১১:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩০০০ বার পঠিত হয়েছে

রংপুর ব্যুরোঃ

বাদীর পক্ষে মামলার রায় পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করার পাশাপাশি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে সম্মেলন করেছেন রংপুরে এক ভুক্তভোগী নারী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব, রংপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ২০২০ সালে একটি পারিবারিক মামলার সূত্রে রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর অফিস স্টাফ (জারিকারক) হিসেবে কর্মরত মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারীর অভিযোগ, মাসুদ রানা নিজেকে আদালতের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মামলায় সহযোগিতা ও অনুকূলে রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন। পরে বিষয়টি তিনি প্রতারণা বলে জানতে পারেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা তার পূর্বের বিবাহ ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি বারবার বিয়ের বিষয়টি উত্থাপন করলেও অভিযুক্ত নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন। রোকসানা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মাসুদ রানা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ বিয়ে করেন। তবে অল্প কিছুদিন সংসার করার পর মাসুদ রানা কৌশলে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে বিয়ে করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে ওই নারী নিশ্চিত হন যে, মাসুদ রানা’র পূর্বের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যা শুরু থেকেই তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বৈবাহিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযুক্তের মা, মামা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া, মাসুদ রানা মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন রোকসানা আক্তার নামের ওই নারী। সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা তার অভিযোগে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত মাসুদ রানার সাথে কথা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বলেন, তার সাথে আমার পরিচয় হয় মামলা সংক্রান্তে কোর্টে আসা যাওয়ার সুবাদে ২০২৪ সালে। এই পরিচয় তার সাথে বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়। আমি তাকে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছি এটা সত্য। তবে বিয়ের কিছুদিন পর সংসারিক অশান্তির কারণে তালাক প্রদান করেছি।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

Update Time : ১১:০৮:০০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

রংপুর ব্যুরোঃ

বাদীর পক্ষে মামলার রায় পাইয়ে দেয়ার নামে অর্থ আত্মসাৎ করার পাশাপাশি বিয়ের প্রলোভনে ধর্ষণ ও প্রতারণার অভিযোগ এনে সম্মেলন করেছেন রংপুরে এক ভুক্তভোগী নারী।

মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) দুপুরে রিপোর্টার্স ক্লাব, রংপুরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে ভুক্তভোগী ওই নারী জানান, ২০২০ সালে একটি পারিবারিক মামলার সূত্রে রংপুরের জেলা ও দায়রা জজ আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-১ এর অফিস স্টাফ (জারিকারক) হিসেবে কর্মরত মাসুদ রানার সঙ্গে তার পরিচয় হয়। ওই নারীর অভিযোগ, মাসুদ রানা নিজেকে আদালতের স্টাফ পরিচয় দিয়ে মামলায় সহযোগিতা ও অনুকূলে রায় পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দেন। সেই আশ্বাসে বিশ্বাস করে তিনি বিভিন্ন সময়ে তাকে মোটা অঙ্কের টাকা দেন। পরে বিষয়টি তিনি প্রতারণা বলে জানতে পারেন।

লিখিত বক্তব্যে ওই নারী আরও অভিযোগ করেন, মাসুদ রানা তার পূর্বের বিবাহ ও দুই সন্তানের তথ্য গোপন রেখে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। একপর্যায়ে রংপুর নগরীর মুলাটোল এলাকার একটি ভাড়া বাসায় নিয়ে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করেন। এরপর তিনি বারবার বিয়ের বিষয়টি উত্থাপন করলেও অভিযুক্ত নানা অজুহাতে তা এড়িয়ে যান বলে দাবি করেন। রোকসানা আক্তারের ভাষ্য অনুযায়ী, দীর্ঘ পাঁচ বছর পর মাসুদ রানা চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি মুসলিম শরিয়াহ মোতাবেক ১০ লাখ টাকা দেনমোহর নির্ধারণ বিয়ে করেন। তবে অল্প কিছুদিন সংসার করার পর মাসুদ রানা কৌশলে তার সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ধর্ষণের অভিযোগ থেকে রক্ষা পাওয়ার উদ্দেশ্যেই তাকে বিয়ে করা হয়েছিল।

এরই মধ্যে ওই নারী নিশ্চিত হন যে, মাসুদ রানা’র পূর্বের স্ত্রী ও দুই সন্তান রয়েছে, যা শুরু থেকেই তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল। তিনি আরও বলেন, বৈবাহিক অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে অভিযুক্তের মা, মামা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও আত্মীয়-স্বজনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাননি। পরবর্তীতে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক এবং রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক বরাবর লিখিত অভিযোগ দিলেও এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এছাড়া, মাসুদ রানা মামলা-সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ে একাধিক ব্যক্তির কাছ থেকে অর্থ নিয়ে প্রতারণা করেছে বলে অভিযোগ করেন রোকসানা আক্তার নামের ওই নারী। সংবাদ সম্মেলনে রোকসানা তার অভিযোগে নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে দোষী প্রমাণিত হলে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান।

অভিযুক্ত মাসুদ রানার সাথে কথা হলে তিনি সংবাদ সম্মেলনে উপস্থাপন করা অভিযোগ সম্পুর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট দাবি করে বলেন, তার সাথে আমার পরিচয় হয় মামলা সংক্রান্তে কোর্টে আসা যাওয়ার সুবাদে ২০২৪ সালে। এই পরিচয় তার সাথে বিবাহ পর্যন্ত গড়ায়। আমি তাকে ১০ লাখ টাকা দেনমোহরে বিয়ে করেছি এটা সত্য। তবে বিয়ের কিছুদিন পর সংসারিক অশান্তির কারণে তালাক প্রদান করেছি।