০২:২৭ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ অগাস্ট ২০২৬, ২৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মেয়েকে ধর্ষণ-বাবাকে নির্যাতন অতঃপর বাবার আত্মহত্যা প্রধান আসামি গ্রেফতার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:৩৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬
  • ১০০১৫ বার পঠিত হয়েছে

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী মারিয়া আক্তারকে (ছদ্মনাম) (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর ধর্ষিতার বাবাকে মারধর। একপর্যায়ে পঙ্গু করে দেওয়ার পরে লোকলজ্জার ভয়ে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে ধর্ষিতার বাবা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে এজাহারে উল্লেখিত প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সেই প্রস্তাব স্কুলছাত্রী প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা অপহরণের নীলনকশা তৈরি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে ওই কিশোরী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে সাইফুল ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক
একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে মেয়েটির জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অন্যান্য আসামির সহযোগিতায় আসামি সাইফুল ইসলাম ওই কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী কিশোরী কৌশলে তাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়ের ওপর হওয়া এই চরম অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে আসামি সাইফুলের বাড়িতে যান ওই ছাত্রীর বাবা। কিন্তু আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করবে। এই বলে ওই ছাত্রীর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

গত ২ জুলাই বিকালে ছাত্রীর বাবা বাড়ির বাইরে গেলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সাইফুল এবং তার সহযোগীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রীর বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রীর বাবার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেয়।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা আবুল কাসেম (৪২) তার মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। একপর্যায়ে গত ৫ জুলাই আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

এই ঘটনায় গত ৫ জুলাই ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন, (মামলা নং-০৪)। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১ র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ সাভার ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ৮ জুলাই রাত পৌঁনে নয়টার দিকে সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন কাতলাপুর হোমিও আরোগ্য ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার অন্তর্ভুক্ত মহিষমারী গ্রামের রফিকুল ইসলাম এর ছেলে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

কালিয়াকৈর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষের অপসারণের দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন সকল শিক্ষার্থী

মেয়েকে ধর্ষণ-বাবাকে নির্যাতন অতঃপর বাবার আত্মহত্যা প্রধান আসামি গ্রেফতার

Update Time : ০১:৩৩:১২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১০ আগস্ট ২০২৬

আবুল হোসেন বাবলুঃ

র‍্যাব-১৩’র সিনিয়র সহকারী পরিচালক (মিডিয়া) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার বিপ্লব কুমার গোস্বামী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী উপজেলায় অষ্টম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্কুলছাত্রী মারিয়া আক্তারকে (ছদ্মনাম) (১৬) অপহরণ ও ধর্ষণের পর ধর্ষিতার বাবাকে মারধর। একপর্যায়ে পঙ্গু করে দেওয়ার পরে লোকলজ্জার ভয়ে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে ধর্ষিতার বাবা গলায় দড়ি দিয়ে আত্মহত্যা করে।

এ ঘটনায় থানায় মামলার প্রেক্ষিতে এজাহারে উল্লেখিত প্রধান আসামি সাইফুল ইসলামকে ঢাকার সাভার এলাকা থেকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন(র‌্যাব)।

মামলার এজাহার থেকে জানা যায়, ভুক্তভোগী ওই কিশোরী স্থানীয় একটি উচ্চ বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী। বেশ কিছুদিন ধরে একই এলাকার সাইফুল ইসলাম নামের এক যুবক তাকে উত্ত্যক্ত করাসহ প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে আসছিল। সেই প্রস্তাব স্কুলছাত্রী প্রত্যাখ্যান করায় সাইফুল ও তার সহযোগীরা অপহরণের নীলনকশা তৈরি করে।

