আবুল হোসেন বাবলুঃ
ক্যাডেট এএসআই পদে নিয়োগ পরীক্ষায় জাল প্রবেশপত্রসহ ১জন ভুয়া পরীক্ষার্থী ও মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়া দালাল চক্রের ৩ জন সদস্য ডিবি পুলিশের হাতে আটক। চুক্তি ছিল ১৭ লক্ষ টাকা।
প্রার্থী বিধি মোতাবেক কোন ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি। প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে দালালের মাধ্যমে ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে জাল প্রবেশপত্র সংগ্রহ করে পরীক্ষা দিতে এসে ডিবি’র হাতে আটক। এ সময় জাল প্রবেশপত্র প্রদানকারী দালাল চক্রের ২ জন এবং প্রক্সি দিতে আসা ১জন সহ আরও ৩ জনকে আটক করেছে ডিবি পুলিশ।
রংপুর জেলা পুলিশের মিডিয়া সেল থেকে গণমাধ্যমে পাঠানো এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ৩১ জুলাই
পুলিশ লাইন্স স্কুল এন্ড কলেজের মূল গেইটে জাল প্রবেশপত্র নিয়ে পরীক্ষা কেন্দ্রের ফেইস ডিটেকশন পয়েন্ট এ প্রবেশ করাকালে একজন পরীক্ষার্থীকে সন্দেহ হলে পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, তার প্রবেশপত্রটি ভুয়া। বিধি মোতাবেক কোন ধরনের শারীরিক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেনি এবং তার সাথে একজন প্রক্সি দিতে দিতে আসা ব্যক্তি সহ আরো কয়েকজন রয়েছে।
ধৃত জাল প্রবেশপত্রধারী রংপুরের ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কামালকাছনা অফিসে কর্মরত। তার দেয়া তথ্য মতে কলেজ চত্বর থেকে তাজমিলুর এবং নগরীর জাহাজ কোম্পানী মোড় এলাকা থেকে বাদশা মাসউদ আলমকে আটক করা হয়।
আটককৃতরা ঠাকুরগাঁও জেলার পীরগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত শিরাইল (ডাঙ্গাপাড়া) গ্রামের নুরুল ইসলাম ও মোছাঃ আনঞ্জুয়ারা বেগমের ছেলে (ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স কামালকাছনা) রংপুর অফিসে কর্মরত আশরাফুল ইসলাম (২১), একই গ্রামের মৃত লুৎফর রহমানের ছেলে (ফায়ার সার্ভিস রংপুরে ডেপুটি এসিসট্যান্ট ডিরেক্টর হিসেবে কর্মরত) বাদশা মাসউদ আলম (৪৮), দিনাজপুর জেলার বোচাগঞ্জ থানার অন্তর্ভুক্ত ছাতইল গ্রামের এমদাদুল হক এর ছেলে তাজমিলুর রহমান (১৯) এবং নীলফামারী সদর থানার অন্তর্ভুক্ত খামাত পাড়া (বটতলা) গ্রামের শাহাজাহান আলী সরকার এর ছেলে নুরুল ইসলাম (৪৬)।
উল্লেখ্য নুরুল ইসলামকে ঢাকা থেকে আরপিএমপি কোতোয়ালী থানা পুলিশের সহায়তায় গ্রেফতার করা সম্ভব হয়। বাদশা মাসউদ আলমকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, তারা বাদেও এই চক্রের সাথে আরও অজ্ঞাতনামা ২/৩ জন জড়িত।
ধৃত বাদশা মাসউদ আলম জানায়, তার ও নুরুল ইসলামের সাথে আশরাফুলের বাবার ১৭ লক্ষ টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেয়ার চুক্তি হয়। এর আগে আশরাফুল ঢাকা ব্যাংক দিনাজপুর শাখা ০১২২১৫০ ১২০৫৯৩ একাউন্ট থেকে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা মাসউদ আলমকে প্রদান করে। বিনিময়ে আশরাফুলের বর্ণিত মোবাইল নাম্বার ০১৩১৮- ৯২৯৪৭৭ হোয়াটস অ্যাপে জাল প্রবেশপত্রটি পাঠিয়ে দেয়। বাদশা মাসউদ আলমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনে প্রতারণা, আর্থিক লেনদেন ও জাল প্রবেশপত্র সংক্রান্তে সকল ধরণের কথাবার্তার তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।
অভিযুক্তরা প্রতারণার উদ্দেশ্যে জাল প্রবেশপত্র তৈরী করে বিভিন্ন লোককে মোটা অংকের টাকার বিনিময়ে ক্যাডেট এএসআই (নিরস্ত্র) পদে নিয়োগ পাইয়ে দেওয়ার নামে অপরাধ করে আসছিলো। এছাড়াও অভিযুক্তব্যক্তিরা বিভিন্ন উচ্চ পদস্থ কর্মকর্তার ছদ্মবেশ (পদবী) ধারণ করে ভুয়া পরিচয় দিয়ে পুলিশের সিনিয়র অফিসারদেরকে মোবাইলে কল করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।
জব্দকৃত আলামত ও ধৃত ব্যক্তিদের আরপিএমপি কোতয়ালী থানায় এনে মামলার এজাহার দায়ের করা হয়। এব্যাপারে অত্র থানায় Public Examinations (Offences) (Amendment) Act, 2026 এর ৩/১৩ ধারা তৎসহ পেনাল কোড৪০৬/৪২০/৪০৯/৪৬৮/ ৪৭১/ ৪৭৪/১০৯/১৭০/৩৪ ধারায় মামলা রুজু করা হয়েছে।











