০৬:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৪ অগাস্ট ২০২৬, ২০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মানেই সমাজের পরিবর্তন -সাংবাদিক মো: শাহজাহান বাশার

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৬:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
  • ৩০০১ বার পঠিত হয়েছে

নিউজ ডেস্ক
যেকোনো সমাজের টেকসই পরিবর্তনের সূচনা হয় মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে। আর সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটে মানুষের আচরণে। ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও শালীন আচরণ একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ই সমাজকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেছে।

ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল—’পড়ো’। এই নির্দেশ শুধু শিক্ষালাভের আহ্বান নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি আলোকিত সমাজ গড়ার আহ্বান।

মধ্যযুগে মুসলিম সভ্যতা বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাগদাদ, কর্ডোভা ও অন্যান্য শিক্ষাকেন্দ্র থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও দর্শনের মতো বিভিন্ন শাস্ত্রে যে অবদান এসেছে, তা আজও বিশ্বসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপমহাদেশের ইতিহাসেও দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারের ধারা বিদ্যমান ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন রয়েছে। একদিকে এটি আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়, অন্যদিকে অনেকের মতে, সেই ব্যবস্থা উপনিবেশিক প্রশাসনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেও গড়ে তোলা হয়েছিল। ইতিহাসের এই অধ্যায় নিয়ে এখনও গবেষণা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য যদি আধুনিক জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়, তবে তা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে তার শিক্ষার মান, গবেষণা, উদার চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের সক্ষমতার ওপর।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। মানুষ এখন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনও দেখতে চায়। নেতৃত্বের ভাষা, আচরণ এবং বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা—এসবই গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং অসহিষ্ণুতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্বেগের বিষয়। এমন প্রতিটি ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন।

একইভাবে, জনপরিসরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি আচরণ জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে। নেতৃত্বের মূল শক্তি ক্ষমতা নয়; বরং সংযম, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সক্ষমতা।

একজন প্রকৃত নেতা বিরোধী মতের মানুষ কিংবা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তির প্রতিও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেন। কারণ গণতান্ত্রিক সমাজে নেতৃত্বের পরিচয় প্রকাশ পায় সংকটময় মুহূর্তে তাঁর আচরণের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে এমন অনেক রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণ, শালীনতা এবং মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। এই ধরনের নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। ব্যক্তি নয়, মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে—দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া কোনো সংস্কারই স্থায়ী হতে পারে না। পরিবারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রাজনীতিতে, প্রশাসনে কিংবা সামাজিক জীবনে—সর্বত্র পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ক্ষমতার প্রদর্শনের পরিবর্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন; বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেবেন; সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপকে উৎসাহিত করবেন। কারণ একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো মানুষের চিন্তা, আচরণ ও নেতৃত্বের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন।

আজকের বাস্তবতায় তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সত্যিই বদলাতে প্রস্তুত? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেই পরিবর্তনের শুরু হোক আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কারণ ব্যক্তি বদলালে সমাজ বদলায়, আর সমাজ বদলালেই বদলে যায় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।

সতর্কতাঃ এই ওয়েবসাইটে নিজস্ব সংবাদের পাশাপাশি বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম থেকে সূত্র উল্লেখপূর্বক সংবাদ প্রকাশ করা হয়। প্রকাশিত কোনো সংবাদের বিষয়ে আপত্তি বা অভিযোগ থাকলে অনুগ্রহ করে সংশ্লিষ্ট মূল সংবাদমাধ্যমের কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করুন। এ ওয়েবসাইটে প্রকাশিত সংবাদ, আলোকচিত্র, অডিও, ভিডিও ও অন্যান্য কনটেন্ট কর্তৃপক্ষের লিখিত অনুমতি ছাড়া ব্যবহার, অনুলিপি, পুনঃপ্রকাশ বা প্রচার করা কপিরাইট আইন অনুযায়ী দণ্ডনীয় অপরাধ।

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

About Author Information

Popular Post

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মানেই সমাজের পরিবর্তন -সাংবাদিক মো: শাহজাহান বাশার

দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন মানেই সমাজের পরিবর্তন -সাংবাদিক মো: শাহজাহান বাশার

Update Time : ০৬:৪৩:২৩ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬

নিউজ ডেস্ক
যেকোনো সমাজের টেকসই পরিবর্তনের সূচনা হয় মানুষের চিন্তা ও দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তনের মাধ্যমে। আর সেই পরিবর্তনের প্রতিফলন ঘটে মানুষের আচরণে। ব্যক্তি, পরিবার, রাষ্ট্র কিংবা রাজনৈতিক নেতৃত্ব—সব ক্ষেত্রেই ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি ও শালীন আচরণ একটি সুস্থ সমাজ নির্মাণের মৌলিক ভিত্তি। ইতিহাস সাক্ষ্য দেয়, শিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের সমন্বয়ই সমাজকে অগ্রগতির পথে নিয়ে গেছে।

ইসলামে জ্ঞান অর্জনকে প্রত্যেক মুসলমানের জন্য অপরিহার্য কর্তব্য হিসেবে বিবেচনা করা হয়েছে। মহান আল্লাহর প্রথম নির্দেশ ছিল—’পড়ো’। এই নির্দেশ শুধু শিক্ষালাভের আহ্বান নয়; বরং জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার ভিত্তিতে একটি আলোকিত সমাজ গড়ার আহ্বান।

মধ্যযুগে মুসলিম সভ্যতা বিশ্বে জ্ঞান-বিজ্ঞানের অন্যতম কেন্দ্র হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। বাগদাদ, কর্ডোভা ও অন্যান্য শিক্ষাকেন্দ্র থেকে জ্যোতির্বিজ্ঞান, চিকিৎসাবিজ্ঞান, গণিত ও দর্শনের মতো বিভিন্ন শাস্ত্রে যে অবদান এসেছে, তা আজও বিশ্বসভ্যতার গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে বিবেচিত হয়।