এরই ধারাবাহিকতায় ২৫ জুন ২০২৬ সকাল ১০টার দিকে ওই কিশোরী বিদ্যালয়ে যাওয়ার পথে স্কুলের পাশের রাস্তা থেকে সাইফুল ও তার সহযোগীরা ওই ছাত্রীকে জোরপূর্বক
একটি অটোচার্জারে তুলে অপহরণ করে ঠাকুরগাঁও রোডে নিয়ে যায়। সেখানে প্রাণনাশের হুমকি, ভয়ভীতি দেখিয়ে কিছু সাদা কাগজ ও ফাঁকা স্ট্যাম্পে মেয়েটির জোরপূর্বক স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে একটি অজ্ঞাত স্থানে নিয়ে গিয়ে অন্যান্য আসামির সহযোগিতায় আসামি সাইফুল ইসলাম ওই কিশোরীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে।

ভুক্তভোগী কিশোরী কৌশলে তাদের কবল থেকে মুক্ত হয়ে বাড়ি ফিরে তার বাবা-মাকে বিষয়টি জানায়। এরপর মেয়ের ওপর হওয়া এই চরম অন্যায়ের প্রতিবাদ জানাতে আসামি সাইফুলের বাড়িতে যান ওই ছাত্রীর বাবা। কিন্তু আসামিরা উল্টো হুমকি দিয়ে বলে মেয়েটির স্বাক্ষর দিয়ে তারা বিয়ের জাল কাবিননামা তৈরি করেছে। আইনি পদক্ষেপ নিলে পুরো পরিবারকে হত্যা করবে। এই বলে ওই ছাত্রীর বাবাকে ধাক্কা দিয়ে বাড়ি থেকে বের করে দেয়।

গত ২ জুলাই বিকালে ছাত্রীর বাবা বাড়ির বাইরে গেলে আগে থেকে ওৎপেতে থাকা সাইফুল এবং তার সহযোগীরা লোহার রড ও ধারালো অস্ত্র নিয়ে ছাত্রীর বাবার ওপর অতর্কিত হামলা চালিয়ে লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করে ছাত্রীর বাবার ডান পায়ের হাঁটু ভেঙে দেয়।

ভুক্তভোগী ওই ছাত্রীর বাবা আবুল কাসেম (৪২) তার মেয়ের ওপর বর্বর নির্যাতন, নিজের পঙ্গুত্ব এবং আসামিদের অনবরত প্রাণনাশের হুমকিতে মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েন ও চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতে শুরু করেন। একপর্যায়ে গত ৫ জুলাই আনুমানিক বেলা ১১টার দিকে পরিবারের সবার অগোচরে নিজ বাড়ির গোয়াল ঘরে গলায় দড়ি দিয়ে তিনি আত্মহত্যা করেন।

এই ঘটনায় গত ৫ জুলাই ভুক্তভোগী কিশোরীর মা বাদী হয়ে বালিয়াডাঙ্গী থানায় ৮ জনের নাম উল্লেখ করে একটি মামলা দায়ের করেছেন, (মামলা নং-০৪)। ঘটনার পর থেকেই প্রধান আসামিসহ অন্যান্যরা এলাকা ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপনে চলে যায়।

মামলাটির গুরুত্ব বিবেচনায় নিয়ে অভিযুক্তদের গ্রেফতারে র‍্যাব-১৩ গোয়েন্দা নজরদারি ও ছায়া তদন্ত শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় সুনির্দিষ্ট গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে সিপিসি-১ র‌্যাব-১৩ দিনাজপুর ক্যাম্প এবং র‌্যাব-৪ সিপিসি-২ সাভার ক্যাম্প এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ৮ জুলাই রাত পৌঁনে নয়টার দিকে সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন কাতলাপুর হোমিও আরোগ্য ভবনের সামনে অভিযান চালিয়ে উল্লেখিত মামলার পলাতক প্রধান আসামিকে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়। গ্রেফতারকৃত সাইফুল ইসলাম (৩৫) ঠাকুরগাঁও জেলার বালিয়াডাঙ্গী থানার অন্তর্ভুক্ত মহিষমারী গ্রামের রফিকুল ইসলাম এর ছেলে। পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য গ্রেফতারকৃত আসামিকে সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।