসানী ওয়াল-হোসাইনী আল-মাইজভাণ্ডারী (মাদ্দাজিল্লুহুল আলী)।