১০:১১ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৯ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

শাহদৌলা সরকারি কলেজে বহালতবিয়তে স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম,মাউশি চুপ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৫:৫১ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০১৪ বার পঠিত হয়েছে

মোঃ কামাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বহালতবিয়তে রয়েছেন। তিনি নিজেকে জিয়া পরিষদের নেতা বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই পদ দখল করেন। আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেকে এখনো বৈধ বলে দাবি করে আসছেন। এই হিসাবে কলেজটিতে এখন দুজন অধ্যক্ষ। তবে চেয়ার দখলের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এক শিক্ষক। এ ব্যাপারে মাউশির তদন্ত কমিটি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের সত্যতা পেলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়নি। তারা একপ্রকার চুপ রয়েছে।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর অধ্যক্ষের পদ দখল করে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেকে বাঘা উপজেলার জিয়া পরিষদের সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তার ভয়ে তটস্থ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, মব সন্ত্রাসের কারণে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

দায়িত্ব পালনে মাউশির অনুমতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে কোনো জবাব দেননি জাহাঙ্গীর। তিনি নিজেকে বৈধ অধ্যক্ষ দাবি করে বলেন, মব সৃষ্টি নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে তিনি কলেজটির দায়িত্ব নিয়েছেন। দুজনের বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। তবে সিদ্দিক ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

মাউশির তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালাচাঁদ শীল বলেন, ‘জ্যেষ্ঠতার তালিকা চেয়েছিল মাউশি। আমরা সেটি দিয়েছি। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। আর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দিক দেখছেন জাহাঙ্গীর আলম। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানি না।’ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদ দখলকারী জাহাঙ্গীর তার নিয়োগের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিধি লঙ্ঘন করে তিনি নিজের নামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সিল বানিয়েছেন। অধ্যক্ষের তালিকা বোর্ডে নাম যুক্ত করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট (এসিআর) তিনি নিজেই দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ অস্থায়ী নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে দুই নম্বরে আছি। রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের চাপে সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন।’ তিনি স্বীকার করেন, দায়িত্ব পালনের কাগজপত্র মাউশিতে পাঠালেও এখনো নির্দেশনা আসেনি।

এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ফোন করা হলে তিনি কেটে দেন। তবে মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি মহাপরিচালক স্যার দেখবেন। তবে আমার কার্যালয়ে অভিযোগ এলে, আমি তা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

জীবননগর সীমান্তে ৩ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় বিএসএফ।

শাহদৌলা সরকারি কলেজে বহালতবিয়তে স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত  অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম,মাউশি চুপ

Update Time : ০৮:১৫:৫১ অপরাহ্ন, রোববার, ৯ আগস্ট ২০২৬

মোঃ কামাল হোসেন, স্টাফ রিপোর্টার: রাজশাহীর বাঘা উপজেলার শাহদৌলা সরকারি কলেজের স্বঘোষিত ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জাহাঙ্গীর আলম বহালতবিয়তে রয়েছেন। তিনি নিজেকে জিয়া পরিষদের নেতা বলে দাবি করেন। ২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতার দাপট দেখিয়ে ওই পদ দখল করেন। আগের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ আবু বক্কর সিদ্দিক নিজেকে এখনো বৈধ বলে দাবি করে আসছেন। এই হিসাবে কলেজটিতে এখন দুজন অধ্যক্ষ। তবে চেয়ার দখলের পর মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন এক শিক্ষক। এ ব্যাপারে মাউশির তদন্ত কমিটি জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘনের সত্যতা পেলেও পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়নি। তারা একপ্রকার চুপ রয়েছে।

জানা যায়, জাহাঙ্গীর অধ্যক্ষের পদ দখল করে প্রশাসনিক দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি নিজেকে বাঘা উপজেলার জিয়া পরিষদের সাবেক কৃষিবিষয়ক সম্পাদক বলে পরিচয় দেন। তার ভয়ে তটস্থ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা। তার বিরুদ্ধে নানা অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগও রয়েছে। আবু বক্কর সিদ্দিকের দাবি, মব সন্ত্রাসের কারণে তিনি পদত্যাগে বাধ্য হয়েছেন।

দায়িত্ব পালনে মাউশির অনুমতির ব্যাপারে প্রশ্ন তুললে কোনো জবাব দেননি জাহাঙ্গীর। তিনি নিজেকে বৈধ অধ্যক্ষ দাবি করে বলেন, মব সৃষ্টি নয়, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের চাপে তিনি কলেজটির দায়িত্ব নিয়েছেন। দুজনের বিরুদ্ধেই আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলটির নেতাদের সঙ্গে সখ্যতার অভিযোগ রয়েছে। তবে সিদ্দিক ছাত্রজীবনে ছাত্রলীগের রাজনীতি করতেন বলে স্বীকার করেছেন।

মাউশির তদন্ত কমিটির প্রধান রাজশাহী নিউ গভ. ডিগ্রি কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ অধ্যাপক কালাচাঁদ শীল বলেন, ‘জ্যেষ্ঠতার তালিকা চেয়েছিল মাউশি। আমরা সেটি দিয়েছি। জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের দায়িত্ব নেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেছে। আর্থিক লেনদেনের কর্মকাণ্ড চালাচ্ছেন আবু বক্কর সিদ্দিক। আর দাপ্তরিক ও প্রশাসনিক দিক দেখছেন জাহাঙ্গীর আলম। আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন দিয়েছি। তবে প্রতিবেদনের ভিত্তিতে কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে তা জানি না।’ কলেজের শিক্ষক-কর্মচারীরা জানিয়েছেন, জ্যেষ্ঠতা লঙ্ঘন করে পদ দখলকারী জাহাঙ্গীর তার নিয়োগের বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। বিধি লঙ্ঘন করে তিনি নিজের নামে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের সিল বানিয়েছেন। অধ্যক্ষের তালিকা বোর্ডে নাম যুক্ত করেছেন। শিক্ষক-কর্মচারীদের বার্ষিক গোপনীয় রিপোর্ট (এসিআর) তিনি নিজেই দিচ্ছেন। ইতোমধ্যে তার বিরুদ্ধে শিক্ষার্থী ভর্তিসহ অস্থায়ী নিয়োগে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। তবে কেউ প্রতিবাদ করার সাহস পাচ্ছে না। অভিযুক্ত জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমি জ্যেষ্ঠতার দিক দিয়ে দুই নম্বরে আছি। রাজনৈতিক কারণে শিক্ষার্থীদের চাপে সিদ্দিক পদত্যাগ করেছেন।’ তিনি স্বীকার করেন, দায়িত্ব পালনের কাগজপত্র মাউশিতে পাঠালেও এখনো নির্দেশনা আসেনি।

এ ব্যাপারে মাউশির মহাপরিচালক অধ্যাপক ড. খান মইনুদ্দিন আল মাহমুদকে ফোন করা হলে তিনি কেটে দেন। তবে মাউশির রাজশাহী অঞ্চলের পরিচালক অধ্যাপক হুমায়ূন কবীর বলেন, ‘বিষয়টি মহাপরিচালক স্যার দেখবেন। তবে আমার কার্যালয়ে অভিযোগ এলে, আমি তা মহাপরিচালকের কার্যালয়ে পাঠিয়ে দেব। সেখান থেকে নির্দেশনা পেলে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’