মোঃ শাহজাহান বাশার
বাংলাদেশের সাবেক পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারামুক্ত হয়েছেন। আদালতের নির্দেশে শর্তসাপেক্ষে জামিন পাওয়ার পর প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তিনি মুক্তি লাভ করেন। তবে আপাতত তাকে সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
বেনজীর আহমেদের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন গ্রহণ করেন। পরবর্তীতে আনুষ্ঠানিক আইনি কার্যক্রম শেষ হলে ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্তি পান। রোববার (২ আগস্ট) বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সূত্র নিশ্চিত করেছে।
সূত্রগুলোর দাবি, জামিনে মুক্ত হলেও তার বিরুদ্ধে আরোপিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা এখনো বহাল রয়েছে। ফলে আদালতের পরবর্তী নির্দেশ না পাওয়া পর্যন্ত তিনি সংযুক্ত আরব আমিরাত ত্যাগ করতে পারবেন না।
জানা গেছে, বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণ-সংক্রান্ত নথিপত্র, মামলার বিবরণ এবং আইনি যুক্তি আদালতে উপস্থাপন করা হয়। অপরদিকে বেনজীর আহমেদের আইনজীবীরাও তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তবে এ বিষয়ে দুবাই কর্তৃপক্ষ এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বিবৃতি প্রকাশ করেনি।
এর আগে গত ১৪ জুন জাতীয় সংসদে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, ১২ জুন সংযুক্ত আরব আমিরাতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন ন্যাশনাল সেন্ট্রাল ব্যুরো (এনসিবি) আবুধাবি বাংলাদেশ সরকারকে ই-মেইলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের আটকের বিষয়টি অবহিত করে। তিনি জানান, দুর্নীতির মামলায় অভিযুক্ত হওয়ায় দুবাইয়ে তাকে আটক করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে বাংলাদেশ সরকার আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের মাধ্যমে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নেয়। এ লক্ষ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) প্রস্তুত করা প্রায় ১৪৪ পৃষ্ঠার নথি আরবি ভাষায় অনুবাদ করে কূটনৈতিক চ্যানেলে সংযুক্ত আরব আমিরাতে পাঠানো হয়। ওই নথিতে তার বিরুদ্ধে থাকা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, চলমান মামলার বিবরণ এবং প্রত্যর্পণের প্রয়োজনীয় আইনি দলিল সংযুক্ত করা হয়েছে।
এদিকে বেনজীর আহমেদের প্রত্যর্পণ বিষয়ে দুবাইয়ের আদালতে আইনি কার্যক্রম চলমান থাকায় বিষয়টি এখনো চূড়ান্ত নিষ্পত্তি হয়নি। আদালতের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ওপরই তার ভবিষ্যৎ আইনি অবস্থান এবং সম্ভাব্য প্রত্যর্পণের বিষয়টি নির্ভর করবে।











