মোঃ শাহজাহান বাশার
সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে দ্রুত ‘সাংবাদিক সুরক্ষা আইন’ প্রণয়নের দাবি জানিয়ে সরকারকে তিন মাসের আল্টিমেটাম দিয়েছেন সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের সভাপতি ও বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের ট্রাস্টি বোর্ডের চেয়ারম্যান আহমেদ আবু জাফর। আগামী নভেম্বরের মধ্যে আইন প্রণয়ন করা না হলে আন্দোলনের মাধ্যমে সরকারকে আইন প্রণয়নে বাধ্য করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন তিনি।
শনিবার (৮ আগস্ট) কুমিল্লায় সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির নবগঠিত জেলা কমিটির পরিচিতি ও আলোচনা সভায় প্রধান বক্তার বক্তব্যে তিনি এ ঘোষণা দেন।
আহমেদ আবু জাফর বলেন, সাংবাদিকদের কাছে ভালো সংবাদ প্রত্যাশা করা হবে, অথচ তাদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা নিশ্চিত করা হবে না—এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। দীর্ঘদিন ধরে সাংবাদিকদের নানা আশ্বাস দেওয়া হলেও তাদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, সাংবাদিকদের সুরক্ষায় একটি কার্যকর আইন, সাংবাদিক নিয়োগ নীতিমালা এবং প্রকৃত পেশাদার সাংবাদিকদের তালিকা প্রণয়ন এখন সময়ের দাবি। গণমাধ্যমের পেশাগত মর্যাদা ও অস্তিত্ব রক্ষায় দ্রুত গণমাধ্যম কমিশন গঠন করে সাংবাদিকতা অঙ্গনকে একটি সুশৃঙ্খল কাঠামোর আওতায় আনারও দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক নির্যাতনের চিত্র তুলে ধরে আহমেদ আবু জাফর বলেন, দেশে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা, হুমকি ও হয়রানির ঘটনা উদ্বেগজনকভাবে বেড়েছে। সাংবাদিক হত্যার মতো স্পর্শকাতর মামলাগুলোরও যথাযথ বিচার না হওয়ায় অপরাধীরা এক ধরনের দায়মুক্তির সুযোগ পাচ্ছে। অনেক মামলার আসামি জামিনে বের হয়ে যাওয়ায় সাংবাদিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা আরও বাড়ছে।
তিনি দাবি করেন, স্বাধীনতার পর এ পর্যন্ত ৫৩ জন সাংবাদিক হত্যার শিকার হয়েছেন। কিন্তু এসব হত্যাকাণ্ডের অধিকাংশ মামলার বিচার এখনো সম্পন্ন হয়নি। সাংবাদিকদের সঙ্গে এমন ‘বিমাতৃসুলভ আচরণ’ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না বলে মন্তব্য করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের প্রশাসক ইউসুফ মোল্লা টিপু বলেন, সাংবাদিকরা পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে যাতে কোনো ধরনের হেনস্তা, হয়রানি কিংবা বাধার শিকার না হন, সে বিষয়ে তিনি খেয়াল রাখবেন।
তিনি বলেন, ‘আমি সাংবাদিকদের পাশে আছি, ইনশাআল্লাহ থাকব।’
সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটি কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক ও যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক বিএম মহিউদ্দিন মন্টির সঞ্চালনায় এবং জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ মফস্বল সাংবাদিক ফোরামের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক ওমর ফারুক মিয়াজী, কুমিল্লা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি আবুল হাসনাত বাবুল, নবনির্বাচিত সভাপতি এনামুল হক ফারুক, সিনিয়র সাংবাদিক সহিদুল্লাহ, প্রেসক্লাবের সাবেক আহ্বায়ক নীতিশ সাহা, প্রেসক্লাবের সহ-সভাপতি সাদিক হোসেন মামুন, কুমিল্লার জমিন পত্রিকার সম্পাদক শাহজাদা এমরান এবং দৈনিক সমাজ কণ্ঠের সম্পাদক জসিম উদ্দিন চাষী।
এ ছাড়া বক্তব্য দেন সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক জি কে রাসেল, কেন্দ্রীয় নেতা কাজী সালাহ উদ্দিন নোমান, সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির কেন্দ্রীয় কমান্ড কাউন্সিলের নেতা সিকান্দার আলী কাবুল এবং কেন্দ্রীয় নেতা ফাতেমা আক্তার।
অনুষ্ঠানে নবগঠিত কুমিল্লা জেলা সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির ১১১ সদস্যের কার্যকরী পর্ষদ ও সদস্যদের পরিচিতি অনুষ্ঠিত হয়। জেলা কমিটির সাধারণ সম্পাদক আবু বকর সিদ্দিক সংগঠনের সাংগঠনিক রূপরেখা তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে মাঠপর্যায়ে সংবাদ সংগ্রহ ও পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে বিভিন্ন সময়ে হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হওয়া কুমিল্লার ১০ সাংবাদিককে সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়।
জেলা কমিটির সভাপতি ওমর ফারুকী তাপসের সমাপনী বক্তব্যের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।


