উপমহাদেশের ইতিহাসেও দীর্ঘ সময় ধরে মুসলিম সমাজে শিক্ষা বিস্তারের ধারা বিদ্যমান ছিল। তবে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর শিক্ষা, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোতে বড় ধরনের পরিবর্তন আসে। ব্রিটিশ শাসনামলে প্রবর্তিত শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়ে ইতিহাসবিদদের মধ্যে বিভিন্ন ধরনের মূল্যায়ন রয়েছে। একদিকে এটি আধুনিক শিক্ষার প্রসার ঘটায়, অন্যদিকে অনেকের মতে, সেই ব্যবস্থা উপনিবেশিক প্রশাসনের চাহিদা পূরণের লক্ষ্যেও গড়ে তোলা হয়েছিল। ইতিহাসের এই অধ্যায় নিয়ে এখনও গবেষণা ও বিতর্ক অব্যাহত রয়েছে।

বাংলাদেশের বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থা নিয়েও দীর্ঘদিন ধরে আলোচনা চলছে। অনেকেই মনে করেন, আধুনিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক ও মূল্যবোধভিত্তিক শিক্ষার ওপর আরও গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। কারণ প্রযুক্তিগত দক্ষতার পাশাপাশি সততা, সহমর্মিতা, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতা ছাড়া একটি সুস্থ সমাজ গড়ে তোলা সম্ভব নয়।

সম্প্রতি দেশে আন্তর্জাতিক মানের একটি ইসলামিক শিক্ষা ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই ধরনের প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য যদি আধুনিক জ্ঞান ও নৈতিক শিক্ষার সমন্বয় ঘটানো হয়, তবে তা সমাজে ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। তবে যেকোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রকৃত সফলতা নির্ভর করবে তার শিক্ষার মান, গবেষণা, উদার চিন্তা এবং মানবিক মূল্যবোধ বিকাশের সক্ষমতার ওপর।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তন জনগণের মধ্যে নতুন প্রত্যাশার জন্ম দিয়েছে। মানুষ এখন শুধু রাজনৈতিক পরিবর্তন নয়, রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তনও দেখতে চায়। নেতৃত্বের ভাষা, আচরণ এবং বিরোধী মতের প্রতি সহনশীলতা—এসবই গণতান্ত্রিক সমাজের অপরিহার্য উপাদান।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ, সহিংসতা এবং অসহিষ্ণুতার যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা উদ্বেগের বিষয়। এমন প্রতিটি ঘটনা আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, কেবল ক্ষমতার পরিবর্তন যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন মানসিকতার পরিবর্তন। ভিন্নমতকে সম্মান করার সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠিত না হলে সমাজে স্থায়ী শান্তি ও স্থিতিশীলতা অর্জন কঠিন।

একইভাবে, জনপরিসরে দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের আচরণও জনগণের প্রত্যাশার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া উচিত। প্রশাসনিক বা রাজনৈতিক পদে থাকা ব্যক্তিদের প্রতিটি আচরণ জনগণের আস্থাকে প্রভাবিত করে। নেতৃত্বের মূল শক্তি ক্ষমতা নয়; বরং সংযম, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের প্রতি সম্মান প্রদর্শনের সক্ষমতা।

একজন প্রকৃত নেতা বিরোধী মতের মানুষ কিংবা অভিযোগের মুখোমুখি হওয়া ব্যক্তির প্রতিও আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল ও মানবিক আচরণ প্রদর্শন করেন। কারণ গণতান্ত্রিক সমাজে নেতৃত্বের পরিচয় প্রকাশ পায় সংকটময় মুহূর্তে তাঁর আচরণের মাধ্যমে।

বাংলাদেশে এমন অনেক রাজনৈতিক নেতা রয়েছেন, যাঁরা তাঁদের ব্যক্তিগত আচরণ, শালীনতা এবং মানুষের সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্কের জন্য সাধারণ মানুষের কাছে ইতিবাচক ভাবমূর্তি গড়ে তুলেছেন। এই ধরনের নেতৃত্বই ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য অনুসরণীয় হতে পারে। ব্যক্তি নয়, মূল্যবোধভিত্তিক নেতৃত্বই আজকের সময়ের সবচেয়ে বড় প্রয়োজন।

সমাজের প্রতিটি স্তরে আমাদের উপলব্ধি করতে হবে—দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন ছাড়া কোনো সংস্কারই স্থায়ী হতে পারে না। পরিবারে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে, রাজনীতিতে, প্রশাসনে কিংবা সামাজিক জীবনে—সর্বত্র পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ, সহনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।

বাংলাদেশের মানুষ এমন নেতৃত্ব চায়, যারা ক্ষমতার প্রদর্শনের পরিবর্তে দায়িত্বশীলতার পরিচয় দেবেন; বিভাজনের পরিবর্তে ঐক্যের বার্তা দেবেন; সংঘাতের পরিবর্তে সংলাপকে উৎসাহিত করবেন। কারণ একটি উন্নত, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র গঠনের পূর্বশর্ত হলো মানুষের চিন্তা, আচরণ ও নেতৃত্বের সংস্কৃতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন।

আজকের বাস্তবতায় তাই সবচেয়ে বড় প্রশ্ন একটাই—আমরা কি সত্যিই বদলাতে প্রস্তুত? যদি উত্তর ‘হ্যাঁ’ হয়, তবে সেই পরিবর্তনের শুরু হোক আমাদের নিজেদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে। কারণ ব্যক্তি বদলালে সমাজ বদলায়, আর সমাজ বদলালেই বদলে যায় রাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ।